অ্যাপেনডিসাইটিস কী ?

0
11
views

অ্যাপেনডিক্স কথার অর্থ হল উদ্বৃত্ত অংশ। পরিপাকতন্ত্রের একটি ছোট বাড়তি অংশ আছে, যাকে বলা হয় অ্যাপেনডিক্স। পেটের ডানপাশের নিচের অংশে এটির অবস্থান। অ্যাপেনডিক্স শরীরের কোনো উল্লেখযোগ্য উপকার করে না। কিন্তু এটি নানা রকম জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। কোনো কারণে অ্যাপেনডিক্সে প্রদাহ বা ব্যথা হলে তাকে বলা হয় অ্যাপেনডিসাইটিস।

যদি কোন কারনে এপেন্ডিক্সে পচা খাদ্যদ্রব্য ঢুকে যায় এবং ইনফেকশন হতে থাকে তবে এটি ফুলে যায়, তখন একে এপেন্ডিসাইটিস বলে। আর এপেন্ডিক্সের ব্যথা সব সময় নাভির চারপাশে এবং তলপেটের ডান পাশে দেখা দেয় কারন কারন এপেন্ডিক্স ডান পাশে অবস্থিত।আমাদের শরীরের কোন প্রইয়োজনে এপেন্ডিক্সের দরকার হয় না কিন্তু এপেন্ডিসাইটিস হলে দ্রুত চিকিতসার প্রয়োজন আছে, কারন ৪৮-৭২ ঘন্টার বেশি সময় হলে এপেন্ডিক্স ব্রাস্ট হয়ে যায়।

কি কি উপসর্গ দেখা যায়ঃ
১) নাভির চারপাশে ব্যথা হয়,বিশেষ করে তলপেটের ডান পাশে ব্যথা হয়।
২) বমি হতে পারে।
৩) জর হতে পারে।
৪) ডায়রিয়া হতে পারে।
৫) অনেকের কোষ্ঠনাঠিন্য হতে পারে।
৬) ক্ষুধামন্দা হয়।
৭) শিশু এবং গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে ব্যথা পেটের বিভিন্ন জায়গায় হতে পারে। হাচি কাশি দিলে ব্যথা ঊঠতে পারে,ঝাকুনি খেলে ব্যথা হতে পারে।
৮) অনেকের গ্যাসের সমস্যা হতে পারে।

কি কি জটিলতা দেখা দিতে পারেঃ
১) গ্যাঙ্গগ্রিন
২) পেরিটোনাইটিস
৩) এপেন্ডিকুলার লাম্প
৪) মৃত্যু

করণীয়ঃ
এপেন্ডিক্স আমাদের শরীরের জন্য জরুরি না তাই এটি অপারেশন করে আপনি কেটে ফেলতে পারেন। ব্যথা বুঝার সাথা সাথে সার্জনের কাছে যাবেন।
দুই ধরনের অপারেশন আছেঃ
১) পেট কেটে অপারেশন
২) ল্যাপারোস্কোপ দিয়ে অপারেশন

দুইটার মাঝে একটাই পার্থক্য তা হল,পেট কাটলে দাগ থাকবে কিন্তু ল্যাপারোস্কোপ এর মাধ্যমে করলে দাগ থাকবেনা।

কারণ:

অ্যাপেনডিসাইটিস হওয়ার কোনো যথার্থ কারণ খুঁজে পাওয়া যায়না।

পেটে নানা কারণে ব্যথা হতে পারে। কোনটি গ্যাস্ট্রিক আর কোনটি অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা তা বুঝতে হবে আমাদের। ব্যথা বেশি মনে হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 

অ্যাপেনডিক্স কোনো কারণে সংক্রমণ হলে তলপেট ফুলে ওঠে, সঙ্গে প্রচণ্ড ব্যথা হয় ও ব্যথা বাড়তে থাকে। অ্যাপেনডিক্স তলপেটের ডান দিকে থাকে। তাই এই ব্যথা সাধারণত, নাভির কাছ থেকে শুরু হয়ে তলপেটের ডান দিকে ছড়াতে থাকে।

সংক্রমণ শুরুর দিকে অল্প ব্যথা থাকলেও সঙ্গে বমি হয়। সারা ক্ষণই বমিভাব থাকে। জিভে কোনো স্বাদই ভাল লাগে না, তাই খাদ্যে অরুচি দেখা দেয়।

কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের শুরুতে ডায়রিয়া দেখা যায়। আবার কারো ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যও হতে পারে।

তলপেটের ডান দিকে ব্যথার সঙ্গে হালকা জ্বর হওয়াও এই রোগের অন্যতম লক্ষণ।