আজ ১৭ এপ্রিল, বিশ্ব হিমোফিলিয়া দিবস।সারা পৃথিবীতে প্রতি ১০ হাজার জনে একজন হিমোফিলিয়াসহ অন্যান্য রক্তক্ষরণজনিত রোগে ভুগছে। শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন রোগীর সংখ্যা আরো বেশি। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব হিমোফিলিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি লাখে ২০ জন মানুষ হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত।

হিমোফিলিয়া রক্তক্ষরণজনিত একটি রোগ যা কিনা মেয়েরা বহন করে আর ছেলেরা হয় এর ভুক্তভোগী। আমাদের শরীরের কোন জায়গা কেটে গেলে তা কিছুক্ষণের মাঝেই রক্ত জমাট বেধে ঠিক হয়ে যায় কিন্তু হিমোফিলিয়ার রোগিদের ক্ষেত্রে ঘটে উল্টো ঘটনা, এদের কোন জায়গা কেটে গেলে তা সহজে জমাট বাধতে চায় না। এটি একটি বংশগত রোগ।

কেন হয় হিমোফিলিয়াঃ
১) বংশে কারো থাকলে হতে পারে
২) রক্ত জমাট বাধার জন্য যে কয়টি উপাদান দরকার তার মধ্যে দুইটি উপাদান  ফ্যাক্টর ৮ এবং ফ্যাক্টর ৯ এর অভাব যদি কারো থাকে তাহলে হবে
৩) ফ্যাক্টর ৮ এর অভাব কারো থাকলে তার হিমোফিলিয়া এ হবে
৪) ফ্যাক্টর ৯ এর অভাব কারো থাকলে তার হিমোফিলিয়া বি হবে

কিভাবে বুঝবেন হিমোফিলিয়া হয়েছেঃ
১) যাদের এই রোগ আছে তাদের শরীরের কোন স্থান কেটে গেলে সহজে রক্ত জমাট বাঁধে না
২) সামান্য আঘাত পেলেই এদের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়
৩) বিশেষ করে জয়েন্টে রক্তজমাট বাধে এইসব রোগিদের
৪) মুখ এবং নাক থেকে রক্তপাত হয়
৫) মাংশপেশিতে রক্তপাত
৬) ক্রোনিক আর্থ্রাইটিস
৭) মস্তিষ্কে ও রক্তপাত হতে পারে

কি কি জটিলতা হতে পারেঃ
১) ব্যথা দেখা দেয় অনেক
২) রক্তশূণ্যতা
৩) ক্রোনিক হিমোফিলিক আর্থ্রাইটিস
৪) কনস্টিটিউশনাল ডিস্টার্বেন্স

কিভাবে আপনি শিউর হতে পারবেন যে আপনার হিমোফিলিয়া হয়েছেঃ
১) আপনার যদি হিমোফিলিয়া এ হয়ে থাকে তবে ফ্যাক্টর ৮ এসে(Factor VIII assay) এর মাধ্যমে শিউর হতে পারবেন।
২) আপনার যদি হিমোফিলিয়া বি হয়ে থাকে তবে ফ্যাক্টর ৯ এসে (Factor IX assay) এর মাধ্যমে শিউর হতে পারবেন।

চিকিৎসাঃ
এ রোগের সাধারণত কোন চিকিৎসা নেই তবে যেই ফ্যাক্টরের অভাবে এটি হয় সেই ফ্যাক্টর ইনজেকশনের মাধ্যমে দিলে রোগি কিছুটা ভাল থাকে, এবং এজন্য অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।