উত্তরা আধুনিক মেডিকেলে ভর্তিতে অনিয়মের

0
134
views

রাজধানীর উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তিতে অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। ১লা জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। 

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (চিকিৎসা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. আবদুর রশীদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের কমিটি তদন্ত পরিচালনা করেন। তারা কলেজ পরিদর্শন করে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র দেখে ভর্তি নীতিমালা অনুসরণ না করে তড়িঘড়ি করে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বেশ কিছু প্রমাণ পান।

উল্লেখ্য, এই কলেজে মোট আসন ৯০টি। এর মধ্যে বিভিন্ন কোটায় ১৮টি। আর সাধারণ কোটায় ৭২টি আসন। এ ৭২টি আসনে ভর্তির জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ জাতীয় মেধাতালিকার ক্রমানুসারে ক্রমিক নম্বর ৪০০১ থেকে ৭১৭৮ পর্যন্ত সিরিয়াল বেঁধে দেয়। ১১ ডিসেম্বর ভর্তি শুরুর প্রথম দিনে ১৫টি আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।

 

৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ভর্তির সময়সীমা থাকলেও ভর্তি কমিটি (গত ১৪ ডিসেম্বর) কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি কিংবা বিজ্ঞাপন না দিয়ে তড়িঘড়ি করে ‘আগে এলে আগে ভর্তির সুযোগ পাবেন’ ঘোষণা দিয়ে জাতীয় মেধাতালিকায় সিরিয়ালে অনেক পেছনে থাকা শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে। ১৯ হাজার সিরিয়ালে থাকা শিক্ষার্থীকেও ভর্তির নজীরবিহীন অনিয়ম করে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেয়া ভর্তি ফি ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা হলেও প্রায় দ্বিগুণ টাকা নিয়ে অবৈধভাবে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়।

কিন্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোনো নীতিতে বা বিজ্ঞপ্তিতে ‘আগে আসলে আগে ভর্তি’র কোনো বিধান নেই। গণমাধ্যমে অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর ২০ ডিসেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করে মন্ত্রণালয়।

তদন্ত কমিটির একাধিক সদস্য বলেছেন, ভর্তির শেষ তারিখ ৭ জানুয়ারি। কলেজ কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে ভর্তি-প্রক্রিয়া শেষ করায় মেধাতালিকার সামনে থাকা একাধিক শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাননি।

উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ৭ জানুয়ারি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির শেষ তারিখ। ১০ জানুয়ারি থেকে ক্লাস শুরু। মন্ত্রণালয় যদি ৭ জানুয়ারির পর কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সেই সিদ্ধান্ত কোনো কাজে আসবে না।

এবিষয়ে তদন্ত কমিটির বক্তব্য, এ ধরনের অনিয়মের ক্ষেত্রে তিরস্কার, সতর্ক, আর্থিক জরিমানা ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ করে রাখার বিধান রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে তা সিদ্ধান্ত নেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।