কাপড়ের রঙ দিয়ে তৈরি হচ্ছে জুস ওষুধ প্রতিষ্ঠান মালিককে জেল জরিমানা

0
317
views

কাপড়ে ব্যবহƒত রঙ, ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ও অপরিশোধিত পানি ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে জুস। বিএসটিআইর লাইসেন্স ছাড়া এসব ভেজাল জুস রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাজারজাত করা হচ্ছে।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় এমনই একটি ভেজাল জুস তৈরির ফ্যাক্টরি তৃপ্তি ফুড প্রোডাক্টসে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল দুপুরে এপিবিএন-৫, ঢাকা জেলা প্রশাসন এবং বিএসটিআইর যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান পরিচালিত হয়।


apbnঅভিযানকালে কারখানায় তৈরিকৃত বিপুল নকল জুস জব্দ করে জনসম্মুখে ধ্বংস করা হয়। ঢাকা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা করিম বলেন, নকল জুস স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব নকল জুস পানে নানাবিধ রোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ দিকে বিএসটিআইর ছাড়পত্র ছাড়া পণ্যসামগ্রী বিপণনের অভিযোগে মিরপুরে আমির কনফেকশনারি অ্যান্ড জেনারেল স্টোর নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এপিবিএন-৫ এর মিডিয়া শাখা জানায়, বিএসটিআইর ছাড়পত্র থাকলেও অনেক আগেই প্রতিষ্ঠানটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। এরপরও বিভিন্ন প্রকার পণ্যসামগ্রী বিপণন করে আসছে। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানের মালিক আমিরুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অপর দিকে পুরান ঢাকার বাবুবাজার এলাকায় বিভিন্ন ওষুধের দোকানে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
র‌্যাব-১ জানায়, গতকাল বাবুবাজার এলাকায় হাজী রানী মেডিসিন মার্কেটে একটি অভিযান পরিচালনা করে বিপুল দেশী-বিদেশী অনুমোদনবিহীন ওষুধ জব্দ করে।
একই ভ্রাম্যমাণ আদালত অনুমোদনবিহীন বিভিন্ন প্রকার নকল দেশী-বিদেশী ওষুধ ও জন্মনিরোধক বিক্রির অপরাধে গুড হেলথ মেডিসিন কেয়ারকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করে। জব্দকৃত ওষুধের অনুমানিক মূল্য ৩০ লাখ টাকা। এ সময় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের কর্মকর্তা এ টি এম গোলাম কিবরিয়া খান উপস্থিত ছিলেন।
পচা-বাসি খাবার :
র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম জানান, খিলগাঁওয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, বাসি ও পচা খাবার বিক্রয়ের অপরাধে পাঁচটি রেস্টুরেন্টকে তিন লাখ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চায়না পার্ক রেস্টুরেন্টে অত্যন্ত নোংরা ও ময়লাযুক্ত ফ্রিজে গোশত সংরণ করা হয়েছে যার বেশ কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। অন্য একটি ফ্রিজে কয়েক দিনের পুরনো অবিক্রীত চিকেন ফ্রাই রাখা হয়েছে। রান্না করার স্থানটি অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। এ ছাড়া রান্না করা চাইনিজ রাইসে পড়ে রয়েছে তেলাপোকা ও পোকামাকড়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ক্যাফে বৈশাখী রেস্তোরাঁতে কয়েক দিন আগের বাসি কাবাব, জিলাপি ও চপ ইফতারিতে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে। বাসি ময়দার মিশ্রণ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে জিলাপি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চাইনিজ অল রেস্তোরাঁর মেঝেতে নোংরা ও ময়লাযুক্ত কাপড়ে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে সদ্য রান্না করা চাইনিজ রাইস। বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে সংরণ করা হয়েছে কয়েক দিন উচ্ছিষ্ট চিকেন ফ্রাই। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অপরাধে গোল্ডেন গেইটকে ৪০ হাজার টাকা এবং আল মুসলিম রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।