ক্ষতের প্রকারভেদ

0
51
views

ত্বক, টিস্যু ও চামড়া কেটে বা ছিঁড়ে গেলে একটি অস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয় তাই ক্ষত নামে পরিচিত। কাটা-ছেঁড়া, আঘাত, দূর্ঘটনা সহ বিভিন্ন কারণে ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে। যথাযথ চিকিৎসা না করানো হলে তা থেকে ইনফেকশনও হতে পারে।

ক্ষত, ক্ষতের প্রকারভেদ ও প্রতিকার– শরীরের কোন তন্তু ছিন্ন অথবা দুই বা ততোধিক অংশে বিভক্ত হলে বা তন্তু ছিদ্র হলে তাকে ক্ষত বলে। সাধারণভাবে ত্বক কেটে রক্তপাত হলে তাকেও ক্ষত বলে। ক্ষত পাঁচ প্রকার-

১. পিষ্ট ক্ষত (Confused wound)

২. ছিন্ন ভিন্ন ক্ষত (Lacerated wound)

৩. কর্তনজনিত ক্ষত (Incised wound)

৪. বিদ্ধ ক্ষত (Punctured wound)

৫. মিশ্রজাতীয় ক্ষত (Mixed wound)

১. পিষ্ট ক্ষত : মানুষের দেহে সূক্ষ্মভাবে গ্রথিত কোষসমূহে ভারী বস্তুর আঘাতের ফলে চামাড়র কোন ক্ষতি না হয়ে অন্তঃস্থ ক্যাপিলারি ক্ষতিগ্রস্ত হয় রক্তপাত হয়। কিন্তু সেই রক্ত বাইরে বোরোতে না পেরে ভিতরে জমে থাকে তাকে পিষ্ট ক্ষত বলে । এই ধরনের ক্ষতে দৃশ্যমান রক্তপাত হয় না।

২. ছিন্নভিন্ন ক্ষত : জন্তু জানোয়ারের আক্রমনে , থেঁতলালে ও গোলাগুলি আঘাতে যে ক্ষত হয় তাকে ছিন্নভিন্ন ক্ষত বলে। ক্ষতগুলো অসমান বা বিক্ষিপ্তভাবে থাকে।

৩. কর্তনজনিত ক্ষত : কোন ধারালো অস্ত্র যেমন- ব্রেড, ক্ষুর, ছুরি বঁটি, ভাঙ্গা দ্বারা কেটে যে ক্ষত হয় তাকে কর্তনজনিত ক্ষত বলে। এই ধরনের ক্ষতে ত্বক ও রক্তনালি মসৃণভাবে কেটে যায় এবং অবিরামভাবে রক্তপাত হয় সহজে কন্ধ করা যায় না।

৪. বিদ্ধক্ষত : ক্ষতটা গভীর হয়। সে তুলনায় মুখের পরিসর বড় হয় না এ ক্ষতকে বিদ্ধ ক্ষত বলে। যেমন সুচ, পেরেক, ছুরি, তার ও তারকাটা ইত্যাদি দ্বারা এ ক্ষত হয়। রক্তপাত প্রচুর হতে পারে নাও পারে।

৫. মিশ্রক্ষত : উপরে বর্ণিত একধিক ক্ষত একত্র মিলে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয় তাকে মিশ্র ক্ষত বলে। যেমন- গুলির ক্ষত, ক্ষতের মুখের পরিস্বর ছোট এবং অভ্যন্তরে কতটা গভীর তা দেখে বোঝা যায় না । অপর দিকে যেখানে দিয়ে গুলি বের হয়েছে সে স্থান বড় ও আকারে অসমানভাবে ক্ষত থাকে। এই ক্ষতটি বিদ্ধক্ষত অপর দিকে ছিন্নভিন্ন ক্ষত। দুইটি মিলিত হয়ে মিশ্রিত জাতীয় ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে।

সন্ধিস্থলে ক্ষত সৃষ্টি হলে কি করবেন

কোন ধরনের আঘাত বা চাপের কারণে কনুইয়ের সামনের দিকে এবং হাঁটুর পিছনের দিকের ভাঁজের ধমনি ও শিরা ছিঁড়ে যেতে পারে।

প্রাথমিক চিকিৎসার ধাপসমূহ

  • প্রথমে ব্যক্তিকে শুয়ে দিতে হবে।
  • তার হাত বা পা উপরের দিকে তুলে ধরে রাখতে হবে।
  • পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ১০ মিনিট ক্ষতস্থানে চেপে ধরে রাখতে হবে।
  • রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে ব্যান্ডেজ করে দিতে হবে।
  • ১০ মিনিট পর পর রক্ত চলাচল পরীক্ষা করতে হবে।
  • রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হলে ব্যান্ডেজ ঢিলে করে বাঁধতে হবে।

 

ক্ষতের প্রাথমিক প্রতিবাধান-

১. রোগীকে শুইয়ে দিতে হবে যেন রোগী সহজ ও নিষ্ফলভাবে শুয়ে থাকতে পারে।

২. ক্ষত স্থানকে হার্ট লেভেল বা হৃৎপিন্ডের সমতার উপরে রাখতে হবে যাতে ক্ষত স্থান থেকে রক্ত চলাচল কমে রক্ত পড়া থেমে যায়।

৩. আহত হওয়ার সাথে সাথে আহত স্থানে বরফ লাগাতে হবে।

৪. রোগী যথাসম্ভব কম নাড়চড়া করবে।

৫. ক্ষতস্থান এন্টিসেপ্টিক পদার্থ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

৬. রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ চাপ দিতে হবে।

৭. ক্ষতস্থানে কিছু শক্তভাবে ঢুকলে তা তুলে ফেলতে হবে।

৮. ক্ষতস্থানে রক্ত জমাট বাঁধলে  উক্ত জমাট সরাতে চেষ্টা করবে না।

৯. শক পেলে প্রথমে তার চিকিৎসা করতে হবে।

১০. ক্ষতস্থানে জীবাণুমুক্ত প্যাড ব্যবহার করতে হবে।

১১.  আহত অঙ্গকে ব্যান্ডেজ বেঁধে স্থির রাখতে হবে।

১২. কোন উত্তেজক দ্রব্য বা পানীয় পান করতে দেওয়া যাবে না।

১৩. দ্রুত রোগীকে ডাক্তারের কাছে বা হাসপাতালে পাঠাতে হবে।

একজন রোগীর ক্ষত চিকিৎসা করতে গেলে প্রতিবিধান করার কিছু জ্ঞান থাকা দরকার।

ক. কীভাবে কেটেছে, তা কোন পর্যায়ে পড়ে, কর্তনজনিত ক্ষত/ছিন্নভিন্ন ক্ষত, পিষ্টক্ষত না বিদ্ধক্ষত ইত্যাদি বিষয় নিশ্চিত হতে হবে।

খ. প্রথমে করণীয় ঠিক করে নেওয়া। রক্তক্ষরণ হলে প্রথমে তা বন্ধ করার ব্যবস্থা করা। তারপর ইনফেকশন যাতে না হয় তার ব্যবস্থা করা। শক লাগলে তার প্রতিবিধান করা।

গ. পরিষ্কারভাবে যথারীতি ড্রেসিংয়ের ব্যবস্থা করা, রক্তক্ষরণ থাকলে তা বন্ধ করা। সেপটিক যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা। Toxoid Injection নিতে বলা ইত্যাদি।

ঘ. শক লাগলে প্রথমে শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া চালু করা।

ঙ. রোগীর অবস্থা বুঝে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা।