খেলার মাঠে প্রতিটি খেলাতেই ফিজিও এবং ডাক্তার সারাক্ষণই উপস্থিত থাকা জরুরি !!

0
196
views

খেলার মাঠে প্রতিটি খেলাতেই ফিজিও এবং ডাক্তার সারাক্ষণই উপস্থিত থাকা জরুরি !!

ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে যেমন রয়েছে অনেক আনন্দ-উচ্ছ্বাসের ঘটনা, তেমনি আছে অনেক অনেক বেদনাময় স্মৃতি। এ সবকিছুই দুর্ঘটনা কিন্তু পরিণতি ভয়াবহ। বিশেষ করে তা যদি হয় হেড ইনজুরি বা মস্তিষ্কে আঘাত প্রাপ্তের ঘটনা। শুধু খেলাধুলাই নয়, রাস্তাঘাটে দুর্ঘটনা, হঠাৎ পড়ে যাওয়া এসব কিছুর পরিণতিতেও একজন শিশু থেকে পূর্ণবয়স্ক লোক মস্তিষ্কে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে পারেন। তাই এ ধরনের হেড ইনজুরি বা মস্তিষ্কের আঘাত সম্পর্কে আমাদের পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার।

হেড ইনজুরি শনাক্তকরণ

হার্টের অসুখ (যেমন ইসকেমিয়া- হার্টের অক্সিজেনের ঘাটতি), ডায়াবেটিস, স্নায়ু রোগ এবং কিছু কিছু মদ্যপায়ীর বেলায় হেড ইনজুরি হয়েছে কি-না, তা প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকদের পক্ষে নিরূপণ করা বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। কেননা সেসব রোগীর ক্ষেত্রে আগেও অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ইতিহাস থাকে। সুতরাং হেড ইনজুরির কারণে রোগী অচেতন হয়েছেন, না কি পূর্বাপর রোগের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, তা নির্ণয় করা খুবই জরুরি।

মাথা ফেটেছে কি-না, তা নিরূপণ করবে এক্সরে। এছাড়া মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, ইডিমা কিংবা ব্রেন টিস্যুর ক্ষতি হয়েছে কি-না, তা নিরূপণ করবে সিটিস্ক্যান বা এমআরআই পরীক্ষা। এরপর শল্যবিদরা এগুবেন তাদের বিবেচনা অনুযায়ী সঠিক পথ ধরে। এছাড়া বিদেশে সেরিব্রাল এনজিওগ্রাফি অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যদিও এগুলোর ব্যবহার সীমিত।

হেড ইনজুরির পরবর্তী সমস্যাগুলো

# হেড ইনজুরির প্রাথমিক ধাক্কায় রোগীর মস্তিষ্কের ভেতরকার চাপ বৃদ্ধির ফলে বমি বমি ভাব,
# চোখের তারা বড় হয়ে যাওয়া,
# প্রচুর ঘাম হওয়া,
# রক্তচাপ কমে যাওয়া ইত্যাদি ।

তবে যদি সঠিক সময়ে আয়ত্তাধীন সমস্যাগুলো নিরূপণ তথা চিকিৎসা করা যায়, তাহলে রোগী ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

হেড ইনজুরির রোগীর জন্য টিপস

১. রোগীকে তাৎক্ষণাৎ হাসপাতালে স্থানান্তর করতে হবে।

২. রোগী অচেতন থাকলে বা বমি হলে মুখে খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

৩. স্নায়ু রোগ বিভাগ রয়েছে এমন হাসপাতাল বা ক্লিনিকে রোগীকে স্থানান্তর করতে হবে। এক্সরে, সিটিস্ক্যান, এমআরআই ইত্যাদির ব্যবস্থা সংবলিত হাসপাতালে রোগীকে ভর্তি করানোর চেষ্টা করতে হবে।

৪. আইসিইউ বা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট আছে এমন চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে।

৬. তাৎক্ষণিকভাবে বার হোল অপারেশন বা অন্যান্য সুক্ষ্মতর শল্যচিকিৎসা প্রদানে সক্ষম এমন ধরনের হাসপাতালে রোগীকে নিতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার ফিলিপ হিউজের মৃত্যু নাড়া দিয়েছে পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে। ক্রিকেট বিশ্বে এধরণের দুর্ঘটনা নিয়মিত না হলেও একেবারে বিরল নয়। ১৯৯৮ সালে ঢাকার মাঠে এমনি এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটার রমন লাম্বা।

ঢাকার মাঠে রমন লাম্বা বা সর্বশেষ হিউজের মৃত্যুটি যেমন একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা, তেমনি একটি সতর্কবার্তাও।
তাই খেলার মাঠে প্রতিটি খেলাতেই ফিজিও এবং ডাক্তার সারাক্ষণই উপস্থিত থাকা প্রয়োজন । জয় হোক নিরাপদ ক্রিকেটের।

(ভালো থাকুন এর ডেস্ক থেকে)