গ্রীন রোডের ধানমন্ডি ক্লিনিকের টয়লেট লাশ উদ্ধার

0
205
views
রাজধানীর গ্রীন রোডের ধানমন্ডি ক্লিনিকের টয়লেট থেকে কামরুন নাহার অনিমা (৩০) নামের এক সেবিকার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে ক্লিনিকের ৩য় তলা থেকে অচেতন অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এটা আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু তা তদন্তের আগে মন্তব্য করতে রাজি নয় কলাবাগান থানা পুলিশ। তবে পরিবারের অভিযোগ, আনিমার মুখে ও হাতে কামড়ের দাগ ছিল। এক হাতে ইনজেকশনের সিরিঞ্জ লাগানো ছিল। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

মৃতের চাচা সরোয়ার আলম জানান, আনিমা তার স্বামী রবিনের সঙ্গে মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকত। গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কালিগঞ্জ। এক মাস আগে সে ওই ক্লিনিকে যোগদান করে। গত রবিবার নাইট ডিউটি থাকায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ক্লিনিকে যায়। সাড়ে ৭টার দিকে তার স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ফোনে কথাও বলে। ক্লিনিকের অন্যান্য নার্সদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, আনিমা ভোর  সাড়ে ৪টার দিকে টয়লেটে যায়। কিন্তু ঘন্টা দুয়েক হয়ে গেলেও বের না হওয়ায় নার্সরা বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানায়। তারা টয়লেটের দরজা ভেঙ্গে অচেতন অবস্থার অনিমাকে উদ্ধার করে।
সরোয়ার বলেন, খবর পেয়ে আমরা ক্লিনিকে ছুটে যাই। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে কথা তো দূরের কথা দেখাও করেনি। নার্সরাও তাদের নাম পরিচয় বলতে রাজি হয়নি। পরিবারিকভাবে আনিমার কোন ঝামেলা ছিল না। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ। এ ঘটনায় তারা ওসির পরামর্শ অনুযায়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
কলাবাগান থানা ওসি ইয়াসির আরাফাত বলেন, ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলছেন, এটা আত্মহত্যা। কিন্তু ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ক্লিনিকের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আনিমা টয়লেটে যাচ্ছেন। এর বেশি কিছু নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পৃথক ঘটনায় ৩ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু
এদিকে পৃথক ঘটনায় রাজধানীতে তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- সাগর হোসেন বিল্লাল (১৩), হারুন অর রশিদ রনি (৩৮) ও সাদ্দাম হোসেন (২৫)।
মৃত বিল্লালের বড় ভাই রাসেল জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার বাশবাড়ি এলাকায়। যাত্রাবাড়ীর শেখ পাড়ায় থাকতেন। তার বাবার নাম শাহাজালাল মিয়া। ছোট ভাই বিল্লাল আগে হেলপারের কাজ করত। হঠৎ সে মাদকাসক্ত হয়ে পরে। তাকে রুমে আটকে রাখা হত। সোমবার সকালেও রুমের দরজা বন্ধ করে তাকে ভিতরে আটকে রাখা হয়। দুপুর ১২টার দিকে কক্ষের দরজা খুলে বিল্লালকে ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না প্যাঁচনো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই জাকির হোসেন জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিএমএইচ এর সামনে ট্রাস্ট পরিবহনের একটি বাসে উঠতে গিয়ে হারুন-অর-রশিদ রনি নীচে পড়ে যান। সঙ্গে সঙ্গে বাসটি তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। মৃতের ভাই শাহাদাত হোসেন জানান, রনি খামার বাড়ি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট কনভেনশন সেন্টারের ফ্লোর ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাসা থেকে অফিসে যাওয়ার পথিমধ্যে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তাদের বাড়ি গাজিপুর কোনাবাড়ি পারিজাত এলাকায়। রাজধানীর ১৬১নং ভাষানটেক এলাকায় থাকতেন।
রামপুরা থানার এসআই নজরুল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পূর্ব রামপুরায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের ৪ তলায় ওয়েলডিং মেশিন দিয়ে কাজ জরার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন সাদ্দাম হোসেন। মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। সাদ্দাম ফেনীর দাগনভূঁইয়া উপজেলার জগৎপুর গ্রামের ওবায়েদ আলীর ছেলে।