চার চিকিৎসক এবার বরখাস্ত নড়াইলের ওএসডিকৃত

0
44
views

নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মুর্তজা সদর হাসপাতাল পরিদর্শনকালে হাসপাতালে অনুপস্থিতির ঘটনায় ৪ চিকিৎসককে ওএসডি করার ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের (শৃংখলা অধিশাখা) সচিব মো: আসাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ দেয়া হয়।

বরখাস্তকৃতরা হলেন- কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. শওকত আলী, কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. রবিউল আলম, সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. আখতার হোসেন ও মেডিকেল অফিসার ডা. এএসএম সায়েম।

চার চিকিৎসককে দেয়া আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেহেতু আপনি প্রায়শঃই কর্মস্থলে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকেন মর্মে অভিযোগ উপস্থাপিত হয়েছে; যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ২ (খ) মোতাবেক অসাদাচরণের সামিল এবং যেহেতু আপনাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে রাখা হলে অফিস শৃঙ্খলা ভঙ্গ হতে পারে ও অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে মর্মে প্রতীয়মান হচ্ছে; এক্ষণে, সেহেতু আপনাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ১২ (১) মোতাবেক সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা ও প্রচলিত নিয়ম মোতাবেক আপনি সাময়িক বরখাস্ত হলেও বরখাস্তকালীন খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন।

এর আগে গতকাল (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের দেয়া এক প্রজ্ঞাপনে এই চার চিকিৎসককে ওএসডি করা হয়। তাদের ওএসডি এবং শোকজ করে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে শোকজের জবাব দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ৪৮ ঘন্টা না পেরুতেই এবং তাদের থেকে কোন জবাব আসার আগেই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে আকস্মিকভাবে সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে যান সাংসদ মাশরাফি বিন মুর্তজা। এ সময় হাজিরা খাতায় ৩ চিকিৎসকের স্বাক্ষর না দেখে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুর এবং পরে অনুপস্থিত সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আকরাম হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন মাশরাফি। পরে তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগীদের সাথে দেখা করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা করেন মাশরাফি। সভায় তিনি বেশ কিছু বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। এর মধ্যে আছে- যেসব চিকিৎসক হাসপাতালে সময়মতো আসেন না ও অনুপস্থিত থাকেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, হাসপাতালে প্যাথলজিক্যাল সুবিধার সবটুকু যেন রোগীরা পায় তা নিশ্চিত করা, সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত চিকিৎসকদের হাসপাতালে অবস্থান করা, হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্স বাদে প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের ভেতরে না থাকা, দালাল চক্রের হাসপাতালে প্রবেশ ঠেকানো, সব রোগীর সরকারি ওষুধ প্রাপ্তির ব্যাপারে জবাবদিহি ইত্যাদি।