ডেঙ্গুর প্রকোপ-আতঙ্ক

0
1
views

গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড সংখ্যক ১০ হাজার ১৪৮ নারী, পুরুষ ও শিশু এ জ্বরে আক্রান্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয় ২৯ জনের।

অন্যান্য বছরের তুলনায় গত বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার প্রচলিত ধরনও ছিল ভিন্ন। ফলে আক্রান্তদের অনেকেই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আ্ইসিইউ) থাকা অবস্থাতেও মারা যান। ফলে অন্যান্য বছরের চেয়ে ডেঙ্গু রোগের আাতঙ্ক বেশি ছিল। তবে নতুন বছরের প্রথম মাসে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকপ ও আতঙ্ক দুই-ই কমেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন ফ্যাকাল্টির সাবেক ডিন ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ শনিবার (ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাগো নিউজকে বলেন, গত বছর ডেঙ্গু নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছিল। কিন্তু বর্তমানে ডেঙ্গু আতঙ্ক কেটে গেছে। এখন হাতে গোনা কিছু সংখ্যক রোগী আক্রান্ত হলেও সহজেই সেবা দেয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, শীতকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে যায়। তবে বৃষ্টি শুরু হলে আবার প্রকোপ বাড়তে পারে। ডেঙ্গুতে আক্রান্তের ধরন পাল্টে যাওয়ায় আগামী মৌসুম পর্যন্ত সাবধান থাকার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারিতে ডেঙ্গুতে মাত্র ২৯ জনের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আক্রান্তরা বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

সূত্র জানায়, গত দেড় যুগের মধ্যে ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক ১০ হাজার ১৪৮ জন নারী, পুরুষ ও শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। এর আগে ২০০৩ সালে সর্বোচ্চ ছয় হাজার ২৩২ জন আক্রান্ত হয়েছিল।

যে কারণে গতবছর জনমনে ছিল ডেঙ্গু আতঙ্ক

বিশেষজ্ঞরা জানান, আগে ডেঙ্গু হলে প্রথমে উচ্চমাত্রার জ্বর, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা ও গায়ে র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি হতো। পরবর্তীতে চার থেকে সাতদিনের মধ্যে ডেঙ্গু হেমোরেজিকের নানা লক্ষণ (প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা কমে যাওয়া, দাঁতের মাড়ি, নাক, মুখ ও পায়ুপথে রক্তপাত) প্রকাশ পেতো।

কিন্তু গত বছর জ্বর ওঠার দু-একদিনের মধ্যে ডেঙ্গু হেমোরেজিকের লক্ষণসহ রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে দেখা যায়। এমনকি স্বল্প সময়ে রোগী ‘শক সিনড্রোমে’ আক্রান্ত হয়ে হার্ট, ভাল্ব, কিডনি, ফুসফুসসহ বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যায়। আইসিইউতে ভর্তির পরও রোগীর মৃত্যু হতে দেখা যায়।

Leave a Reply