ঢাকার বাতাসে ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে

0
28
views

বিশ্বের তিন হাজার ৯৫টি শহরের মধ্যে সবচেয়ে দূষিত ৩০টি শহরের ২২টি ভারতের, পাকিস্তানের দুটি, চীনের পাঁচটি ও বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহর রয়েছে। দূষণে শীর্ষ ৩০-এ ঢাকার অবস্থান ১৭তম। আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস ও এয়ার ভিজ্যুয়াল গবেষণা করে গত সোমবার ২০১৮ সালের এ সূচক প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার বাতাসে যে মাত্রার ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে, তা খুবই ‘অস্বাস্থ্যকর’ মাত্রা নির্দেশ করছে।

বাতাসে যেসব উপাদান রয়েছে, তার মধ্যে মানবদেহের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর বলা হয় পার্টিকুলেট ম্যাটার ২ দশমিক ৫ বা পিএম ২ দশমিক ৫ নামে পরিচিত এক ধরনের সূক্ষ্ম কণার উপস্থিতিকে। কঠিন ও তরলের এই মিশ্রণ, ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ফোঁটা আকারে বাতাসে ভেসে বেড়ায়। চুল যতটুকু চওড়া, এই এতটুকু জায়গার মধ্যেই ৪০টি পিএম ২ দশমিক ৫ কণা সহজেই এঁটে যাবে। ক্ষুদ্র হওয়ায় বাতাসের এই কণা খুব সহজেই নিঃশ্বাসের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি হলে এই ক্ষুদ্র কণার কারণেই ফুসফুসের ক্যান্সার, হার্ট অ্যাটাক, অ্যাজমা, ব্রংকাইটিসসহ শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত বিভিন্ন রোগ হতে পারে।

বাতাসের গুণগত নির্দেশক বা একিউআই অনুযায়ী পিএম ২ দশমিক ৫ এর সহনীয় মাত্রা ৫০-এর নিচে। এর ওপরে উঠলেই তা হবে বিপদের। এ ক্ষেত্রে ঢাকার বাতাসে পিএম ২ দশমিক ৫ এর উপস্থিতি অস্বাস্থ্যকর নির্দেশ করে। গত বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও ডিসেম্বরে ঢাকার বাতাসে পিএম ২ দশমিক ৫ এর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ২০২ দশমিক ৩, ১৬০ দশমিক ৬ এবং ১৫২ দশমিক ৭।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রাম। যেখানে বাতাসে পিএম ২ দশমিক ৫ এর মাত্রা দুই শর বেশি। তালিকার শীর্ষ ১০টি দূষিত শহরের মধ্যে গুরুগ্রামের পরেই রয়েছে দিল্লিসংলগ্ন ভারতের আরেকটি শহর গাজিয়াবাদ। তৃতীয় স্থানে আছে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদ শহর। চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম স্থানে যথাক্রমে আছে ভারতের ফরিয়াবাদ, ভিবাডি, নয়ডা ও পাটনা। অষ্টম স্থানে আছে চীনের হুতান শহর, এরপর ভারতের লখনউ ও দশম স্থানে পাকিস্তানের লাহোর শহর। শীর্ষ দশে স্থান না পেলেও ১১তম অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি। তালিকায় কলকাতার অবস্থান ২৩তম।

সূচকে সবচেয়ে কম দূষিত শহরের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার শহর জাডবেরি। সেখানে বায়ুর গড় কোয়ালিটি ইনডেক্সের পরিমাণ মাত্র ২ দশমিক ২।

জরিপটি বলছে, চলতি বছরে বায়ুদূষণের প্রভাবে বিশ্বের প্রায় ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটতে পারে। সেই সঙ্গে বায়ুদূষণ অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

গ্রিনপিসের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নির্বাহী পরিচালক ইয়েব সানো বলেন, ‘বায়ুদূষণ আমাদের জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিচ্ছে। মানুষের জীবন হারানো ছাড়াও বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বব্যাপী চিকিৎসা খরচ পড়ছে প্রায় ২২৫ বিলিয়ন ডলার। এ পর্যন্ত বহু ট্রিলিয়ন ডলার খরচও হয়েছে স্বাস্থ্যের পেছনে। বায়ুদূষণের মারাত্মক প্রভাব পড়ে আমাদের স্বাস্থ্য এবং মানিব্যাগে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে এবং এর পরিবর্তনের কারণে বায়ুদূষণের প্রভাব আরো খারাপ হচ্ছে। এ ছাড়া কলকারখানাসহ বিভিন্ন জায়গার জ্বালানি থেকে বায়ুদূষণের সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে অপরিকল্পিত নগরায়ণকে বায়ুদূষণের জন্য সবচেয়ে দায়ী হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।