নির্যাতন শিশুকে অপরাধপ্রবণ করে

0
235
views

আমাদের দেশে শিশুদের চাপে রাখে না এমন পরিবার খুঁজে পাওয়া কঠিন। শিশুদের মানসিক চাপে বখে যাওয়া যেমন অস্বাভাবিক নয় তেমনই অনেকে আবার আত্মহত্যার মতো সিদ্ধান্ত নিতেও দ্বিধা করে না।

শুধু বাড়িতেই নয় স্কুল, কোচিং সেন্টার বা স্যারের বাসাতেও তাদের চাপের ভেতর দিয়েই যেতে হয়।

কিছু স্কুল আছে যেখানে পড়ার জন্য বাচ্চাদের খুব চাপ দেওয়া হয়। অনেক স্কুলেই স্যাররা আবার ছাত্রদের মারধর করেন, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে কথা বলেন।

এসব নিয়ে এক স্যারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, তিনি বাচ্চাদের সবসময় শাসনে রাখার পক্ষে।

তার উত্তর শুনে আমি হতাশ হয়ে গেলাম। তাই আলোচনা বাড়াইনি।

পৃথিবীর অনেক দেশেই বাচ্চাদের বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। শুনেছি জাপানে বাচ্চাদেরকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ধরা হয়। অথচ আমাদের দেশে বাচ্চারাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।

এদিক থেকে আমি অনেক ভাগ্যবান। আমার মা-বাবা কখনও আমাদের গায়ে হাত তোলেন না বা কোন ব্যাপারে চাপ দেন না।

আমার মা বলেন, “শাসন করতে গায়ে কেন হাত তুলতে হবে?”

বন্ধুসুলভ আচরণ করে বাচ্চাদের বোঝান যায় বলে মনে করেন তিনি।

এ নিয়ে আমার বড় ভাই মনে করেন, বাচ্চাদের সারাক্ষণ চাপে রাখলে বা বকাবকি করলে তারা মানসিকভাবে আঘাত পায়।

অনেক সময় শিশুর মধ্যে একটা জেদ চাপে আর এই জেদ একটা জীবন থামিয়ে দিতে যথেষ্ট।

এ ব্যাপারে মনোবিদ অধ্যাপক মাহজাবীন হকের মত, শৃঙ্খলা শেখাতে বাচ্চাদের শাসন করতে হবে তবে মারধর করে নয়। এমনকি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলাটাও শারীরিক শাস্তির মতোই বিপজ্জনক। এতে শিশুর মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

তিনি বলেন,”ওরা ছোট তাই আমরা সহজেই বল প্রয়োগ করি। কিন্তু বড়দের উচিত শিশুর কাছে তাদের প্রত্যাশাগুলো আলোচনা করে বুঝিয়ে দেওয়া।

“বড়দের নির্দেশনাগুলো তারা ঠিকঠাক বোঝাতে পারেন না বলেই ছোটরা  অনিয়ম করে।”

তিনি মনে করেন বড়রাই সমস্যা তৈরি করেন। আর তাদের সমস্যা দেখেই  তৈরি হয় সমস্যাগ্রস্ত শিশু। এছাড়া বড়রা দুশ্চিন্তায় ধৈর্যহীন হয়ে পড়লেও  শিশুদের মারধর বা তিরস্কার করেন। সেটা শিশুকে বিশৃংখল হতে শেখায়।

তার মতে, শাস্তিদাতার প্রতি শিশুর একটা ক্ষোভ জন্মে আর সেটা তাকে জেদি ও অপরাধপ্রবণ করে তোলে।

তারা ভেবে নেয়, কেউ অপরাধ করলে তার গায়ে হাত তুলতে হয়। আর এভাবেই সে দুর্বলের ওপর নির্যাতন করতে শেখে।

তিনি আরও বলেন, “এভাবে শাস্তি দিয়ে নয়, শিশুকে সুশৃঙ্খল করতে ও নিয়ম শেখাতে পুরস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে শিশু ভালো কাজ করতে উৎসাহী হয়।