ফিলিস্তিনী চিকিৎসকরা সুপারবাগের বিরুদ্ধে লড়ছেন

0
21
views

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীরে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সুপারবাগের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন স্থানীয় চিকিৎসকরা। অবরুদ্ধ গাজায় কয়েক প্রজন্ম ধরে পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট চলায় চিকিৎসকরা সব সময় মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পারেন না। কাজেই খুব সহজেই ওষুধ প্রতিরোধী রোগের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি এই সুপারবাগ ফিলিস্তিনের সীমান্ত পেরিয়ে বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গাজার চিকিৎসকরা বলছেন, এমন এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত অসুস্থতা, যা অ্যান্টিবায়োটিকেও রোধ করতে পারে না। বছরের পর বছর ধরে অবরুদ্ধ থাকায় উপত্যকাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে এসেছে। এছাড়াও সেখানে অ্যান্টিবায়োটিকের সরবরাহও একেবারে কম।

চিকিৎসকরা যদিও এই ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তা জানেন, তবুও সেখানে অনবরত অ্যান্টিবায়োটিকের ঘাটতি বলে দিচ্ছে, সবসময় তারা ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণের নিয়ম অনুসরণ করতে পারেন না। পানি সংকটে চিকিৎসকদের হাত ধোয়ার সুযোগ সব সময় থাকে না। এছাড়া দস্তানা, গাউনস ও ক্লোরিন ট্যাবলেটের ঘাটতি রয়েছে। অথচ এসব তাদের জীবাণুমুক্ত থাকতে সাহায্য করে।

অগাস্তা ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের রোগ সংক্রমণ বিষয়ক সেবিকা দিনা নাসের বলেন, এটা পুরোপুরি বিশ্ব স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়। কারণ বহু ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণু কোনো সীমান্ত বোঝে না। সীমান্ত ছাড়িয়েও তা বহুদূর ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত বিষয়টিতে নজর দেয়া। যদি তারা গাজার রাজনীতিতে আগ্রহী নাও হন, তবুও তাদের উচিত এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কাজ করা।

তবে চিকিৎসার কথা বিবেচনা করলে গাজা একেবারে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না। কিছু সংখ্যক রোগীকে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো যায়। এছাড়া জর্ডান, মিসর ও লেবাননেও রোগী পাঠিয়ে চিকিৎসা নেয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব। বিভিন্ন সাহায্যকর্মীরা গাজার ভেতরে ও বাইরে ভ্রমণ করেন। তাদের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার অন্য দেশেও ঘটতে পারে। এমনকি কোনো মানুষের শরীরে বাহিত না হয়েও এ রোগের বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে।

বৈরুত মেডিকেল সেন্টারের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির সংঘাত কবলিত অঞ্চলের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ডা. গাসসান আবু সিত্তাহ বলেন, এই ব্যাকটেরিয়া সব সময় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। গাজা থেকে অপরিশোধিত নর্দমা থেকে বহু ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া জলাশয়ে গিয়ে মিশতে পারে। আর গাজার জলাশয়ের সঙ্গে মিসর ও ইসরাইলের সংযুক্তি রয়েছে।

তিনি বলেন, স্কটল্যান্ডের এক গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, পরীযায়ী পাখিদের আবর্জনায়ও বহু ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বহন করতে পারে। কাজেই এ থেকে যে কেউ নিষ্কৃতি পেতে পারেন বলে যে ধারণা রয়েছে, তা সম্পূর্ণ অদ্ভূত।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এক দশকের বেশি সময় আগে ইরাক থেকে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ঘটেছে। তখন অ্যাসিনেটোব্যাকটার প্রতিরোধীর প্রত্যাবর্তনসহ আহত ব্যক্তিদের মধ্যে এমন ব্যাকটেরিয়ার প্রবলতা দেখা দিয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে পেনিসিলিন আসে। এরপর থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। অসংখ্য মানুষকে প্রতিবন্ধিত্ব থেকে রক্ষা করেছে। বিশেষ করে যুদ্ধে যারা আহত হয়েছিলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে তাদের অঙ্গচ্ছেদের মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়নি চিকিৎসকদের।

কিন্তু ১৯৮০ এর দশক থেকে নতুন ধরনের কোনো অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করা হয়নি। এদিকে বিশ্বজুড়ে সুপারবাগের সংক্রমণ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। আধুনিক যুগের কিছু সংঘাতপ্রবণ অঞ্চলকে পেনিসিলিন আবিষ্কারের আগের যুগের সঙ্গে তুলনা করেন বিশেষজ্ঞরা।