বরিশাল মেডিকেলে চিকিৎসক লাঞ্ছিত

0
80
views

বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সাইফুল আজমকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মারধর করে তৌহিদ নামে এক রোগীর স্বজনকে পুলিশে দিয়েছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। সোমবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।

চিকিৎসকরা জানান, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত বরিশালের জাগুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদ সরদারকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের মিনি ওটিতে অস্ত্রোপচার করছিলেন চিকিৎসকরা। এ সময় রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনরা ওটির সামনে ভিড় করে। তখন তাদের দূরে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান চিকিৎসকরা।

এ সময় ওটির পাশে থাকা চিকিৎসকদের বিশ্রাম কক্ষ থেকে ব্যাগ ও মোবাইল সেট খোয়া যায়। চিকিৎসকরা ব্যাগ ও মোবাইল সেট খোঁজাখুঁজি করে সেখানে অবস্থানরত রোগীর স্বজনদের সন্দেহ করেন। এ ঘটনায় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে স্বজনরা রেজিস্ট্রার ডা. সাইফুল আজমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

ওই ইউনিটে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীর স্বজনরা জানান, চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার কিছুক্ষণ পরই ইন্টার্ন ডাক্তার ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা একযোগে হামলাকারী রোগীর স্বজনদের খুঁজতে থাকেন। এ সময় তৌহিদ ও শামীম নামে রোগীর দুই স্বজনকে তারা ধরে মারধর করে সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসকদের বিশ্রাম কক্ষে নিয়ে আটকে রাখেন।

এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলে পুলিশের ওপর চড়াও হন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। পরবর্তীতে সিনিয়র চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ইন্টার্ন ডক্টরস্ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মো. রাজু আহমেদ জানান, চিকিৎসক লাঞ্ছিতের খবর পেয়ে সাধারণ ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ঘটনাস্থলে আসেন। পাশাপাশি ওটিতে থাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মালামাল খোয়া যাওয়ার খবরে তাদের সহপাঠীরাও আসেন। এ সময় পুরো বিষয়টি শুনে উপস্থিত সবাই ক্ষুব্দ হয়ে গেলে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে যায়। পরে তৌহিদ নামে একজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে শামীম নামে একজনকে ছেড়ে দেয়া হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) ফরহাদ সরদার জানান, সরকারি কাজে বাধা ও চিকিৎসক লাঞ্ছিতের ঘটনায় চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি তারা রোগীর এক স্বজনকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন।