বিএমডিসির ওয়েবসাইটে এক লাখ বৈধ ডাক্তারের তথ্য যুক্ত হলো

0
42
views

দেশে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ থেকে এমবিবিএস ও বিডিএস (ডেন্টাল) কোর্স থেকে বৈধ সনদ পাওয়া চিকিৎসকদের তথ্য যুক্ত করা হচ্ছে বিএমডিসির ওয়েবসাইটে (bmdc.org.bd/doctors-info)। এখন পর্যন্ত বৈধ সনদপ্রাপ্ত এক লাখ চিকিৎসকের নাম-পরিচয় এ ওয়েবসাইটে যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে এমবিবিএস ডাক্তার ৯১ হাজার ও বিডিএস ৯ হাজার।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) জানিয়েছে, ভুয়া সনদ ব্যবহার করে নিজেদের ডাক্তার পরিচয়ে প্রতারণা করছেন অনেকেই। এমন অভিযোগের সুরাহা করতে বিএমডিসি তিন বছর আগে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ থেকে পাস করা বৈধ রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত এমবিবিএস ও ডেন্টাল ডাক্তারদের তথ্য সংগ্রহ শুরু করে। পর্যায়ক্রমে ওয়েবসাইটে চিকিৎসকের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে।

সাধারণ মানুষকে ভুয়া ডাক্তারদের অপচিকিৎসার হাত থেকে রক্ষা করতে ওয়েবসাইটটিতে ডাক্তারদের প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত দেয়া আছে। শুধু ডাক্তারের রেজিস্ট্রেশন নম্বর জানলে ওয়েবসাইটে ঢুকে নম্বরটি বসিয়ে ক্লিক করে যে কেউ জেনে নিতে পারবেন তিনি বিএমএর বৈধ রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ডাক্তার কি না। অর্থাৎ বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে বসে যে কেউ বিএমডিসির ওয়েবসাইটে ঢুকে কম্পিউটার মাউসের বাটন ক্লিক করেই জেনে নিতে পারেন কে ডাক্তার আসল কে ভুয়া!

জানা গেছে, দেশের সব সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ থেকে পাস করা ডাক্তারদের বাধ্যতামূলকভাবে বিএমডিসির রেজিস্টার্ড সনদ নিতে হয়। তাদের সনদ ছাড়া দেশ-বিদেশের কোথাও ডাক্তারদের চাকরি বা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার নিয়ম নেই।

বিএমডিসির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, তিন বছর আগে থেকেই ওয়েবসাইটি চালু রয়েছে। এখন পর্যন্ত ওয়েবসাইটিতে ক্রমানুসারে এক থেকে এক লাখ ডাক্তারের নাম ও ছবি, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, বাবার নাম ও ঠিকানা দেয়া আছে। খুব শিগগিরই বৈধ রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সব ডাক্তারের তথ্য বিএমডিসির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

বিএমডিসির রেজিস্ট্রার ডা. জাহেদুল হক বসুনিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশে বৈধ ডাক্তারের পাশাপাশি ভুয়া ডাক্তারের ছড়াছড়ি। একশ্রেণির প্রতারক ডাক্তারি পাস না করেও নিজেদের এমবিবিএস ও ডেন্টাল ডাক্তার পরিচয় দিয়ে ভিজিট নিয়ে রোগী দেখছেন। নামের আগে-পরে বিভিন্ন ডিগ্রির নাম জুড়ে দিয়ে বিশেষজ্ঞ সাজছেন। এসব কথিত ডাক্তার রোগ নির্ণয়ের নামে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়েও বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন হাতিয়ে নিচ্ছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে বিভিন্ন সময় এসব ভুয়া ডিগ্রিধারী ডাক্তার ধরা পড়ছেন।