ভারতীয় কোম্পানি নিম্নমানের এ প্লাস ক্যাপসুল

0
27
views

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান বলেছেন, ভারতের একটি অখ্যাত কোম্পানি মামলা করে তাদের কাছ থেকে নিম্নমানের ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল কিনতে বাধ্য করেছে। কোম্পানির সরবরাহ করা নিম্নমানের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুলগুলো নষ্ট থাকায় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন সারা দেশে স্থগিত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই ভালো ক্যাপসুল সংগ্রহ করা হবে এবং নতুন তারিখ ঘোষণা করে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে নবনিযুক্ত স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান কিশোরগঞ্জে সার্কিট হাউজে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুলের নমুনা পর্যবেক্ষণ ও মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান বলেন, এ ক্যাপসুল কেনার কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৬ সালে। প্রথমে একটি দেশি ওষুধ কোম্পানি সরবরাহের কার্যাদেশ পেয়েছিল। কিন্তু ওই কার্যাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে যায় অ্যাজটেক নামে ভারতের একটি কোম্পানি। আদালত ওই ভারতীয় কোম্পানিকে সরবরাহের কাজ দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর লাল রঙের এ ক্যাপসুল সরবরাহ করে অ্যাজটেক। তাদের সরবরাহ করা লাল ক্যাপসুল কৌটার সঙ্গে লেগে আছে, আলাদা করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুলগুলো বাংলাদেশের কোম্পানি সরবরাহ করেছিল। নীল রঙের ক্যাপসুলগুলোর মান ভালো রয়েছে। ভারতীয় এ কোম্পানির কোনো সুনাম নেই। মামলা করে তারা আমাদের এ ক্যাপসুল কিনতে বাধ্য করেছে।

এ সময় জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মো. আক্তার জামিল, সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান, জেলা ২৫০ শয্যা কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে উপ-পরিচালক রাজিয়া সুলতানা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এ আফজাল, জেলা বিএমএর সভাপতি ড. মাহবুব ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল ওয়াহাব, জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের সভাপতি ডা. দীন মোহাম্মদ, মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ক্লিনিক ডা. হোসনা বেগমসহ জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধতন কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, মূলত রাতকানা রোগ প্রতিরোধের জন্য ১৯৯৪ সাল থেকে দেশের শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। ২০১২ সালেও ভিটামিন এ ক্যাপসুল নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। অবশ্য মান নিয়ে কোনো কথা ওঠেনি। জটিলতা হয় মূলত কার্যাদেশ দেয়া নিয়ে।

জাতীয় পুষ্টি কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর দু’বার ৬-১১ মাস বয়সী শিশুকে নীল এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।