মশার উপদ্রবে বেড়েছে ডেঙ্গু

0
287
views

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর চারদিকে এখন জলাবদ্ধতায় বেড়েছে মশার উপদ্রব। বদ্ধ পানি এডিস মশার উৎপত্তিস্থল। যে কারণে বর্ষায় কয়েকগুণ বেড়েছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী।

স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিভিন্ন হাসপাতালের হিসাবে, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮০ জন। কিন্তু সোমবার (৩ আগস্ট) পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬০ জনে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাধারণত জুন-জুলাই মাসে এডিসসহ বিভিন্ন মশার উপদ্রব বেশি থাকে। এ সময় বৃষ্টিপাত বেশি হওয়ায় বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকে ও পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। এছাড়া অতিবৃষ্টির কারণে সিটি করপোরেশন থেকে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমও জোরদার করতে না পারায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে।

বৃষ্টি কমে গেলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পক্ষ থেকে মশা নিয়ন্ত্রণ কাজ জোরদার করা হলে রাজধানী থেকে মশার উপদ্রব কমবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কিছু দিন ধরে মশার আক্রমণে অতিষ্ট হয়ে আছেন নগরবাসী। এখন শুধু রাতেই না, দিনের বেলাতেও মশার যন্ত্রণা ভোগ করতে হচ্ছে তাদের।

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম নেই বলে নগরবাসীর অনেকেই অভিযোগ করেছেন। কিন্তু সিটি করপোরেশন থেকে দাবি করা হচ্ছে, তাদের নিয়মিত রুটিন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে বৃষ্টি থেমে গেলে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা এলাকার বাসিন্দা নুরুল আলম বাংলানিউজকে বলেন, মশার যন্ত্রণায় মশারি দিয়েও রেহায় পাওয়া যাচ্ছে না। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের কারণে মশার উপদ্রব আরও বেড়েছে। কিন্তু মশক নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন থেকে তেমন কোনো কার্যকরী ভূমিকা দেখছি না।

মাঝে মাঝে সিটি করপোরেশন থেকে মশা নিধনে ওষুধ স্প্রে করে গেলেও আসলে তা কোনো কাজে আসছে না বলে অভিযোগ করছেন তিনি।

আগারগাঁওয়ের কাজীপাড়ার বাসিন্দা নিয়ামত উল্ল্যাহ বলেছেন, টানা বৃষ্টির কারণে মশার উপদ্রব বেশি থাকলেও সিটি করপোরেশনের কোনো কর্মীকে মশা নিধন করতে আসতে দেখিনি। রাতে ও দিনে মশার যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ হয়ে আছি।

অবিলম্বে মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন থেকে জোরালো কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমদাদুল হক বাংলানিউজকে বলেন, কতজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে সেই হিসাব আমাদের কাছে নেই। তবে ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়ে আমরা বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুর বিষয়ে যেসব পরিসংখ্যান আমাদের কাছে এসেছে তাতে মনে হচ্ছে উত্তর সিটিতে এ সংখ্যাটা কম।

তবুও মশা নিয়ন্ত্রণে সারা বছর ধরে নিয়মিত রুটিন যেসব কাজ আছে তা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতি শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধনে ওষুধ স্প্রে করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন নগর ভবনে সাংবাদিকদের বলেন, এ মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রভাব বেশি থাকে। এজন্য গত ১ আগস্ট থেকে ডেঙ্গুর বিষয়ে নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মশক নিধনে নিয়মিত ওষুধ স্পের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, তবে বৃষ্টির কারণে সমস্যা হচ্ছে। মশা নিধনে আগে থেকে যেসব কাজ চালু রয়েছে সেইগুলোই নিয়মিতভাবে হচ্ছে বলে জানান মেয়র।

নগরের মশক নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন প্রতি বছর তাদের বাজেটের একটি অংশ বরাদ্দ রাখে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ডিএনসিসির প্রস্তাবিত বাজেটে মশ‍া নিয়ন্ত্রণে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। আর ডিএসসিসি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বরাদ্দ রেখেছে সাড়ে ১২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ সময়: ০৭৫১ ঘণ্টা, আগস্ট ০৫, ২০১৫
টিএইচ/এএ