মাদক থেকে মাদকাসক্তি

0
626
views

সিগারেট থেকে নেশা শুরু করলেও মাদকের প্রতি আসক্তি ধীরে ধীরে শুরু হয়। বেশির ভাগই শুরু হয় বন্ধু-বান্ধবদের সাহচর্যে। মূলত মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতে গিয়েই কিশোর-তরুণরা ব্যাপকভাবে নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এ সুযোগে মাদক ব্যবসায়ী, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র খুন, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ নানা কাজে তাদের ব্যবহার করতে থাকে। মাদকের এই নেশার জালে একবার জড়িয়ে পড়লে কেউ আর সহজে এ জাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে মাদকসেবীরা দিনে দিনে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আমাদের দেশে কিশোর সন্ত্রাসীর ক্রমবর্ধমান দাপটের যে তথ্য স¤প্রতি বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে তার মূল কারণ সম্ভবত নিহিত রয়েছে এখানেই। দেশের সর্বত্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করা, গুলি বা ছুরিকাঘাতে হত্যা করা কিংবা সড়ক দুর্ঘটনার আধিক্যের পেছনেও মাদকাসক্তির ভূমিকা অন্যতম।

মাদকদ্রব্যের প্রতি আসক্তি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, বর্তমানে এই প্রভাব অতটা বোঝা না গেলেও সুদূরপ্রসারী অনেক প্রভাব রয়েছে। প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এর বিস্তৃতি। একটি সময় ছিল যখন সমাজের বিত্তশালী পরিবারের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এর আসক্তি ছিল কিন্তু বর্তমানে তা ছড়িয়ে গেছে সর্বত্র। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে বর্তমানে মাদকসেবীর সংখ্যা অন্তত দেড় কোটি। এর মধ্যে রয়েছে ১ কোটি মাদকাসক্ত। পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে যে, মাদকসেবীরা গড়ে প্রতিদিন অন্তত ২০ কোটি টাকার মাদক সেবন করে থাকে হিসাব অনুযায়ী মাসে ৬০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে সারা দেশে প্রায় ৩০ লাখ মাদক ব্যবসায়ী প্রতিদিন কমপক্ষে প্রায় ২০০ কোটি টাকার মাদক কেনাবেচা করে। আরো একটি ভয়ঙ্কর চিত্র হচ্ছে যে, সারা দেশের ছড়িয়ে পড়া ইয়াবার শতকরা ৮৫ ভাগই ভেজাল। যার ফলে এসব ইয়াবা গ্রহণকারী মাদকাসক্তরা নানান ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তার মধ্যে কিডনি, লিভার ছাড়াও মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজকর্ম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শতকরা ৮০ ভাগ খুনের সঙ্গে মাদকাসক্তরাও কোনো না কোনোভাবে জড়িত।

একটি লোমহর্ষক কাহিনী আমাদের সকলের বিবেককে নাড়া দিয়ে গেছে। কোনো কোনো পত্রিকার শিরোনাম ছিল- ‘নেশাগ্রস্ত যুবকের গুলিতে জোড়া খুন’ অন্যটি ছিল ‘মাদকাসক্ত মেয়ে নিজ হাতে বাবা-মাকে খুন করল’ আরো অন্যান্য খবর ছিল- ইয়াবা সেবনে বাধা দেয়ায় খুন হলেন মা-বাবা। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে নতুন নয়। ইতোপূর্বেই আমরা দেখেছি মাদকাসক্ত ছেলের হাতে পিতা খুন অথবা মাদকাসক্ত ভাই নৃশংসভাবে খুন করলেন দুই বোনকে অথবা মাদকাসক্ত দেবর খুন করল তার ভাবিকে অথবা মাদকাসক্ত ছেলের হাত থেকে বাঁচতে মা খুন করলেন ছেলেকে অথবা মদ, সিগারেট, পরকীয়া প্রেম ও সম্পদের মোহে স্বামীকে হত্যা করে স্ত্রী। সুতরাং মাদকাসক্তরা তাদের স্বাভাবিক বিবেক বুদ্ধি, মানবিক মূল্যবোধকে হারিয়ে হয়ে ওঠে বেপরোয়া, উচ্ছৃঙ্খল এক অস্বাভাবিক ব্যক্তি। সাম্প্রতিক পত্রপত্রিকায় কয়েকটি খবর আমাদের দেশের মাদকাসক্তির কয়েকটি চিত্র ফুটে ওঠে। দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ খবর- ঝিনাইদহে ৫ মাস ধরে একটি ব্রিজের নিচে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে এক যুবককে, ব্রিজের নিচে একটি চৌকি ও বিছানাপত্র, প্রস্রাব পায়খানা করেন একই স্থানে, শহরে অঢেল সম্পত্তির মালিক পিতামাতা, রয়েছে একাধিক বাড়ি, কিন্তু বাড়ির এক কোনায়ও ঠাঁই মেলেনি ছেলের, কারণ সে মাদকাসক্ত তাই পরিবারের লোকজন এই অমানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

গত ১০ জুন প্রথম আলোতে খবর- ‘নেশাগ্রস্ত যুবকের গুলিতে ঢাকায় জোড়া খুন’, গত ১২ জুন, ২০১৫, বাংলাদেশ প্রতিদিনের খবর ‘সংসার ভাঙে শহরে বেশি তালাক এগিয়ে’। এতে বলা হয়, বিবাহ বিচ্ছেদের অনেকগুলো কারণের মধ্যে মাদকাসক্তি একটি বড় কারণ। সুতরাং এটা সহজেই অনুমান করা যায় যে, দেশে মাদকাসক্তির কারণে যুব সমাজের নিজেদের জীবন শুধু বিপন্ন হয় না, এতে গোটা পরিবার বা সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাছাড়া ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণের কারণে দেশে এইডস আক্রান্তের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশে এইচআইভি (পজিটিভ) রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৬৭৪ জন এর মধ্যে এইডস রোগী ১ হাজার ৪১৪ জন।

প্রশ্ন জাগে, যে ছেলে বা মেয়েটিকে বাবা-মা জন্ম থেকে তিলেতিলে আদর ভালোবাসা দিয়ে মানুষ করে তুলেছেন সে কিভাবে তার বুকে ছুরি বসায়। হত্যা করতে দ্বিধা করে না বাবা আর মাকে কিংবা যে ছেলেটি আজ বাবা-মায়ের মাথার ঘাম পায়ে ফেলানোর কষ্টার্জিত অর্থ নিয়ে নামকরা একটি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসেছে সে কেন আজ মাদকাসক্ত? সন্তানকে তার বাবা-মা একমাত্র সম্বল সেই জমি বিক্রির টাকা দিয়ে একটি কারণে শহরে পড়তে পাঠান- ছেলেটা যেন পড়াশুনা শেষ করে মানুষের মতো মানুষ হয়। কিন্তু সেই সব বাপ মায়ের ছেলেমেয়েদের এহেন কাণ্ডকীর্তি কি মানুষের পর্যায়ে পড়ে? কি কারণে আজ এই তরুণ বয়সের ছেলেমেয়েরা অমানুষ হয়ে যাচ্ছে। উত্তরটা সহজ আর তা হচ্ছে মাদক গ্রহণ থেকে মাদকাসক্তি।

বাংলাদেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে প্রায় ৬৮ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত। এদের মধ্যে ৮৪ ভাগ পুরুষ, ১৬ ভাগ নারী। সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তি থেকে শুরু করে নারী ও শিশু-কিশোররাও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ নানাভাবে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৪৭ লাখ। অধিদপ্তর আসক্তদের শতকরা ৯০ ভাগকে কিশোর-তরুণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাদের শতকরা ৪৫ ভাগ বেকার এবং ৬৫ ভাগ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট। আর উচ্চশিক্ষিতের সংখ্যা ১৫ শতাংশ। তবে আরো বেশ কয়েকটি সংস্থার তথ্যানুযায়ী, অবৈধ মাদকদ্রব্য আমদানির জন্য প্রতি বছর ১০ হাজার কোটিরও বেশি টাকার মুদ্রা বিদেশে পাচার হচ্ছে। মাদকের নেশা এখন আলো ঝলমল নগরীর প্রাণকেন্দ্র থেকে শুরু করে অন্ধকার গ্রামেও এখন এর অবাধ বিচরণ। ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে বাংলাদেশের মাদক ব্যবসা ও প্রাপ্তির সহজলভ্যতা বেশি এবং বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান পরিপ্রেক্ষিতে তরুণ সমাজ এদিকে ঝুঁকেছেও বেশি- ঠিক যেমনটি প্রত্যাশা মাদক ব্যবসায়ীদের। ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী মাদকাসক্তদের মধ্যে হেরোইন সেবনের মাত্রা বেশি। সাদা পাউডার জাতীয় এই নেশা সেবনের হার মারাত্মক হারে বেড়েই চলেছে। মোট মাদকাসক্তের ৭৫ ভাগই ছিল হেরোইনসেবী। ১৯৯৬ সালে এই হার ছিল ৫১ শতাংশ। ১৯৯৮ সালে ৬২ শতাংশ এবং ২০০০ সালে দাঁড়ায় ৭২ শতাংশ। বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত বহু সরকারি ও বেসরকারি সমীক্ষায় পাওয়া তথ্যে প্রকাশ করা হয় হেরোইন পাচারের জন্য এ দেশকেই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ মনে করছে পাচারকারীরা। কমপক্ষে দেশের ৩০টি রুট দিয়ে স্থল ও নৌপথে এ দেশে মাদক প্রবেশ করে বিমান ও জাহাজে করে পৌঁছে যাচ্ছে উন্নত বিশ্বে, বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে বাজার বা গোডাউন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ফ্যামিলি হেলথ ইন্টারন্যাশনালের তথ্য বলছে, শুধু ভারত থেকেই আসে সাড়ে তিন কোটি টাকার মাদকদ্রব্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসে ফেনসিডিল। এছাড়া অন্য একটি সূত্র জানায়, দেশের প্রায় ৫১২টি পয়েন্টে প্রতিদিন হেরোইন, আফিম, প্যাথেডিন, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি হয়। এছাড়া ভারত থেকে প্রতিদিন বাংলাদেশে আসছে ১০ লাখ বেতল ফেনসিডিলসহ অন্য মাদকদ্রব্য। সর্বত্র হাত বাড়ালেই মিলছে এসব। সংঘবদ্ধ চোরাচালানি চক্র সবসময় বেপরোয়াভাবে ফেনসিডিল আনছে। বাস, ট্রাক, ট্রেনে সে ফেনসিডিল ছড়িয়ে পড়ছে সারা বাংলাদেশে। বাংলাদেশে মাদকাসক্তরা তাদের আসক্তির পেছনে বছরে খরচ করে কমপক্ষে ৫ হাজার কোটি টাকা। এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমান দেশে মাদকাসক্তদের সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ লাখ। কোনো কোনো সংস্থার মতে, ৭০ লাখ, নব্বইয়ের দশকে যার পরিমাণ রেকর্ড করা হয় ১০ লাখেরও কম। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী একজন মাদকাসক্ত তার নেশার পেছনে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০০ থেকে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা খরচ করে। তবে বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই দৈনিক খরচ ১০০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। আর পক্ষান্তরে এই নেশার টাকার জোগান দিতে আসক্তরা বেছে নেয় বিভিন্ন অন্যায় পথ। যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে খুন, ছিনতাই, ডাকাতির মতো ঘটনা। নেশার জন্য বাবা খুন হচ্ছে সন্তানের হাতে। সেই খুনের দায় বহন করে ছেলেটি, হয় জেলে না হয় অন্ধকার জগতে প্রবেশ করছে। এভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে মাদক মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে অবাধ ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে। এখানেই শেষ নয় ৪০ বছর বয়সের পরে আকস্মিক মৃত্যুর ৫০ শতাংশই ঘটে মাদকাসক্তির কারণে। আর সেই লোকটি মৃত্যুর আগে রেখে যান কিছু উত্তরসূরি। মাদকাসক্তদের ৫৯ শতাংশই আসে এমন পরিবার থেকে যাদের মাসিক আয় ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী মাদকাসক্তদের ৩০ শতাংশই শুধু নেশার খরচ জোগান দিতেই নানা অপরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়ে। এই সব জরিপে যে তথ্যটি সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক ও ভয়ের কারণ, তা হচ্ছে দেশে মাদকাসক্তদের ৯১ শতাংশই কিশোর তরুণ ও যুবক বয়সী। আর এই আসক্তির ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে ছাত্র এবং শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে। আমাদের দেশে মহিলাদের মধ্যে ও মাদকাসক্তদের সংখ্যা বাড়ছে। এটা উদ্বেগের কারণ। নারী আসক্তদের ৯০ ভাগের বয়স ১৫-৩৫ বছরের মধ্যে। বাদবাকি ৩৫-৪৫ বছরের মধ্যে। মাদকাসক্তদের মধ্যে শতকরা পাঁচজন নারী। তাদের মধ্যে ছাত্রী, গৃহিণী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী রয়েছেন।

মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তির চিকিৎসার সব পর্যায়ে পরিবারের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তি স্বভাবতই চিকিৎসা নিতে চায় না। কারণ সে বুঝাতেই পারে না যে, তার চিকিৎসার প্রয়োজন । আবার অনেকেই শারীরিক যন্ত্রণার ভয়ে মাদক চিকিৎসায় অনীহা পোষণ করে। এক্ষেত্রে পরিবারের স্ত্রী, বাবা, মাদের নেশার নেতিবাচক দিক এবং জীবনের সম্ভাবনাময় বিষয়গুলোকে তুলে ধরে প্রতিনিয়ত সহমর্মিতামূলক আচরণের মাধ্যমে তাকে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী করে তুলতে পারেন। এমনভাবে আচরণ করতে হবে যাতে সে বুঝতে পারে যে, আমরা তাকে ভালোবাসি, তার সুন্দর ও সুস্থ জীবনের জন্য আমরা সহযোগিতা করতে চাই। বেশিরভাগ মাদকাসক্তির জবষধঢ়ংব হয় পরিবারের বৈরী এবং সন্দেহমূলক আচরণের কারণে। মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তিকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে না পারলে যে কোনো সময় তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। মাদকাসক্তি চিকিৎসায় ব্যক্তির নিজ ও তার পরিবারের সার্বিক সহযোগিতাসহ সেবা প্রদানকারী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভালো করা যেতে পারে । তবে এক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি তবে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই, আমাদের এই সচেতনতা এবং সহযোগিতা যুবসমাজকে যুবশক্তিতে পরিণত করবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মাদক কি আমাদের সমাজে তাহলে সব পরিবারেই ঢুকে পড়ছে? নাকি আমরা আমাদের সন্তানদের সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারছি না? এই দায়ভার কারা নেবে ? পরিবার, সমাজ না দেশ? আসুন না, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সবাই এক হই। অন্তত এই একটি ক্ষেত্রে আমরা সবাই দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই হাতে হাত ধরে কাজ করি।