মিরসরাইয়ে পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক

0
454
views

মিরসরাইয়ে পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে অর্ধেকের বেশি মানুষ। সর্বশেষ ২০০২-২০০৩ সালে গ্রামের নলকূপগুলোর আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয় এবং ৪০ জন রোগী  শনাক্ত করা হয়। এরপর নলকূপের পানি পরীক্ষা ও আর্সেনিকে আক্রান্তদের শনাক্তের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে গত একযুগেরও বেশি সময় ধরে মিরসরাইয়ে আর্সেনিকে আক্রান্তের কোনো পরিসংখ্যান নেই উপজেলা  জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে।

 

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০২-০৩ অর্থবছরে উপজেলার ৭৫ হাজার ৩৬৬ পরিবারের ৩২ হাজার ৪৮০টি নলকূপের পানিতে আর্সেনিক পরীক্ষা করা হয়েছে। নলকূপগুলোর পানিতে গড়ে ৩৯.৭৭ মাত্রায় আর্সেনিক রয়েছে। এরমধ্যে ১২ হাজার ৮৩৩টি নলকূপের পানিতে .০৫ মিলিগ্রামের অধিক মাত্রায় আর্সেনিক শনাক্ত করে নলকূপগুলোর পানি পান না করতে লাল রঙ লাগানো হয়েছে।

 

সর্বশেষ আর্সেনিক পরীক্ষার প্রতিবেদন অনুযায়ী মিরসরাই পৌরসভায় শতকরা ৬৬ দশমিক ৮৩, খৈয়াছড়ায় ইউনিয়নে ৬৬ দশমিক ২৯, মায়ানীতে ৫৬ দশমিক ১১, সদর ইউনিয়নে ৬০ দশমিক ৯৬, ওয়াহেদপুরে ৫১ দশমিক ৭৯, ওচমানপুরে ৫১ দশমিক ২০, ধুম ইউনিয়নে ৫১ দশমিক ৯, কাটাছড়ায় ৪৭ দশমিক ৬৬, হাইতকান্দিতে ৪৫ দশমিক ৩৩, দুর্গাপুরে ৪৫ দশমিক ০৫, মঘাদিয়ায় ৪০ দশমিক ৩৪, মিঠানালায় ৩৯ দশমিক ৮৫, ইছাখালী ইউনিয়নে ৩৯ দশমিক ১৭ ও সাহেরখালী ইউনিয়নে ৩০ দশমিক ৩৬ ভাগ নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক শনাক্ত হয়েছে।  উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কেএম সাঈদ মাহমুদের মতে মিরসরাইয়ে আর্সেনিক থেকে মুক্তি পেতে এক লাখ পরিবারের প্রতি ১০ পরিবারের জন্য ১টি করে গভীর নলকূপ স্থাপন করতে হবে। সেই হিসেবে উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করা প্রয়োজন। গত ১৪ বছরে মাত্র ৪৪১টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে।

 

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় আর্সেনিকের ঝুঁকি থাকলেও এখন কোথাও কোনো নলকূপে আর্সেনিক শনাক্তকরণ চিহ্ন নেই। ২০০১ সালে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পানি পরীক্ষার মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত নলকূপগুলোতে লাল চিহ্ন দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও সে চিহ্নগুলো এখন মুছে গেছে। ফলে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ এখন ওই নলকূপগুলোর আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করছেন।

 

মিরসরাই মাতৃকা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রফেসর ডা. জামশেদ আলম জানান, আর্সেনিক বিষ মানব দেহে পচন রোগ, কিডনির সমস্যা, ক্যান্সার, হাত-পায়ের তালুতে চর্মরোগের সৃষ্টি করতে পারে। আর্সেনিকে আক্রান্তকে দ্রুত চিকিত্সা সেবা না দিলে তা জটিল আকার ধারণ করে। এ থেকে মুক্তির জন্য প্রথমেই পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ স্থাপন খুবই জরুরি।

 

মিরসরাই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী কেএম সাঈদ মাহমুদ জানান, উপজেলার প্রায় এক লাখ পরিবার রয়েছে। অধিকাংশ পরিবারের নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে। এতে আর্সেনিকোসিস রোগের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারিভাবে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম। সরকারি বরাদ্দ না থাকায় নলকূপের পানি পরীক্ষা ও রোগী শনাক্ত বন্ধ রয়েছে।