সম্প্রতি বাংলাদেশে ভূমিকম্প আঘাত হানার সংখ্যা বাড়ছে

0
265

সম্প্রতি বাংলাদেশে ভূমিকম্প আঘাত হানার সংখ্যা বাড়ছে। ভূমিকম্পের সময়ে অনেকে উত্তেজিত হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করেন।

চলুন জেনে নেয়া যাক ভূমিকম্প হলে কি করবেন:

১) ভূমিকম্প হচ্ছে বুঝতে পারলে আতংকিত হয়ে পড়বেন না। একটু মাথা ঠাণ্ডা রাখার চেষ্টা করুন।

২) ভূমিকম্পের সময় বাসাবাড়িতে থাকলে বা বিছানায় থাকলে বালিশ দিয়ে মাথা ঢেকে টেবিল বা শক্ত কোনো আসবাবপত্রের নিচে আশ্রয় নিন।

৩) মাথা ঠাণ্ডা রেখে জীবন বাঁচাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করুন। চট করে রান্নাঘরের গ্যাসের চুলার সুইচ বন্ধ করে ফেলুন। এতে করে বড় ধরণের অন্য দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে পারবেন।

৪) স্কুল, কলেজ বা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকলে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলব্যাগ মাথায় দিয়ে শক্ত টেবিলের নিচে আশ্রয় নিন।

৫) ঘরের বাইরে যেখানেই থাকুন না কেন বড় গাছ, উঁচুবাড়ি, বৈদ্যুতিক খুঁটি ইত্যাদি থেকে দূরে খোলা কোনো স্থানে আশ্রয় নিন।

৬) গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, হাসপাতাল, মার্কেট ও সিনেমা হলে থাকলে হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার জন্য দরজার সামনে ভিড় বা ধাক্কাধাক্কি করতে যাবেন না। যেখানে আছেন সেখানেই দুহাতে মাথা ঢেকে বসে পড়ুন।

৭) দুর্ভাগ্যবশত ভাঙা দেয়ালের নিচে চাপা পড়লে অতিরিক্ত নড়াচড়া করে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করবেন না। কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখুন, যাতে ধুলোবালি শ্বাস নালিতে না ঢোকে।

৮) একবার কম্পন হওয়ার পর আবারও কম্পন হতে পারে। তাই সুযোগ বুঝে বিল্ডিং থেকে বের হয়ে খালি জায়গায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

৯) বেশি উপরতলায় থাকলে কম্পন বা ঝাঁকুনি না থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাড়াহুড়ো করে লাফ দিয়ে বা লিফট ব্যবহার করে নামতে যাবেন না একেবারেই। কম্পন বা ঝাঁকুনি থামলে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে খোলা আকাশের নিচে চলে যান।

১০) গাড়িতে থাকলে ওভারব্রিজ, ফ্লাইওভার, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে গাড়ি থামিয়ে ফেলুন এবং ভূকম্পন না থামা পর্যন্ত গাড়ির ভেতরে থাকুন।

ভূমিকম্প প্রাথমিক চিকিৎসা :

ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় হার্টঅ্যাটাকের রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার জন্য সিপিআর প্রশিক্ষণ খুবই জরুরি।
সিপিআর কীঃ সিপিআর মানে কার্ডিওপালমোনারি রিসালিটেশন। কার্ডিও অর্থ হার্ট, পালমোনারি অর্থ ফুসফুস, রিসালিটেশন অর্থ পুনর্জাগরণ। জীবন ফিরিয়ে আনা, যার শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেছে তাকে
বাঁচিয়ে রাখা।
শুধু চিকিৎসক বা সেবিকা নন, যে কর্মীগোষ্ঠী ইমারজেন্সি দায়িত্ব পালন করে থাকে, যেমন পুলিশ কর্মকর্তা, অগ্নিনির্বাপণ কর্মী, শিক্ষক বা প্রয়োজনে প্যারামেডিকেল, জনগণ, মা-বাবা- তারাও এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে রাখতে পারেন। যে ব্যক্তি সিপিআর দেবেন তাকে বলা হয় রেসকিওর, যার শ্বাস থমকে গেছে, তাকে মুখে মুখে শ্বাস দেবেন যান্ত্রিক শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়ার মতো।
কীভাবে করা হয়ঃ সাহায্যকারী ব্যক্তি শ্বাস-হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যক্তির বা শিশুর মুখে মুখ লাগিয়ে জোরে বাতাস ঢোকানোর চেষ্টা করবেন, যেন ফুসফুসে অক্সিজেন পৌঁছে যায়। তবে সরাসরি মুখে মুখ না লাগিয়ে বিশেষ মাস্ড়্গ ব্যবহার করা যেতে পারে। এভাবে দু’বার ফুঁ দিতে হবে। এরপর ওই ব্যক্তির বুকের ওপর, এক হাতের ওপর অন্য হাত রেখে দুই হাতের সাহায্যে চাপ দিতে হবে। এতে হার্টের অক্সিজেনযুক্ত রক্ত দেহের গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রবাহিত হবে। এভাবে ৩০ বার বুকে চাপ দেয়ার পর আবারও দু’বার মুখে মুখ লাগিয়ে ফুসফুসে বাতাস ভরে দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত চিকিৎসক, অক্সিজেন নল, অক্সিজেন ব্যাগ, সিলিন্ডার ও
অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এভাবে সিপিআর চালিয়ে যেতে হবে।
কখন সিপিআর লাগতে পারেঃ হার্ট অ্যাটাক হলে, যখন মস্তিষ্ড়্গের কোন অংশে রক্তসঞ্চালন সাময়িক বন্ধ থাকে (স্ট্রোক),
কিছু গিলে ফেলার ফলে ফুসফুসে বায়ু চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে গেলে, পুকুর বা জলে নিমজ্জন বা শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হলে, ঘাড়ে, মাথায়, পিঠে খারাপ ইনজুরি বা আঘাত পেলে, মারাত্মক তড়িতাহত হলে (অসাবধানতাবশত বৈদুøতিক লাইনে
হাত লেগে যাওয়া), ইনফেকশনজনিত গুরুতর অসুস্থতা, মারাত্মক অ্যালার্জি-জনিত প্রতিক্রিয়া।
শেষ কথাঃ জরুরি মুহূর্তে প্রথমে অসুস্থ ব্যক্তির কাঁধ ও হাত ধরে সামান্য ঝাঁকুনিসমেত জিজ্ঞেস করা যায়, ‘ভালো আছেন!’ যদি কোন উত্তর না আসে এবং আপনার কাছে সিপিআর প্রশিক্ষণের সনদ থাকে, তাহলে সিপিআর শুরু করতে পারেন।