১০ সেকেন্ডে ক্যানসার নির্ণয়ের

0
410
views

মাত্র ১০ সেকেন্ডে মানবদেহের ক্যানসার কোষ শনাক্ত করতে সক্ষম এমন একটি ডিভাইস তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী। তারা বলছেন, মাসস্পেক পেনটি মানবদেহের ক্যানসার কোষের রূপান্তর প্রক্রিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হবে। ক্যানসার কোষগুলো দ্রুত বাড়ে এবং ছড়িয়ে পড়ে। এগুলোর অভ্যন্তরীণ রসায়ন ভালো কোষগুলোর চেয়ে খুবই আলাদা। ফলে সেগুলো দ্রুত শনাক্ত করতে পারবে কলমটি।

দেশটির টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে, মাসস্পেক পেন নামের ডিভাইসটির রয়েছে আশ্চর্য ক্ষমতা।বিশেষভাবে তৈরী এই ডিভাইসটি টিউমার অপসারণের অস্ত্রোপচার আরো দ্রুত, নিরাপদ ও নির্ভুল করতে অবিশ্বাস্য ভূমিকা রাখবে। অস্ত্রোপচারের পরও কোনো ক্যানসার কোষ থেকে গেলে, তা সহজেই শনাক্ত করে দিতে পারবে কলমটি। ফলে ক্যানসারের অস্ত্রোপচার শতভাগ সফল হওয়াতে বাধা থাকবে না বললেই চলে।

বুধবার ‘সায়েন্স ট্রানস্লেশন মেডিসিন’ নামের জার্নালে এ-বিষয়ক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়। এতে দাবি করা হয়েছে, উদ্ভাবিত ডিভাইসটি ৯৬ শতাংশ নির্ভুল ফলাফল দেবে।

এতদিন ক্যানসার চিকিৎসায় শল্যচিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ভালো কোষ ও ক্যানসার কোষের মধ্যে পার্থক্য বা সীমানা বুঝে ওঠার বিষয়টি। কয়েক ধরনের টিউমারের ক্ষেত্রে ভালো ও ক্যানসার কোষের মধ্যে সীমানা বোঝা যায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তা আবছা থাকে। ফলে অস্ত্রোপচারের পরও ক্যানসার কোষ থেকে যায় এবং এতে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি বেড়ে যায়।

এখন মাসস্পেক পেন এই ঝুঁকি থেকে রোগীদের মুক্তি দেবে বলে বিশ্বাস করছেন বিজ্ঞানীরা। ঘাতকব্যধি ক্যানসার চিকিৎসায় এই কলম একটি যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করতে চলেছে।

কলমটি কিভাবে কাজ করবে- সে সম্পর্কিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সন্দেহজনক ক্যানসার কোষের সংস্পর্শে কলমটি রেখে তার ওপর এক ফোটা পানি ফেলতে হবে। এতে জীবন্ত কোষের রাসায়নিক কণাগুলো পানির ফোটায় সক্রিয়া হয়ে উঠবে। তখন ওই কলমের সাহায্যে পানি শুষে নিয়ে তা বিশ্লেষণ করা হবে। কলমটি একটি বড় স্পেকট্রোমিটারে রাখা হবে। স্পেকট্রোমিটার এমনটি যন্ত্র, যা প্রতি সেকেন্ডে হাজার হাজার রাসায়নিক কণার ভর নির্ণয় করতে সক্ষম। এটি এমন এক ধরনের রাসায়নিক ছাপ তৈরি করবে, যা দেখে চিকিৎসকরা বুঝে নেবেন, কোনটি ভালো আর কোনটি ক্যানসার কোষ।