অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক — ভালো থাকুন

অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক

নিচতলায় ভাঙাড়ি ও পুরনো কাগজ বেচাকেনার গুদাম। দুর্গন্ধময় পরিবেশ ডিঙিয়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠলেই পাওয়া যাবে ‘চৌধুরী জেনারেল হাসপাতাল’। রাজধানীর পুরান ঢাকার ৭২/৭৫ নম্বর মাজেদ সরদার রোডের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলাজুড়ে হাসপাতালটির অবস্থান। সাইনবোর্ডে ইমার্জেন্সি ও আউটডোর সার্ভিস, জেনারেল সার্জারি বিভাগ, এনআইসিইউ, ডায়ালাইসিস সেন্টারসহ অন্তত ১৪টি জটিল রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়- এমন বিভাগের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ ১২ শয্যার এ হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার ও পরীক্ষাগারই নেই।

 
 

আহসান উল্লাহ নয়ন নামে পুরান ঢাকার একজন বাসিন্দা এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা সেবার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, জানুয়ারি মাস থেকে তারা হাসপাতালটি চালু করেছেন। যেসব সেবার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে সংযোজন করা হবে। আপাতত স্বল্প পরিসরে কিছু সেবা দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ডা. কামরুল ইসলাম নামে একজন চিকিৎসক এ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন, তখন এটির নাম ছিল ‘সেবা জেনারেল হাসপাতাল’। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেন। এরপর সেখানে গড়ে তোলা হয় ‘চৌধুরী জেনারেল হাসপাতাল’।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের দ্বিতীয় তলায় হাসপাতালটির অবস্থান। দু’জন ব্যক্তি রিসিপশনে বসে আছেন। তাদের একজনের নাম রাজীব। হাসপাতালে কেউ আছেন কি-না জানতে চাইলে রাজীবের পাল্টা প্রশ্ন, কাকে লাগবে? কোনো রোগী আছে? প্রসূতির সিজার করতে পারবেন কি-না জানতে চাইলে রাজীব বলেন, ভালো চিকিৎসকের মাধ্যমে সিজারের ব্যবস্থা করা হয়। আপনি রোগী নিয়ে আসেন। খরচের বিষয়ে তিনি বলেন, পপুলার, ল্যাবএইডসহ বড় বড় হাসপাতালে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা বিল নেয়। কিন্তু আমরা মাত্র ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে আপনাকে সিজারের ব্যবস্থা করে দেব। কোন চিকিৎসক সিজার করেন জানতে চাইলে রাজীব বলেন, ঢাকা মেডিকেল, মিটফোর্ড হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় ডিগ্রিধারী চিকিৎসকরা এখানে সিজার করেন। আপনি রোগী নিয়ে এলে ডিউটি ডাক্তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন। পরে একজনকে বিশেষজ্ঞকে ডেকে নিয়ে আসব। আপনি নিশ্চিন্তে আমাদের হাসপাতালে সিজার করাতে পারেন। তার সঙ্গে কথোপকথনের মধ্যেই তিনজন নারী হাসপাতালে প্রবেশ করলেন। চলি্লশোর্ধ্ব এক নারী বললেন, ‘স্যার উনি রোগী। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেক হয়রানি হইছে। ভালো চিকিৎসার জন্য আপনাদের কাছে নিয়ে আসছি।’ পরে হাসপাতালের নিচতলায় ওই নারীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি ঢামেক হাসপাতালে চাকরি করেন। নিজের নাম ও হাসপাতালের কোন বিভাগে চাকরি করেন তা জানাতে রাজি হননি। ওই নারী জানান, ‘হাসপাতালে রোগী দিলে ১০ থেকে ২০ শতাংশ কমিশন পাওয়া যায়। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসায় ভোগান্তির কারণে অনেকে বেসরকারি হাসপাতালে চলে যায়। অনেকে আমাদের পরামর্শ চায়। কম টাকায় ভালো সেবা দেবে- এমন হাসপাতালে তখন আমরা রোগীদের নিয়ে আসি।’

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়. মিটফোর্ড হাসপাতালকে কেন্দ্র করে চাঁনখারপুল, জিন্দাবাহার, নবাব কাটারা, আরমানিটোলা, জনসন রোড, সদরঘাট, চিত্তরঞ্জন এভিনিউ, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর পুরান ঢাকার অলিগলিতে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে, যেগুলো কমিশনের বিনিময়ে রোগী ভাগিয়ে আনার জন্য পরিচিত। ঢাকা মেডিকেলের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় আল-আরাফাত জেনারেল হাসপাতাল, আল-কেমি ক্লিনিক, ডালাস ডেন্টাল কেয়ার, নিরাময় ক্লিনিক, ডক্টরস ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল, মুনলাইট হাসপাতাল, ঢাকা জেনারেল হাসপাতাল, নিউ ঢাকা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিসান হেলথ কেয়ার নামে কয়েকশ’ হাসপাতাল-ক্লিনিক গড়ে তোলা হয়েছে। সরেজমিনে পুরান ঢাকার এসব হাসপাতাল ঘুরে যে চিত্র পাওয়া গেছে, তাতে আঁতকে উঠতে হয়। মানুষের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে স্বাস্থ্যসেবার নামে খোদ রাজধানীর আদি এই অংশের অলিগলিতে অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক খুলে কী ভয়ঙ্কর প্রতারণাই না করা হচ্ছে! স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে পথে বসতে হচ্ছে ভুক্তভোগীদের। বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক পরিচালনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেসব শর্ত নির্ধারণ করেছে, তা পূরণ করছে না এসব প্রতিষ্ঠান। একশ্রেণির দালালচক্র কমিশনের বিনিময়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী বাগিয়ে এসব হাসপাতালে নিয়ে আসছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে চানখাঁরপুলের ১০/১ নবাব কাটারা রোডের তৃতীয় তলায় ‘চানখাঁরপুল জেনারেল হাসপাতাল’ গড়ে তুলেছেন শফিকুর রহমান ও আবু বকর সিদ্দিক নামে দুই সহোদর। হাসপাতালের সাইনবোর্ডে সব রকম চিকিৎসা সুবিধার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নেই। সাইনবোর্ডে কমপক্ষে ২০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নাম সাঁটানো থাকলেও তাদের সবার নামে অন-কল লেখা রয়েছে। হাসপাতালটিতে গিয়ে একজন চিকিৎসকও পাওয়া যায়নি।

শফিকুর রহমান বলেন, ২০০০ সালে তারা এ হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমানে ২৫টি শয্যা রয়েছে। সেবার বিষয়ে তিনি বলেন, সব ধরনের সার্জারির চিকিৎসা তার হাসপাতালে দেওয়া হয়। সরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের দীর্ঘ লাইন থাকে। মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও রোগীরা অস্ত্রোপচার করাতে পারেন না। এসব রোগী তাদের হাসপাতালে আসে। স্বল্প মূল্যে তারা এসব রোগীর অস্ত্রোপচার করেন বলে জানান শফিকুর রহমান।

চানখাঁরপুল থেকে আজিমপুরের দিকে যেতে ৮১/বি-২ নম্বর হোসনী দালান রোডের পুরনো ও বিবর্ণ ভবনের আরাফাত জেনারেল হাসপাতালের নিচতলা ময়লা পানিতে সয়লাব। ওই পানি ডিঙিয়ে দ্বিতীয় তলায় হাসপাতালে যেতে হয়। প্রয়োজনীয় কোনো যন্ত্রপাতি নেই। কক্ষগুলোর অবস্থাও বেশ জরাজীর্ণ। হাসপাতালজুড়েই ময়লা-আবর্জনাময় পরিবেশ। এ হাসপাতালটির মালিক ডা. মতিন। তাকে খোঁজ করতেই রিসিপশনে থাকা এক নারী জানান, স্যার ওটিতে আছেন। দেখা করতে চাইলে দুপুর ১টার পর আসেন। পরে ডা. মতিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো মুনাফা পাননি। দরিদ্র মানুষকে নামমাত্র মূল্যে সেবা দেন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ে অনেক রোগী তার কাছে আসেন।

হাসপাতালের বিপরীত পাশে এক ওষুধের দোকানির সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ঢাকা মেডিকেল থেকে একশ্রেণির দালাল রোগী বাগিয়ে এসব হাসপাতালে নিয়ে যায়। স্পেশাল আয়া থেকে শুরু করে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের বেশিরভাগ রোগী বাগানোর সঙ্গে জড়িত বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনার অনুমোদন চেয়ে তিন সহস্রাধিক ব্যক্তি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেন। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই পরবর্তী সময়ে আর যোগাযোগ করেননি। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের সংখ্যা ৬১০টি এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ৮৭৯টি। কিন্তু বাস্তবে এ সংখ্যা কয়েক হাজার। রাজধানীর অলিগলিতে স্বাস্থ্যসেবার নামে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরকারের তেমন কোনো জোরালো পদক্ষেপ নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ করার বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের কথা বললেও কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. একেএম সাইদুর রহমান বলেন, অবৈধ হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধে সরকার জোরালো পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। অনুমোদনহীন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান বন্ধে সারাদেশে ভিজিল্যান্স টিম গঠন ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য সব বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ অভিযান শুরু হবে বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সারাদেশে গড়ে ওঠা অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করার বিষয়টি তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। যত শক্তিশালী ব্যক্তিই হোক না কেন, স্বাস্থ্যসেবার নামে কাউকে বাণিজ্য করতে দেওয়া হবে না। শিগগিরই অভিযান শুরুর কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো স্বাস্থ্যসেবার বড় চাপ সামাল দেয়। এসব হাসপাতাল বন্ধ করে দিলে সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়বে। সেজন্য সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

ROOT

করোনার ৩ নতুন উপসর্গ হচ্ছে সর্দি, বমিভাব আর ডায়রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা (সিডিসি) করোনাভা্রাসের নতুন তিনটি উপসর্গ চিহিৃত করেছে। নতুন ৩ উপসর্গ হচ্ছে সর্দি, বমিভাব আর ...
Read More

করোনায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামানের মৃত্যু

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামান মারা গেছেন। ...
Read More

করোনা উপসর্গ নিয়ে যুবকের মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে ফিরোজ আল-মামুন (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ফিরোজ উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা গ্রামের মৃত ...
Read More

অতিরিক্ত অর্থে মিলছে অক্সিজেন

রাজশাহীতে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আর এর চাইতেও বেশি আছে করোনা উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগীর সংখ্যা। এ ধরনের ...
Read More

উপসর্গে ওসমানী মেডিকেলের অধ্যাপক ডা. গোপাল শংকরের মৃত্যু

সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. গোপাল শংকর দে করোনাভাইরাসের ...
Read More

চীনের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হতে পারে বাংলাদেশে

করোনাভাইরাস নির্মূলে চীন আবিষ্কৃত সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। ...
Read More

ক‌রোনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টার মৃত্যু

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী মারা গেছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে এভার কেয়ার ...
Read More

রাজশাহীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে দু’জনের মৃত্যু,

প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে মারা গেছেন একজন। আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে করোনার উপসর্গ নিয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল ...
Read More

করোনায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বেসরকারি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি ...
Read More
%d bloggers like this: