কন্টিকারিত উদ্ভিদ ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে

76

কন্টিকারিতে Tropane alkaloid থাকায় এটি ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। কোমরে ব্যথা হলে এবং প্রস্রাব মাঝে মাঝে থেমে থেমে হলে ১০ গ্রাম কন্টিকারি ডাল এবং পাতা, ৫ গ্রাম বেগুনের মূল ৪ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে এর সঙ্গে ৫০ গ্রাম সাদা দই মিশিয়ে সকালে কিছু খাওয়ার পর খেতে হবে। তাতে উপকার পাওয়া যাবে।

কন্টিকারির ১০ গ্রাম ডাল ও তিনটি পাতা ৮ কাপ পানিতে সেদ্ধ করে অর্ধেক থাকতে নামিয়ে ছেঁকে ওই ক্বাথ দিয়ে মুগ ডাল রান্না করে খেলে কাশির উপশম হয়। শ্বাসরোগ জটিল হলে কন্টিকারি গাছ ফলমূলসহ ২৫০ গ্রাম থেঁতো করে ২ লিটার পানিতে সেদ্ধ করে আধা লিটার থাকতে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে ক্বাথ আলাদা করে আবার জ্বাল দিয়ে ঘন চিটাগুড়ের মতো করতে হবে। তারপর ঘন ক্বাথের সঙ্গে সমপরিমাণ মধু মিশিয়ে দিনে কয়েকবার একটু একটু করে চেটে ৫-৬ দিন খেতে হবে। এতে হাঁপের টান এবং কাশি থাকলেও উপশম হবে।

গেঁটেবাতে কন্টিকারি এবং সজনের ছাল সমপরিমাণ নিয়ে ছেঁচে একটু গরম করে ফোলা জায়গায় প্রলেপ দিলে সেরে যাবে। তা ছাড়া চোখ ওঠায় ২-৩ গ্রাম পরিমাণ কন্টিকারির মূল ছেঁচে তার সঙ্গে ২৫০ মিলিলিটার ছাগলের দুধ ও সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে সেদ্ধ করে অর্ধেক হলে নামিয়ে ছেঁকে ওই দুধ ব্যবহার করলে দুই-একদিনের মধ্যেই চোখ ওঠা সেরে যাবে।

অঞ্চলভেদে কন্টিকারিকে কন্টিকারিকা বা কন্টকিনি বলা হয়। এটি ঘন কন্টকময় মাটিতে গড়ান গুল্ম। পাতা ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার লম্বা ও ডিম্বাকৃতি। পাতা এবং শাখা-প্রশাখা সবুজ বা হলদে সবুজ রঙের হয়। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে গাছটি বেড়ে ওঠে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে ফুল ও ফল হয়। গাঢ় নীল ফুলের মাঝখানে হলুদ পরাগধানী। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে হলুদ বা লালচে হলুদ হয়।