করাচিতে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে আরও ৯ জনকে সংক্রমিত

31

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পাকিস্তানে এখন পর্যন্ত সংক্রমিত হয়েছে ৬৪৫ জন। এরমধ্যে প্রাণহানী হয়েছে তিন জনের। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পরমর্শ দেয়া হলেও করাচিতে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে আরও ৯ জনকে সংক্রমিত করেছেন করোনা আক্রান্ত এক নারী। খবর পাকিস্তান টুডের।

সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি করাচিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেন একই পরিবারের ৯ সদস্য। সেখান থেকে ফেরার পর তাদের শরীরে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে। পরে হাসপাতালে গিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হলে তাদের সবার শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া যায়। বর্তমানে তাদের সবাইকে হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই ৯ জন যে বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন, সেখানে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত এক নারী উপস্থিত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই নারীর থেকেই সংক্রমিত হয়েছেন তারা।

পাকিস্তান টুডে আরও জানায়, সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছিলেন করোনা আক্রান্ত ওই নারী। এই ঘটনার পর তার পরিবারের সদস্যদেরও কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শদাতা জাফর মির্জা জানান, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবেলার জন্য চীনের চিকিৎসকদের কাছ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন পাকিস্তানের চিকিৎসকরা।

তিনি আশা করেন, যদি সবাই সামাজিক দূরত্ব ও নিয়ম মেনে চলে তাহলে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস মোকাবেলায় তারা সক্ষম হবেন।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে নতুন করে ২৮ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে গত ডিসেম্বরে শুরু হওয়া ভাইরাসটির প্রকোপে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪ হাজার ৫শ জন। এর মধ্যে বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ২ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ জন। যাদের বড় একটি অংশের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ৯০ হাজার মানুষ।

আক্রান্তদের মধ্যে নতুন করে ১ হাজার ৮৬৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। যেখানে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে ইতালি। আক্রান্ত ও প্রাণহানির দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা ইউরোপের দেশটি। যেখানে একদিনে প্রাণ হারিয়েছেন ৮০০ জন। এ নিয়ে সেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৩২ জনে।

দেশটিতে নতুন করে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছয় হাজার ৫৫৮ জনের শরীরে ছড়িয়েছে। যাতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার পাঁচশ ৫৭৮ জনে। তবে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ছয় হাজার ৭২ জন।