করোনা বাতাসে ২৭ ফুট দূরে যেতে পারে বাঁচে কয়েক ঘণ্টা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বলেছিল করোনাভাইরাস ‘এয়ারবোর্ন’ নয় অর্থাৎ, বাতাসে ভেসে বেশিদূর যেতে পারে না। তবে সম্প্রতি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক লিদিয়া বোরুইবা দাবি করেছেন, রেসপিরেটারি ড্রপলেটকে সম্বল করে বাতাসে অন্তত ২৭ ফুট ভেসে যেতে পারে করোনা। কয়েক ঘণ্টা বাতাসে বেঁচেও থাকতে পারে।

লিদিয়া বলেছেন, মানুষের হাঁচি-কাশি বা থুতু থেকেই ছড়াচ্ছে ভাইরাস। তবে যে রেসপিরেটারি ড্রপলেটে চেপে ভাইরাস এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছুটে যাচ্ছে, সে ড্রপলেট কিন্তু অনেকটাই দূর পর্যন্ত যেতে পারে। তিন ফুট বা ছয় ফুট, নয় এই ভাইরাস ড্রপলেট একেবারে ২৭ ফুট পর্যন্ত যেতে পারে।

‘আমেরিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন’র জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। লিদিয়ার দাবি, ভাইরাস ড্রপলেট যেমন কোনো কিছুর উপরিভাগে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে, তেমনি বাতাসেও কয়েক ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে পারস্পরিক দূরত্ব ছয় ফুট নয়, অনেক বেশি রাখা দরকার। কারণ দেখা গেছে, এই ভাইরাল স্ট্রেনের ভেসে যাওয়ার ক্ষমতা অনেক বেশি।

নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনের রিপোর্টকে সামনে রেখেই হু বলেছিল, আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি-থুতুকে কেন্দ্র করে অর্থাত্‍ ‘রেসপিরেটারি ড্রপলেট’র মাধ্যমে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়াচ্ছে ভাইরাস। কিন্তু এই রেসপিরেটারি ড্রপলেট এতটাই ভারী যে এটি বাতাসে বেশিক্ষণ ভেসে থাকতে পারে না। মাটিতে বা কোনো সারফেসে জমে থাকে। কিন্তু যদি আক্রান্ত ব্যক্তির খুব কাছাকাছি কেউ থাকে (এক মিটারের কম দূরত্বে) তাহলে সেই ড্রপলেট সুস্থ ব্যক্তির শরীরের সংস্পর্শে এসে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটায়। আর এইভাবেই মানুষের থেকে মানুষে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি হচ্ছে।

গবেষক লিদিয়া বলছেন, যে কোনো আকারের রেসপিরেটারি ড্রপলেটই হোক না কেন, ভাইরাসকে সঙ্গে নিয়ে সেই ড্রপলেট বহুদূর পর্যন্ত ছুটে যেতে পারে। সার্স-কভ-২ এমনভাবেই নিজেকে বদলেছে, যে এটি বাতাসে কয়েক ঘণ্টা বেঁচে থাকতে পারে। মানুষের শরীরে ঢুকতে পারলে সেখানে তার ইনকিউবেশন পিরিয়ড সাত থেকে ১৪ দিন অথবা ২৫ দিন। কাজেই সচেতনতা অনেক বেশি দরকার। সূত্র: দ্য ওয়াল।

ROOT

%d bloggers like this: