কানাডায় অনুমোদিত হলো গাঁজা

280

বিশ্বে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে গাঁজা বিক্রি ও ব্যবহারের আইনগত অনুমোদন দিল কানাডা। ১৯২৩ সাল থেকে নিষিদ্ধ থাকার পর বুধবার মধ্যরাত থেকে প্রথমবারের মতো দেশটি বিনোদনের জন্য গাঁজার ব্যবহার ও বিক্রির অনুমোদন দেয়। ২০০১ সাল থেকে দেশটিতে চিকিত্সার কাজে এর ব্যবহার বৈধ ছিল। তবে দেশটিতে গাঁজার ব্যবহার আইনগতভাবে স্বীকৃতি হলেও অননুমোদিত দোকান থেকে কেনা এবং বাড়িতে চারটির বেশি গাছ লাগানোকে অবৈধ রেখেছে।

প্রথম দেশ হিসেবে উরুগুয়ে ২০১৩ সালে গাঁজার ব্যবহার আইনগতভাবে অনুমোদন দেয়। ইউরোপের অনেক দেশেই চিকিত্সার কাজে গাঁজার ব্যবহার অনুমোদিত। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি রাজ্যও গাঁজা নিষিদ্ধ রাখার বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। এ অবস্থায় ২০১৫ সালে নির্বাচনী প্রচারণায় গাঁজা বৈধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ক্ষমতাসীন দল লিবারেল পার্টির নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেছেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে গাঁজার ব্যবহারকে অবৈধ বিবেচনা করা এখন অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ এই মাদক গ্রহণ করে থাকে।

ট্রুডো আরো বলেছেন, ছোটদের নাগালের বাইরে রাখতে এবং অপরাধীদের এই ব্যবসা থেকে লাভবান হওয়ার সুযোগ বন্ধ করে নতুন আইনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে গাঁজা বিক্রি করে প্রতিবছর ৪০ কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব আয়ের আশা করছে কানাডার কেন্দ্রীয় সরকার। দেশটির নতুন আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্করা অনুমোদনপ্রাপ্ত দোকান ও উত্পাদনকারীদের কাছ থেকে গাঁজার তেল, বীজ ও গাছ কিনতে পারবে। এছাড়া প্রকাশ্যে নিজের সঙ্গে ৩০ গ্রাম পর্যন্ত গাঁজা রাখতে পারবে। যদিও এখনই  গাঁজাযুক্ত খাবার কেনা যাবে না। অপরদিকে আইন লঙ্ঘনের সাজাও রাখা হয়েছে বেশ কঠোর। অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে গাঁজা বিক্রি করতে গিয়ে ধরা পড়লে বিক্রেতার ১৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।