গাইবান্ধার ৩০৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক যখন খুশি তখন বন্ধ — ভালো থাকুন

গাইবান্ধার ৩০৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক যখন খুশি তখন বন্ধ

একটি কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি), একজন হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট (এইচএ) ও একজন ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট (এফডাব্লিউএ) কাজ করেন।

সিএইচসিপি ও এইচএ’রা সিভিল সার্জনের অধীনে ও এফডাব্লিউএ’রা কাজ করেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের অধীনে। জেলার সাত উপজেলার ৩০৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক (সিসি) চলছে ওষুধ, কক্ষ ও আসবাবপত্র সংকট, ভবনে বিদ্যুৎ না থাকা, ছাদ চুয়ে কক্ষে পানি ঢোকা, টিউবওয়েলের পানি আয়রন ও মেঝে দেবে যাওয়াসহ নানান সমস্যা নিয়ে।

জেলায় সিএইচসিপি পদে ৩০৫ জন থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন ২৯২ জন, শুন্য রয়েছে ১২ জন ও একজন সাময়িক বরখাস্ত হয়ে রয়েছেন। এইচএ পদে ৩৯০ জনের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৩৩১ জন, শুন্য রয়েছেন ৫৯ জন আর এফডাব্লিউএ পদে ৪৯০ জনের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৩১৪ জন। এখানে শুন্য রয়েছেন ১৭৬ জন। গাইবান্ধা সদর ও সাঘাটা উপজেলার ১০ জন এইচএ দীর্ঘদিন থেকে রয়েছেন চার বছরের প্রশিক্ষণে।

প্রতি সপ্তাহে ক্লিনিকে দুই থেকে তিনদিন করে এইচএ ও এফডাব্লিউএ বসার কথা থাকলেও অনেকে থাকেন না। ক্লিনিকগুলোতে সিএইচসিপি না থাকা এবং এইচএ ও এফডাব্লিউএ কম বসায় রোগীরা স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

সিএইচসিপির সঙ্গে সার্বক্ষণিক একজন কর্মী হলে বেশ ভালো হয় বলে জানান সিএইচসিপিরা। এসব ক্লিনিকে কক্ষ রয়েছে দুইটি। একটিতে বসেন সিএইচসিপি ও অন্যটি গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তাই আর একটি কক্ষ নির্মাণ দরকার।

ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি ক্লিনিক সরেজমিনে দেখতে গেলে তিনটিই বন্ধ পাওয়া যায়। গাইবান্ধার সাত উপজেলার ২০টি কমিউনিটি ক্লিনিক সরেজমিনে ঘুরে এসব কথা জানা গেছে।

ফুলছড়ি উপজেলা
উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ১৮টি। সিএইচসিপি আছেন ১৭ জন। শুন্য রয়েছেন একজন। এইচএ আছেন ৩১ জন। শুন্য রয়েছেন চারজন। এফডাব্লিউএ আছেন ২২ জন। শুন্য রয়েছেন ১৫ জন। ১৮টি সিসির মধ্যে এ্যারেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নে দুটি, গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারী ও ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ী সিসিতে কোনো ওষুধ দেওয়া হয়না।

সেগুলোতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওষুধ দিয়ে চালাতে হচ্ছে। ফজলুপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খাটিয়ামারি সিসিতে এইচও এবং এফডাব্লিউএ ক্লিনিক খোলেন। তাদের যেদিন বেশি কাজ থাকে গ্রামগুলোতে। তখন ক্লিনিক বন্ধ থাকে।

 

প্রতি ছয় হাজার মানুষের জন্য একটি কমিউনিটি ক্লিনিক হলেও উড়িয়া ইউনিয়নে ২৫ হাজার লোকের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে মাত্র একটি। এছাড়া উদাখালিতে প্রায় ২৫ হাজার ও ফুলছড়িতে প্রায় ২০ হাজার লোকের জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে দুইটি করে। এই উপজেলায় জনসংখ্যা বিবেচনা করে আরও নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করা দরকার।

এবিষয়ে উড়িয়া ইউপি চেয়ার্যম্যান মাহাতাব উদ্দিন সরকার বলেন, একটি ক্লিনিক করার জন্য জায়গা পাওয়া গেছে। আরও একটি জায়গা সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

গত ২৮ অক্টোবর বেলা ১১টায় কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর, সাড়ে ১১ টায় কঞ্চিপাড়া (সমিতির বাজার) ও দুপুর একটায় উড়িয়া ইউনিয়নের মশামারী কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ পাওয়া গেছে।

হোসেনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি সাইফুল ইসলাম রুবেল বলেন, সেদিন আমি ছুটিতে ছিলাম। তাই ক্লিনিক বন্ধ ছিল। হোসেনপুর গ্রামের শাকিব সরকার বলেন, আমার মা কয়েকদিন থেকে অসুস্থ কিন্তু ক্লিনিকে গিয়ে ফেরত এসেছে। মশামারি গ্রামের আসলাম মিয়া বলেন, আমি রিকসা চালাই। ১০ দিন থেকে আমার মেয়েটার জ্বর, সর্দি ও কাশি ছিল। কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে ওষুধ না পেয়ে ফেরত আসি। পরে বাজারের একটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হয়েছে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা
সাদুল্লাপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ৩৯টি। সিএইচসিপি আছেন ৩৮ জন। শুন্য রয়েছেন একজন। এইচএ আছেন ৪২ জন, শুন্য রয়েছেন আটজন। এফডাব্লিউএ আছেন ৪২ জন, শুন্য রয়েছেন ২৩ জন। এর মধ্যে শুধু খোর্দ্দকোমরপুরে রয়েছে দুইটি ক্লিনিক। এই ইউনিয়নের জনসংখ্যা অনুযায়ী আরও একটি ক্লিনিক দরকার। এ ছাড়া অন্যসবগুলোতে তিনটি থেকে চারটি করে ক্লিনিক রয়েছে। সিএইচসিপির পদ শুন্য রয়েছে নলডাঙ্গা ইউনিয়নের খামার দশলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে। এই সিসিতে এইচএ ও এফডাব্লিউএ বসেন। এতে করে তাদের উপর বেশি চাপ পড়ছে। গ্রামগুলোতে কাজের চাপ বেশি হলে তারা সিসিতে বসতে পারেন না। তখন রোগীরা সেবা নিতে এসে ফেরত যান। তাই দ্রুত এখানে একজন সিএইচসিপি দরকার।

গত ২৯ ও ৩০ অক্টোবর দুপুরে সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জয়েনপুর ও খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের পাইকা কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, সিএইচসিপি জয়নাল আবেদীন ও মরিয়ম বেগম রোগের বর্ণনা শুনে রোগীদের ওষুধ দিচ্ছেন।

 

এখানে ওষুধ নিতে এসেছিলেন জয়েনপুর গ্রামের সাজু মিয়া (৪৫)। তিনি বলেন, চারদিন থেকে সর্দি ও জ্বর। কিছুতেই অসুখ ছাড়ছে না। সামান্য লেবারের কাজ করে সংসার চালাই। অসুখের কারণে কাজও এখন বন্ধ। এখানে এসেছিলাম ওষুধ নিতে কিন্তু ওষুধ না নিয়েই ফিরে যেতে হলো।

মরিয়ম বেগম বলেন, এখানে বিদ্যুৎ নাই। টিউবওয়েল ও টয়লেট নষ্ট। বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে কক্ষে পানি প্রবেশ করে বিভিন্ন জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে হচ্ছে। এখানে স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারী অবসরে গেছেন। অন্য ক্লিনিকের দুইজন এখানে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছে। তারা সপ্তাহে একদিন আসে। ফলে রোগীদের কাঙ্খিত সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গাইবান্ধা সদর
সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ৫২টি। সিএইচসিপি আছেন ৫০ জন। শুন্য রয়েছেন দুইজন। এইচএ আছেন ৫২ জন। শুন্য আটজন। এফডাব্লিউএ আছেন ৫৩ জন। শুন্য রয়েছেন ২৮ জন। এরমধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এইচএ ছয়জন রয়েছেন প্রশিক্ষণে।

রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সোনারপাড়া ও মোল্লারচর ইউনিয়নের মাইজবাড়ী সিসিতে কোনো সিএইচসিপি নেই। ফলে সেখানে এইচএ ও এফডাব্লিউএ রোগীদের সেবা দেন। গ্রামগুলোতে কাজের চাপ বেশি হলে তারা সিসিতে বসতে পারেন না। তখন রোগীরা সেবা নিতে এসে ফেরত যান।

৫২টি সিসির মধ্যে সবচেয়ে কম দুইটি করে রয়েছে ঘাগোয়া, কামারজানি ও মোল্লারচর ইউনিয়নে। জনসংখ্যা বিবেচনা করলে এসব ইউনিয়নের আরও দুই-তিনটি করে সিসি দরকার। ফলে কাঙ্খিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ।

গত ২৯ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টায় সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের কাজলঢোপ সিসিতে গিয়ে দেখা যায়, সিএইচসিপি রাহাতুন জান্নাত বসে আছেন। সেখানে তিনজন শিশু কোলে নিয়ে চারজন মধ্যবয়সী নারী ও তিনজন বৃদ্ধা এলো। এরমধ্যে সবাই ওষুধ নিয়ে গেল। এরপর দুপুর সোয়া ১২টায় একই ইউনিয়নের চকগয়েশপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সিএইচসিপি ফিরোজ কবীর তার কক্ষে নেই। এরপর তাকে মুঠোফোনে ডাকা হলে তিনি চলে আসেন। পরিবার কল্যাণ সহকারী রুপালী বেগমের ক্লিনিকে থাকার কথা থাকলেও তিনি আসেননি আর স্বাস্থ্য সহকারী শাকিলা জান্নাত দিশা রয়েছেন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা দক্ষিণ মনদুয়ার গ্রামের কবিতা বেগম (২৭) বলেন, গতকাল (২৮ অক্টোবর) থেকে গলা ব্যথা আর জ্বর। ঘরের কাছে কমিউনিটি ক্লিনিক থাকায় ওষুধ নিতে এসেছিলাম কিন্তু পেলাম না। সিএইচসিপি প্রেসক্রিপশন লিখে দিয়ে বাহিরে থেকে ওষুধ কিনে খেতে বলেছেন।

 

এরপর ৩০ অক্টোবর সকাল পৌনে ১০টায় সাহাপাড়া ইউনিয়নের শিবপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় ক্লিনিকটি বন্ধ। আশেপাশের গ্রামের কয়েকজন রোগী এসেছিলেন ওষুধ নিতে। কিন্তু বন্ধ দেখে তারা ফেরত যাচ্ছেন। ক্লিনিকের সামনের রাস্তায় স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার সময় ভ্যান নিয়ে থামেন আনছার আলী। তিনি বলেন, সিএইচসিপি আপাকে প্রতিদিন আমি তুলসীঘাট বাজার থেকে ভ্যানে করে ক্লিনিকে নিয়ে আসি। আবার ২টা থেকে আড়াইটার দিকে ভ্যানে করে তুলসীঘাট বাজারে পৌঁছে দিই।

শিবপুর গ্রামের মোর্শেদা বেগম (৪৬) বলেন, চারদিন থেকে আমার নাতির সর্দি, জ্বর ও কাশি। ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে এনে খাওয়ালেও অসুখ ভালো হয়না। সরকারি ওষুধ খেলে তবেই ভালো হয়। গতকাল গিয়েছিলাম ওষুধ আনতে গিয়ে পাইনি। এর আগেও দুইদিন গিয়েছিলাম কিন্তু পাইনি। পরে অন্য একজনের বাচ্চার জন্য আনা ওষুধ ধার করে নিয়ে নাতিটাকে খাওয়াচ্ছি।

গত ২ নভেম্বর সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে বাদিয়াখালী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ দেখা যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সিএইচসিপি মামুনুর রশিদ সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন করে ক্লিনিক খোলেন। ওই সময় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি তিনি থাকেন না।

পলাশবাড়ী উপজেলা
এই উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ৩৩টি। সিএইচসিপি আছেন ৩১ জন। শুন্য রয়েছেন দুইজন। একজন সিএইচসিপি সাময়িক বরখাস্ত হয়ে রয়েছেন। এইচএ আছেন ৩২ জন। শুন্য আটজন। এফডাব্লিউএ আছেন ৩৬ জন। শুন্য রয়েছেন ১৮ জন। পবনাপুর ইউনিয়নের পূর্বগোফিনাথপুরে প্রায় ১৭ মাস, মহদীপুর ইউনিয়নের ছোট ভগবানপুরে প্রায় ১৬ মাস ও দুর্গাপুর সিসিতে তিনমাস ধরে নেই সিএইচসিপি।

বেতকাপা ইউনিয়নের ডাকেরপাড়া সিসির সিএইচসিপি মাছুমা আক্তার ছোট ভগবানপুরে দুইদিন গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেন। এই দুইদিন আবার ডাকেরপাড়া সিসি বন্ধ থাকে। ফলে অনেক রোগী এসে সেবা না পেয়ে ফেরত যান। পূর্বগোফিনাথপুর ও দুর্গাপুর সিসিতে এফডাব্লিউএ ও এইচএ চিকিৎসা সেবা দেন। গ্রামগুলোতে যেদিন কাজের চাপ বেশি থাকে তখন কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ থাকে। এতে করে সেবা নিতে আসা রোগীরা ফেরত যান।

গত ৩০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের মোস্তফাপুর ও ৪ নভেম্বর সকাল সোয়া ১০টায় হরিনাবাড়ী সিসির এইচএ অপূর্ব কুমার সরকার ও এফডাব্লিউএ শাপলা খাতুনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা আসেননি।

মোস্তফাপুর সিসির সিএইচসিপি মাহমুদুন্নবী মামুন বলেন, এক কিটবক্সের ওষুধ দুইমাস চালাতে হলেও তা দেড় মাসেই শেষ হয়। রোগীদের একা সেবা দিতে সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। আর একজন করে সার্বক্ষণিক সহকর্মী দরকার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে।

হরিনাবাড়ী সিসির সিএইচসিপি এস এম কামাল হোসেন বলেন, সপ্তাহে তিনদিন এফডাব্লিউএ ও এইচএ মো. আল আমিন প্রধানের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা মাসে মাত্র দুই থেকে তিনদিন উপস্থিত থাকেন। সেদিন এসে সারা মাসের হাজিরা করেন।

৩০ অক্টোবর দুপুর সোয়া একটায় মহদীপুর ইউনিয়নের ঝালিঙ্গি সিসির সিএইচসিপি মো. লিখন মন্ডল বলেন, যে ওষুধ পাই তা ভাগ করে প্রতিদিন রোগীদের দেই। এছাড়া অফিসিয়াল রেজিস্ট্রারের কাজকর্মও দুপুর একটার মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। আর দুপুরে পর কোনো রোগীও আসেনা। তাই ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যেই ক্লিনিক বন্ধ করি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক (সিসি) রয়েছে ৬১টি। সিএইচসিপি আছেন ৫৮ জন। শুন্য রয়েছেন তিনজন। এইচএ আছেন ৭২ জন। শুন্য রয়েছেন ১৩ জন। এফডাব্লিউএ আছেন ৬৯ জন। শুন্য রয়েছেন ২৮জন। এরমধ্যে সবচেয়ে কম তিনটি করে সিসি রয়েছে বেলকা ও ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে।

 

জনসংখ্যার দিক থেকে বেলকায় আরও চারটি এবং ধোপাডাঙ্গায় দুইটি সিসি দরকার। শুন্যপদ রয়েছে তিনটি। সেগুলো হচ্ছে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগিরি, সর্বানন্দ ইউনিয়নের তালুক সর্বানন্দ ও চন্ডিপুর ইউনিয়নের মাদারের ভিটা সিসি। এসব সিসিতে এইচএ ও এফডাব্লিউএ রোগীদের সেবা দেন। গ্রামগুলোতে কাজের চাপ বেশি হলে তারা সিসিতে বসতে পারেন না। তখন রোগীরা সেবা নিতে এসে ফেরত যান।

গত ১ নভেম্বর বেলা সোয়া ১১টায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বোয়ালী কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় সেখানে রয়েছেন একজন বৃদ্ধ, দুইজন বৃদ্ধা, দুইজন মহিলা ও একজন শিশু রোগী। সিএইচসিপি ফাহমিনা আফরিন বলেন, ক্লিনিকে এইচএ সেলিনা খাতুনের সপ্তাহে দুইদিন বসার কথা থাকলেও একদিন বসেন। ক্লিনিকের সীমানা প্রাচীর না থাকায় টিউবওয়েলটি চুরি হয়ে গেছে। এখানে ওষুধ নিতে আসা বোয়ালী গ্রামের আহেলা বেগম (৪৬) বলেন, গতকাল ওষুধ নিতে এসে একবার ঘুরে গেছি। আজ ওষুধ পেলাম।

দুপুর পৌনে ১২টায় শান্তিরাম ইউনিয়নের পাঁচগাছী শান্তিরাম কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি রেজাউল করিম বলেন, কক্ষে ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে ঢোকে। প্রতিদিন এই ক্লিনিকে শতাধিক রোগী আসেন। সেই তুলনায় ওষুধ না থাকায় রোগীরা এসে ফিরে যান। কাঙ্খিত সেবা দিতে গেলে আরও ওষুধ প্রয়োজন এখানে। এফডাব্লিউএ ও এইচএ সপ্তাহে দুইদিন করে বসার নিয়ম থাকলেও তারা খুব কম সময় বসেন।

দুপুর ১২টা ২০মিনিটে কঞ্চিবাড়ী কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় ক্লিনিকটি বন্ধ। এখানে ১৫ মিনিট থাকাকালীন সময়ে সিএইচসিপির বিরুদ্ধে সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন ক্লিনিক খোলা, দুই থেকে তিন ঘণ্টা থাকা, ওষুধ না পাওয়া ও ওষুধ স্থানীয় বাজারে একটি ফার্মেসিতে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ জানালো স্থানীয় ও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। চিকিৎসা নিতে এসে ফেরত যাওয়া কঞ্চিবাড়ী গ্রামের কাঞ্চন বালা (৪৫) বলেন, তিনদিন থেকে আমার ও মেয়ের জ্বর, সর্দি ও কাশি। বাইরে থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ার টাকা আমার নেই। তাই গতকাল এই ক্লিনিকে এসে ফেরত গেছি। আজও ফেরত গেলাম। বাড়ির কাছে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকেও সেবা পেলাম না। একই অভিযোগ জানালেন একই গ্রামের কোরবান আলীও। দুপুর পৌনে দুইটায় গিয়ে নিজপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ দেখতে পাওয়া যায়।

সাঘাটা উপজেলা
সাঘাটা উপজেলার জনসংখ্যা অনুযায়ী ৪৫টি থাকার কথা থাকলেও কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ৩৯টি। এরমধ্যে সিএইচসিপি রয়েছেন ৩৯ জন। এইচএ আছেন ৪৫ জন। শুন্য রয়েছেন নয়জন। এফডাব্লিউএ আছেন ৩৫ জন, শুন্য রয়েছেন ২১ জন। জনসংখ্যা অনুযায়ী আরও ছয়টি সিসি স্থাপন করা দরকার।

গত ২ নভেম্বর বেলা ১১টায় পদুমশহর ইউনিয়নের মমিনুর রহমান কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় ক্লিনিকটি বন্ধ। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কখন যে এই ক্লিনিক খোলা হয় আবার কখন যে বন্ধ হয় তা কেউ জানে না। পদুমশহর গ্রামের কাদের মিয়া (৪০) বলেন, কৃষি কাজ করে কোনোমতে সংসার চালাই। ১০ দিন আগে জ্বর এসেছিল। এই ক্লিনিকে এসে তিনদিন ঘুরে গেছি। তারপর বাধ্য হয়ে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে খেয়েছি। ওষুধ কেনার টাকা নেই বলেই কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়েছিলাম। কিন্তু হাতের কাছে ক্লিনিক থেকেও কোনো উপকার হলো না।

এরপর দুপুর দেড়টায় ঘুড়িদহ ইউনিয়নের যাদুরতাইড় কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ দেখতে পাওয়া যায়। অথচ ক্লিনিক ৩টা পর্যন্ত খোলা রাখার নিয়ম।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ৬৩টি। সিএইচসিপি আছেন ৬০ জন আর শুন্য রয়েছেন তিনজন। এইচএ আছেন ৬৬ জন, শুন্য রয়েছেন নয়জন। এফডাব্লিউএ আছেন ৫৭ জন, শুন্য রয়েছেন ৪৩ জন। সেগুলো হচ্ছে দরবস্ত ইউনিয়নের সাতানা বালুয়া, তালুককানুপুর ইউনিয়নের ছোট নারায়ণপুর ও হরিরামপুর ইউনিয়নের রামপুরা সিসি।

এসব সিসিতে এইচএ ও এফডাব্লিউএ রোগীদের সেবা দেন। গ্রামগুলোতে কাজের চাপ বেশি হলে তারা সিসিতে বসতে পারেন না। তখন রোগীরা সেবা নিতে এসে ফেরত যান।

গত ৪ নভেম্বর বেলা ১১টায় গিয়ে নাকাই ইউনিয়নের পোগইল কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ দেখা যায়। এরপর বেলা ১১টা ২০ মিনিটে হরিরামপুর ইউনিয়নের বড়দহ কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, সিএইচসিপি দীপা রানী সরকার রোগীদের কাছ থেকে রোগের বর্ণনা শুনে ওষুধ দিলেন। ক্লিনিকটির দুই কক্ষের মধ্যে একটিতে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়, অপরটিতে কিছু আসবাবপত্র রাখা হয়েছে। এই কক্ষটির মেঝে দেবে গেছে। অ্যাটাচড বাথরুমে উইপোকা মাটি তুলেছে। কক্ষটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। বৃষ্টি হলে ক্লিনিকের ছাদ চুয়ে ভেতরে পানি ঢোকে। ভূমিকম্পে ভবনে ফাটল ধরেছে। একইদিন দুপুর পৌনে দুইটায় ফুলবাড়ী ইউনিয়নের বামনকুড়ি কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ দেখতে পাওয়া যায়।

এসব বিষয়ে গাইবান্ধা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক দেওয়ান মোর্শেদ কামাল  বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে আর একটি করে কক্ষ নির্মাণ করা দরকার। এফডাব্লিউএ গ্রামগুলোতে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে প্রতি সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন করে কাজ করবেন। এ ছাড়া এফডাব্লিউএ শুন্য পদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো আছে। জনবল চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে না।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস শাকুরকে উড়িয়া ইউনিয়নে একটি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকার কথা অবগত করা হলে তিনি  বলেন, নতুন কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের জন্য যদি কেউ জমি দান করেন তাহলে সেখানে ভবন করা হবে। এ ছাড়া ওষুধ কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প থেকে দেয়া হয়। ওষুধের পরিমাণ আরও বাড়ানোর জন্য জানানো হয়েছে। ছুটির দিন ছাড়া প্রত্যেক সিএইচসিপি নিয়ম মোতাবেক অফিস করবেন। অফিস চলাকালীন সময়ে কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ROOT

করোনার ৩ নতুন উপসর্গ হচ্ছে সর্দি, বমিভাব আর ডায়রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা (সিডিসি) করোনাভা্রাসের নতুন তিনটি উপসর্গ চিহিৃত করেছে। নতুন ৩ উপসর্গ হচ্ছে সর্দি, বমিভাব আর ...
Read More

করোনায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামানের মৃত্যু

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামান মারা গেছেন। ...
Read More

করোনা উপসর্গ নিয়ে যুবকের মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে ফিরোজ আল-মামুন (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ফিরোজ উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা গ্রামের মৃত ...
Read More

অতিরিক্ত অর্থে মিলছে অক্সিজেন

রাজশাহীতে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আর এর চাইতেও বেশি আছে করোনা উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগীর সংখ্যা। এ ধরনের ...
Read More

উপসর্গে ওসমানী মেডিকেলের অধ্যাপক ডা. গোপাল শংকরের মৃত্যু

সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. গোপাল শংকর দে করোনাভাইরাসের ...
Read More

চীনের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হতে পারে বাংলাদেশে

করোনাভাইরাস নির্মূলে চীন আবিষ্কৃত সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। ...
Read More

ক‌রোনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টার মৃত্যু

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী মারা গেছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে এভার কেয়ার ...
Read More

রাজশাহীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে দু’জনের মৃত্যু,

প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে মারা গেছেন একজন। আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে করোনার উপসর্গ নিয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল ...
Read More

করোনায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বেসরকারি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি ...
Read More
%d bloggers like this: