চট্টগ্রামে রোগী ৫৭৩

চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি চার হাসপাতালের ২২০ শয্যায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসাসেবা চলছে। গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৭৩। গত বুধবার একদিনেই চট্টগ্রামে আক্রান্ত হয় ৯৫ জন এবং মঙ্গলবার আক্রান্ত হয় ৮৫ জন।

তবে আক্রান্তদের মধ্যে কিছু রোগী চিকিৎসকদের পরামর্শে হোম আইসোলেশনে আছেন। প্রতিদিনই নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হলেও সরকারি উদ্যোগে শয্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে সবার মধ্যে এক ধরনের অজানা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। জানা যায়, চট্টগ্রামে বর্তমানে করোনা রোগীদের চিকিৎসা চলছে জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউসহ ১১০ শয্যা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে করোনা সন্দেহ রোগীর ৩০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজের (বিআইটিআইডি) ৩০ শয্যা এবং বেসরকারি উদ্যোগে প্রস্তুত হওয়া চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের ৫০ শয্যাসহ মোট ২২০ শয্যা। চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা শুরু হয় ২৫ মার্চ, প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৩ এপ্রিল। চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘জেনারেল হাসপাতালের সব শয্যায় এখন করোনা রোগীর চিকিৎসা চলছে। চমেক হাসপাতালে আপাতত ৩০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু হয়েছে। চমেক হাসপাতাল সাধারণ রোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে  বিআইটিআইডিতে নতুন করে আর শয্যা বাড়ানো যাবে না। আগামীতে প্রয়োজন হলে সিটি করপোরেশনের জেনারেল হাসপাতাল এবং কিছু প্রাইভেট হাসপাতালকে যুক্ত করা হবে।’ চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী বলেন, ‘দৃশ্যমান উপসর্গ না থাকলে রোগীকে হোম আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে। বর্তমানে চারটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। তবে চমেকে ১০০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড করার প্রস্তুতি চলছে। তাছাড়া প্রাইভেট একটি হাসপাতালকেও প্রস্তুত করা হচ্ছে।’ জানা যায়, বর্ধিত রোগীর চাপ মোকাবিলার সক্ষমতা আছে চট্টগ্রামের সরকারি তিনটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউসহ ১৫০ শয্যা, চমেক হাসপাতালে ৩০০ শয্যার, বিআইটিআইডি ১০০ শয্যা। এর জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট তিন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা। বিদ্যমান অবকাঠামো, জনবল ও সরকারি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় তিন হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব বলে জানা যায়। প্রয়োজনে ৩৯তম (বিশেষ) বিসিএস এ সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসক থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক এবং পদায়নের জন্য অপেক্ষমান প্রয়োজনীয় সংখ্যক নার্স নিয়োগ করলে এসব স্বাস্থ্যসেবা চালু করা যাবে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি বাড়বে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

ROOT

%d bloggers like this: