ঢাকায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের নামে কী চলছে — ভালো থাকুন

ঢাকায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের নামে কী চলছে

বেড়িবাঁধের পাশে টিনশেডের আধাপাকা বাড়ি। ছোট ছোট পাঁচটি কক্ষ। নেই আলো-বাতাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা, ঘরের জানালা বলতে টিনকাটা ফোকর। তার মধ্যেই রান্না ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা। চিকিত্সক নেই, নেই চিকিত্সা সরঞ্জাম, রোগীরা ঘুমায় মেঝেতে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এটি একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র। মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধসংলগ্ন ঢাকা উদ্যানে এ কেন্দ্রটির নাম ‘নিউ তরী’। এর পাশে ‘জীবনের আলো’ ও ‘ফিউচার’ নামের আরও দুটি কেন্দ্রেরও একই চিত্র।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরে এভাবে পাঁচ শতাধিক মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র চলছে। এগুলোকে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে কেউ কেউ সমাজসেবা অধিদপ্তর বা ঢাকা সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছে সনদ নিয়ে কেন্দ্র পরিচালনা করছেন। এসব কেন্দ্রে চিকিত্সাসুবিধা বলতে কিছু নেই। আছে অভিযোগ আর অভিযোগ—চিকিত্সার নামে রোগীর ওপর শারীরিক নির্যাতন, মাদকের ব্যবসা পরিচালনা ও রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো অর্থ আদায়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, ২০০৫ সালে প্রণীত হয় ‘মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা বিধিমালা’। এটি অনুসারে কেন্দ্র পরিচালনার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নেওয়ার কথা। কিন্তু এ পর্যন্ত মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নিয়েছে। নিবন্ধন নেয়নি এমন প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করেছে অধিদপ্তর।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম  বলেন, তালিকা ধরে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা কর্ণপাত করছেন না। প্রভাবশালী কেউ তাঁদের পেছনে রয়েছেন। আবার কিছু রোগী থাকার কারণে হঠাত্ করে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। তবে শিগগির নিবন্ধন নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময় বেঁধে দেওয়া হবে। নিবন্ধন না নিলে বন্ধ করে দেওয়া হবে।
অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের আরেক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীতে বেসরকারিভাবে পাঁচ শতাধিক নিরাময় কেন্দ্র থাকলেও নিবন্ধন নিয়েছে মাত্র ১০টি। অন্যরা আবেদন পর্যন্ত করেনি।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এ কে এম শহীদুল হক বলেন, এটা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা শুধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের। বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে পরিচালিত হওয়া এসব কেন্দ্র বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো সহযোগিতা চাইলে পুলিশ তা করবে।
জানা যায়, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে গুলশানের ব্যবসায়ী জাকাউল্লাকে তাঁর পরিবারের সদস্যরা মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে তিন মাস নিউ তরী নিরাময় কেন্দ্রে চিকিত্সার নামে আটকে রাখেন। গত বছরের ২ জুন জাকাউল্লার স্ত্রী ইশরাত জাহান আইনি লড়াইয়ে জিতে স্বামীকে মুক্ত করেন। ওই ব্যবসায়ীকে জোর করে আটক রাখার অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ওই নিরাময় কেন্দ্রের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ১৫ দিন বন্ধ থাকার পর অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে নিউ তরীর কার্যক্রম আবার শুরু হয়। ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, দুটি কক্ষের মেঝেতে ২৫ জন রোগীর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি কক্ষ তুলনামূলক বড় হওয়ায় দিনে সেখানে রোগীদের মানসিক চিকিত্সা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়। রাতে ওই কক্ষের মেঝেতে বিছানা পেতে রোগীরা ঘুমান বলে জানান প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। এখানে জরুরি বিদ্যুতের জন্য নিজস্ব জেনারেটর নেই। রোগীদের চিত্তবিনোদনের জন্য লুডু ও দাবা কোর্ট রাখা হলেও কেউ তা খেলেন না।
পাশের ফিউচার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার পরিবেশ ছিমছাম। তবে রোগীদের ঘুমানোর জন্য পর্যাপ্ত খাট নেই। একটি বিছানায় দুজনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। মেঝেতে শুয়ে আছেন কেউ কেউ। এখানে একটি মাত্র ক্যারম বোর্ড রয়েছে।
জীবনের আলো কেন্দ্রে ২৫ জন রোগীকে পাওয়া যায়। টিনশেডের এই বাড়িতে মেঝেতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানেও রোগীরা মেঝেতে ঘুমান। ১০ শয্যার কেন্দ্রে যেসব সুবিধা থাকার কথা, তার কিছুই নেই এখানে।
নিউ তরী মাদকাসক্ত সেবা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ হেলাল জানান, এটি ১০ শয্যার। বাড়তি রোগী থাকলেও সবাই এখানে থাকেন না। অনেকেই বাইরে থেকে এসে চিকিত্সা নিয়ে বাসায় ফিরে যান। এখন ১৫ জন রোগী আছেন। জেনারেটর না থাকলেও জরুরি বিদ্যুতের জন্য জেনারেটর লাইন ভাড়া নেওয়া আছে। নিবন্ধন নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা নিবন্ধনের জন্য প্রকল্প প্রস্তাবনা (প্রজেক্ট প্রোফাইল) জমা দিয়েছি। কর্মকর্তারা ফাইল জিম্মি করে ধান্দা করছেন।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি পর্যায়ে মাদকাসক্তি পরামর্শ কেন্দ্র, মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা বা সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য ২০০৫ সালের জুনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। এই বিধিমালার ৪ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, ওই কেন্দ্র সুরক্ষিত পাকা বাড়িসহ আবাসিক এলাকায় হতে হবে এবং এতে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের সুবিধাসহ নিরিবিলি সুন্দর পরিবেশ থাকতে হবে। খ ধারায় বলা আছে, ওই কেন্দ্রে একজন মাদকাসক্ত রোগীর জন্য গড়ে কমপক্ষে ৮০ বর্গফুট জায়গা থাকতে হবে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার জন্য সুরক্ষিত ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ ছাড়া বহুতল ভবনের তৃতীয় তলা বা তার চেয়ে ওপরের তলায় অবস্থিত হলে ওঠানামার জন্য লিফটের ব্যবস্থা থাকতে হবে। গ ধারায় বলা আছে, প্রতি ১০ বিছানার জন্য পৃথক একটি টয়লেট ও পানীয়জলের সুব্যবস্থাসহ কমপক্ষে একজন মনোচিকিত্সক (খণ্ডকালীন বা সার্বক্ষণিক), একজন চিকিত্সক, দুজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স বা বয়, একজন সুইপার বা আয়া এবং জীবনরক্ষাকারী উপকরণ ও অত্যাবশ্যক ওষুধপত্র থাকতে হবে।
এ ছাড়া প্রতি রোগীর জন্য একটি করে বিছানাসহ খাট, খাটের পাশে লকার বা টেবিল। জরুরি বিদ্যুত্ সরবরাহের জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রে তা নেই।
ঢাকা উদ্যানে ফিউচার মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের কর্মসূচি সমন্বয়কারী সৈয়দ ইসকানদার আলী জানান, বিধিমালায় লাইসেন্স পাওয়ার জন্য যেসব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তার অনেকটাই অপ্রয়োজনীয় এবং কঠিন। তাঁর মতে, মনোরোগ চিকিত্সক, একজন চিকিত্সক, দুজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স বা বয়, একজন সুইপার বা আয়া, জেনারেল ইনস্ট্রুমেন্ট সেট, রোগী বহনের ট্রলি, স্ট্রেচার, বেডপ্যান, ফ্লোমিটার ও মাস্কসহ অক্সিজেন সিলিন্ডার, সার্জিক্যাল কাঁচি, ব্লেডের কোনো প্রয়োজন নেই। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিকাংশ মালামাল অব্যবহূত থাকবে। সারা দিন একজন চিকিত্সক কাজ না করে বসে থাকার পর তিনি এখানে চাকরি করতে চাইবেন না।
এ ছাড়া লাইসেন্সের শর্তে বলা আছে, আবেদনপত্রে যে ঠিকানা উল্লেখ করা হয়, সেখানেই কেন্দ্রের কাজ পরিচালনা করতে হবে। এই শর্তটিও ঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, ঢাকা শহরের অধিকাংশ কেন্দ্র বাড়ি ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করতে হয়। ফলে বাড়িওয়ালার সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেই কেন্দ্রটি অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়।
রোগীদের অভিযোগ: সম্প্রতি একটি নিরাময় কেন্দ্র থেকে বের হয়ে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক অভিযোগ করেন, তিনি যেখানে ছিলেন, সেখানে খাবারের মান খুবই নিম্নমানের। বাইরে থেকে কোনো খাবার কিনে খাওয়ার সুযোগ না থাকায় বাধ্য হয়েই ওই খাবার খেতে হয়েছে। খাবারের মান নিয়ে কোনো কথা বলার সুযোগ নেই। কথা বললেই শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। অথচ থাকা-খাওয়ার জন্য একেকজন রোগীর পরিবারের কাছ থেকে প্রতি মাসে পাঁচ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
অপর এক ব্যক্তি জানান, তিনি যে কেন্দ্রে ছিলেন, ওই কেন্দ্রে রোগীদের চিকিত্সার জন্য কিছু মাদক ব্যবহারের অনুমতি ছিল। কর্তৃপক্ষ ওই মাদক বাইরের লোকজনের কাছে বিক্রি করে থাকে। এ ছাড়া পরিবারের কাছ থেকে যে পরিমাণ টাকা আদায় করা হয়, তার একাংশ রোগীর পেছনে ব্যয় করা হয় না।
নিবন্ধনকৃত প্রতিষ্ঠান: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলের তৈরি করা তালিকা অনুযায়ী যেসব প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নিয়েছে সেগুলো হলো—মধ্য বাড্ডার সেতু মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র, এলিফ্যান্ট রোডে সেবা মাদকাসক্তি ও মানসিক রোগ চিকিত্সা কেন্দ্র, উত্তর গোড়ানে প্রশান্তি মাদকাসক্তি চিকিত্সায় মনোবিকাশ ও পুনর্বাসন সহায়তা কেন্দ্র, মোহাম্মদপুরে ক্রিয়া মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র, মিরপুরে ফেরা মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র, উত্তরায় লাইট হাউস ক্লিনিক, নিকুঞ্জ-২-এ দিশা মাদকাসক্তি পুনর্বাসন কেন্দ্র, গুলশান-২-এ মুক্তি মানসিক অ্যান্ড মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র লিমিটেড, ফার্মগেটে হাইটেক মডার্ন সাইকিয়াট্রিক হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেড ও বারিধারা আবাসিক এলাকায় প্রত্যয় মেডিকেল ক্লিনিক লিমিটেড।
অবৈধ প্রতিষ্ঠান: মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চল রাজধানীতে পরিচালিত অবৈধ কেন্দ্রের তালিকা তৈরি করেছে। এ তালিকায় যেসব কেন্দ্রের নাম স্থান পেয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে বারাক, মনোচিকিত্সালয়, বাংলাদেশ ইয়ুথ ফাস্ট কনসার্স, মোহাম্মদী হাউজিংয়ে জীবনের ঠিকানা, ঢাকা উদ্যানে ফিউচার, জীবনের আলো, নিউ তরী, রায়ের বাজারে আশার আলো, আজিজ মহল্লায় নতুন জীবনে ফিরে আসা, উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরে রি-লাইফ, ৭ নম্বর সেক্টরে ফেরা, ৯ নম্বর সেক্টরে সেবা, ৪ নম্বর সেক্টরে গ্রিন লাইফ, ৩ নম্বর সেক্টরে দীপ জ্বেলে যাই, এলিফ্যান্ট রোডে নিউ মুক্তি ক্লিনিক, পশ্চিম যাত্রাবাড়ীতে নতুন জীবন মাদকাসক্তি ও চিকিত্সা পুনর্বাসন কেন্দ্র, হাদী মাদকতা হ্রাস কমপ্লেক্স, উত্তর যাত্রাবাড়ীতে দিশারী মাদকসক্তি চিকিত্সা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, উত্তর শাহজাহানপুরে নির্বাণ মাদকাসক্তি নিরাময় ক্লিনিক, মতিঝিলে হলি লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, বাড্ডার ছোলমাইদ পূর্ব পাড়ায় ক্লিন লাইফ, নবজন্ম, বাড্ডার এভারগ্রিন, পশ্চিম রামপুরায় সমর্পণ, রামপুরের ডিআইটি রোডে স্নেহ নীড়, খিলগাঁওয়ে আশার আলো, গ্রিন রোডে লাইফ অ্যান্ড লাইট হসপিটাল, ব্রেন অ্যান্ড লাইফ হসপিটাল, ব্রেন অ্যান্ড মাইন্ড হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেড, পশ্চিম পান্থপথে মনমিতা মানসিক হাসপাতাল, কাজীপাড়ায় রমজান ক্লিনিক, মিরপুর কাওলাপাড়ায় গোল্ডেন লাইফ, ফিউচার লাইফ, ফ্যায়িদ, নব স্বপ্ন পুনর্বাসন সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা, পল্লবীতে ঢাকা মনোরোগ ক্লিনিক, লালবাগে মধুমিতা ক্রিয়া প্রকল্প ও ইস্কাটন গার্ডেন রোডে সারডা উল্লেখযোগ্য।

ঠিক কতদিন হলো নিরাময় কেন্দ্রে এসেছেন মনে করতে পারেন না আজিজ (ছদ্মনাম)। ছোট স্যাঁতসেঁতে একটি ঘরে এক প্রকার বন্দী তিনি। ওই ঘরে দিন রাত সব সময়ই লাইট জ্বালানো থাকে, কারণ সব সময় বন্ধ থাকে ঘরের দরজা জানালা। এর আগে ইয়াবা সেবনের জন্য টানা ৬ মাস স্বেচ্ছায় সায়েদাবাদের একটি ঘরে বন্দী ছিল বাইশ বছর বয়সী এই যুবক। ওই সময় পরিবারও তার কোন খোঁজ খবর নেয়নি। পরে পরিবারের সদস্যরাই তাকে উদ্ধার করে সায়েদাবাদ থেকে মিরপুর পল্লবীর এই নিরাময় কেন্দ্রে দিয়ে গেছে। সাইনবোর্ডহীন চারতলা বাড়ির নিচতলায় তিনটি ১০ ফুট বাই ১০ ফুট ঘর। ৬টি বিছানার ব্যবস্থা থাকলেও এই কেন্দ্রের লোকেরা থাকায় আসক্তদের অধিকাংশ সময় মেঝেতে শোয়ার ব্যবস্থা হয়।

রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এমন অসংখ্য মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র। এরই একটার বর্ণনা এটি। তবে ঘরের আকার ও রোগীর সংখ্যার হেরফের হলেও ভেতরে রোগীদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের আচার আচরণ প্রায় সব ক্ষেত্রেই এক। রোগীদের মাদকাসক্ত থেকে নিরাময়ের জন্য ভর্তির সময় মিঠে মিঠে কথা বললেও তার আচরণগত পরিবর্তন আনার নামে প্রায় ক্ষেত্রেই এসব নিরাময় কেন্দ্রে রোগীর ওপর চালানো হয় নানারকম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। মাদকাসক্তদের নিরাময়ের নামে রাজধানী ঢাকায় গড়ে উঠেছে এ ধরনের শত শত টর্চার সেল। সেবার নামে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব নিরাময় কেন্দ্রে কোন চিকিৎসা নেই, সেবা নেই। আছে নির্যাতন এবং মাদক বেচাকেনার সুবিধা। রাজধানীর হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে মাদক সেবনকারীদের কিছু সেবা ও চিকিৎসা দিলেও অধিকাংশ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে কোন চিকিৎসা নেই। বরং মাসের পর মাস সেবার নামে মানুষকে আটকে রাখা হয়।

বাড্ডার নতুনবাজার এলাকা ছাড়িয়ে কিছুদূর এগিয়ে গেলেই চোখে পড়বে বেশ কয়েকটি ওষুধের দোকান। মূলত ওষুধ বিক্রি এদের কাজ হলেও মাদকাসক্তদের নিরাময়ের নামেও এরা নসিহত দেয়। আর এজন্য এসব দোকানের আশপাশে আছে বেশ কিছু দালাল। ফার্মেসিতে এমন কোন রোগীর প্রেসক্রিপশন এলেই রোগীর খোঁজখবর নিয়ে তারা ঠিকানা দিয়ে দেয় মালিবাগ ও ভাটারার কয়েকটি নিরাময় কেন্দ্রের। এসব নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি হতে আড়াই হাজার আর চিকিৎসার জন্য লাগে প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা। নিরাময় কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসকের তালিকাও বেশ লম্বা। বেশিরভাগের তালিকায় আছেন মাদকাসক্তসহ মনোরোগের ক্ষেত্রে দেশের নামী বিশেষজ্ঞরাও। এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠানের তালিকা ঘেঁটে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মোহিত কামালের নামও পাওয়া গেল। তবে এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রখ্যাত চিকিৎসক মোহিত কামাল দূরে থাক, ভর্তি হওয়ার পর তারা আদৌ কোন চিকিৎসকের দেখা পাননি। চিকিৎসা অবশ্য চলে এক পদ্ধতিতে। তা হচ্ছে নেশাসক্তরা ভর্তি হওয়ার পর উল্টাপাল্টা কিছু করলে বা দাবি করলেই তাদের ওপর শুরু হয় লাঠিপেটা।

বিষয়টা স্বীকার করেন ভাটারার এক মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের দারোয়ান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি  বলেন, ‘অনেক পরিবার থেকে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী নেশা করা ছেলেমেয়েরা আসে এখানে। এরা কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা খাবার খেতে না চাইলে কখনও কখনও ধরে মাইর দেয়া হয়। দু’একবার মাইর খাইলে আর ঝামেলা করে না।’ মারধরের বিষয়ে রোগীরা বাড়িতে বলে দেয় কিনা জানতে চাইলে রমজান বলেন, ‘বলবে না, বললে নেশার জিনিস চেয়ে পাবে না।’

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িতরা মাদক নিরাময়ের বিষয়ে অনভিজ্ঞ। এসব কেন্দ্রে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চিকিৎসার নামে চলে শারীরিক নির্যাতন। এমনকি দেদার চলে মাদকদ্রব্যের ব্যবসাও।

এমনকি গত জানুয়ারিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠিত সাব কমিটির আয়োজনে এক সভায় নিরাময় কেন্দ্রগুলোর বিষয়ে এসব অভিযোগ স্বীকারই করে নেয়া হয়েছে। যেখানে বলা হয়, দেশে ৫০ লাখ লোক মাদকাসক্ত। সরকারি উপায়ে নিরাময় সীমিত বলেই প্রায় শতাধিক অনুমোদিত নিরাময় কেন্দ্র আছে যদিও এগুলোর মান নিয়ে কোন মনিটরিং নেই। এছাড়াও হাজারের বেশি অবৈধ কেন্দ্র রয়েছে, সেখানে ভুয়া চিকিৎসকরা হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গত দশ মাসেও নেয়া হয়নি। এমনকি এসব কেন্দ্র নানা কায়দায় মাদক ব্যবসা ছড়াচ্ছে।

ভুক্তভোগির বক্তব্য ॥ রাজধানীর একটি গার্মেন্টের লাইনম্যান আব্দুর রহমান তার ভাইকে দিয়ে আসেন মিরপুর-১ এর সুখনীড় নিরাময় কেন্দ্রে। গাঁজা আর ফেনসিডিলে আসক্ত ভাইকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে ভর্তি করানোর পর দুই মাসে আরও ১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। ভর্তির সময় তাকে বলে দেয়া হয় ভাইয়ের ভাল চিকিৎসা চাইলে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত দেখা সাক্ষাত বন্ধ। এরপর দুই মাস ১১দিনের মাথায় বাড়ির সামনে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তার ভাইকে।

কী হয়েছিল জানতে চাইলে আব্দুর রহমান জানান, অল্প আয়ের পরিবারগুলোকে টার্গেট করে ৩০ জন সংগ্রহ করেছিল কিছু অসাধু ব্যক্তি। আব্দুর রহমান বলেন, ‘৩০ জনের কাছ থেকে দুই মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিলে দুই মাসে কত টাকা হয় হিসাব করেন। সেই টাকার সামান্য কিছু এই দুইমাস এদের পেছনে খরচ করেছে এরা আর নেশা দূর করা দূরে থাক উল্টো নেশাদ্রব্য খাইয়ে এদের ভুলিয়ে রেখেছে সব। এরপর সবার বাড়ির আশপাশে বা সামনে তাদের ফেলে রেখে গেছে। ওই বাড়িতে আর সেই কেন্দ্র নেই, ব্যবসা বন্ধ করে টাকা লুটে ওরা পালিয়েছে।’

রাজধানীসহ সারাদেশে এ ধরনের সাময়িক সুখনীড়ের সংখ্যা কম না। এগুলো নামেই নিরাময় কেন্দ্র। ভেতরে নিরাময়যোগ্য পরিবেশই নেই। আসক্তদের নিরাময়ের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা থাকা জরুরী বলে বলছেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বেশির ভাগ নিরাময় কেন্দ্রে এ ধরনের সুবিধা তো নেই-ই বরং কোন কোনটা নিরাময় কেন্দ্রের নামের আড়ালে হয়ে উঠেছে নিশ্চিন্তে মাদক বিক্রির আখড়া।

অবৈধ যত নিরাময় কেন্দ্র ॥ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বিধিমালা অনুসারে কেন্দ্র পরিচালনার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা মেট্রো উপ-অঞ্চলসহ সারাদেশে ১১১টি কেন্দ্র বেসরকারী নিবন্ধন নিয়েছে। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনায় চারটি সরকারী মাদকাসক্ত পরামর্শ, নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র রয়েছে।

অধিদফতর সূত্র জানায়, গত দুই বছরে মাত্র ৮০টি অবৈধ কেন্দ্রের নাম সংগ্রহ করতে পেরেছে সংশ্লিষ্টরা। অবৈধ নিরাময় কেন্দ্রের মধ্যে রাজধানীতে ৩৫টি, রাজধানীর বাইরে ঢাকা উপ-অঞ্চলে ১৩টি, দিনাজপুর উপ-অঞ্চলে দুটি, কক্সবাজার উপ-অঞ্চলে দুটি, বগুড়া উপ-অঞ্চলে চারটি, ময়মনসিংহে ৯টি, রংপুরে একটি, খুলনায় ৩টি, নোয়াখালীতে ২টি এবং রাজশাহীতে ৮টি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে বলে চিহ্নিত করেছে অধিদফতর। অন্যদিকে এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, ঢাকাসহ সারাদেশে অনুমোদনহীন এমন কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজারের বেশি। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অধিদফতরের অসাধু কর্মকর্তাদের মাসোহারার চুক্তি থাকায় ‘অবৈধ তালিকায়’ তাদের নাম যুক্ত করা হয়নি।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন অনেক অবৈধ কেন্দ্রের সন্ধান মিলেছে। যার বেশিরভাগই স্যাঁতসেঁতে অন্ধকার আধাপাকা বাড়িতে অবস্থিত। ছোট ছোট চার/পাঁচটি কক্ষ। নেই আলো-বাতাসের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। তার মধ্যেই রান্না ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা।

রাজধানীতে বড় আকারে অথচ অবৈধভাবে যেসব নিরাময় কেন্দ্র জমজমাটভাবে চলছে সেসব প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে বারাক মনোচিকিৎসালয়, বাংলাদেশ ইয়ূথ ফার্স্ট কনসার্ন, মোহাম্মদী হাউজিংয়ে জীবনের ঠিকানা, ঢাকা উদ্যানে ফিউচার, জীবনের আলো, নিউ তরী, রায়ের বাজারে আশার আলো, মোহাম্মদপুর আজিজ মহল্লায় নতুন জীবনে ফিরে আসা, খিলগাঁওয়ের সিপাহীবাগে সৃষ্টি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পরামর্শ কেন্দ্র, খিলগাঁও আইডিয়াল কলেজ সংলগ্ন রূপান্তর মাদকাসক্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, উত্তরা ১০ নন্বর সেক্টরে রি-লাইফ, ৭ নন্বর সেক্টরে ফেরা, ৯ নন্বর সেক্টরে সেবা, ৪ নম্বর সেক্টরে গ্রিন লাইফ, ৩ নম্বর সেক্টরে দীপ জ্বেলে যাই, এ্যালিফেন্ট রোডে নিউ মুক্তি ক্লিনিক, পশ্চিম যাত্রাবাড়ীতে নতুন জীবন মাদকাসক্ত ও চিকিৎসা পুনর্বাসন কেন্দ্র, উত্তর যাত্রাবাড়ীতে দিশারী মাদকাসক্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, উত্তর শাহজাহানপুরে নির্বাণ মাদকাসক্ত নিরাময় ক্লিনিক, মতিঝিলে হলি লাইফ মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র, ছোলমাইদ পূর্বপাড়ায় ক্লিন লাইফ, নবজন্ম, এভারগ্রিন, পশ্চিম রামপুরায় সমর্পণ, রামপুরার ডিআইটি রোডে স্নেহ নীড়, খিলগাঁওয়ে আশার আলো, গ্রিনরোডে লাইফ অ্যান্ড লাইট হসপিটাল, পল্লবীতে ঢাকা মনোরোগ ক্লিনিক, লালবাগে মধুমিতা ক্রিয়া প্রকল্প ও ইস্কাটন গার্ডেন রোডে সারডা উল্লেখযোগ্য।

এক দালালের বক্তব্য ॥ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়া কী করে তারা নিরাময় কেন্দ্র চালাচ্ছেন জানতে চাইলে পাইকপাড়ার (দালালচক্রের সদস্য) তসলিম উদ্দিন বলেন, আমরা চাই তাদের নিরাময় হোক। আমাদের সমাজিক দায় আছে। তবে চাইলেই তো আর রেজিস্ট্রেশন পাওয়া যায় না, তাই এসব নিজেদের মতো করে করি।

নিরাময়ে সরকারী ব্যবস্থাপনা চলে খুঁড়িয়ে ॥ মাদকাসক্ত নিরাময়ে সরকারী উদ্যোগ আয়োজন চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ঢাকার তেজগাঁওয়ে ৪০ শয্যার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসক আছেন ৬ জন। রাজশাহীর উপ-শহর ও চট্টগ্রামের পাঁচলাইশের নিরাময় কেন্দ্রে শয্যা আছে পাঁচটি করে, চিকিৎসক আছেন একজন করে। লোকবলের অভাবে বর্তমানে খুলনার নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। রাজশাহী কেন্দ্র বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। এসব কেন্দ্রে নেই অত্যাধুনিক কোন যন্ত্রপাতি, চিকিৎসার উপকরণও। এসব থেকেই মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর পরিচালিত সরকারী কেন্দ্রগুলোর মাদকাসক্ত চিকিৎসার বেহাল দশার চিত্রটি অনুমান করা যায়। ২০০৫ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘মাদকাসক্ত পুনর্বাসন প্রকল্প’ নামে নেয়া প্রশংসিত উদ্যোগটি এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ২০০৭ সালে প্রায় সোয়া ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পাঁচতলা ভবন নির্মিত হয়েছে, কেনা হয়েছে কয়েক লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র। শুধু লোকবলের অভাবে প্রকল্পটি চালু করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্রের আওতায় আড়াই শতাধিক লোকবল নিয়োগের কথা রয়েছে, কিন্তু দীর্ঘদিনেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে যা থাকতে হবে ॥ বেসরকারী মাদকাসক্ত নিরাময় ও মাদকাসক্ত পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং পরিচালনার জন্য সরকারী শর্তাবলীর মধ্যে রয়েছে- আবাসিক এলাকার পাকা বাড়ি বা ভবনে অবস্থিত, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, নিরিবিলি সুন্দর পরিবেশ হতে হবে। একজন রোগীর জন্য কমপক্ষে ৮০ বর্গফুট জায়গা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকতে হবে। অন্যদিকে প্রতি ১০ বেডের জন্য পৃথক একটি টয়লেট, বাথরুম, বিশুদ্ধ পানিসহ অন্যান্য সুব্যবস্থা এবং খ-কালীন বা সর্বক্ষণিক একজন মনোচিকিৎসক, সর্বক্ষণিক একজন ডাক্তার, দু’জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স বা বয়, একজন সুইপার বা আয়া এবং জীবন রক্ষাকারী উপকরণ ও অত্যাবশ্যক ওষুধ থাকতে হবে। এছাড়া মাদকাসক্ত ব্যক্তির রক্ত, কফ, মলমূত্র ইত্যাদি পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত যে কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে সম্পৃক্ত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংরক্ষণের সুবিধা থাকতে হবে। কেন্দ্রে একক বা দলগত পরামর্শক এবং মানসিক বিনোদনের জন্য অভ্যন্তরীণ খেলাধুলা, পত্রিকা, ম্যাগাজিন, টেলিভিশন ও কাউন্সেলিংয়ের জন্য ২০ জনের উপযোগী একটি শ্রেণীকক্ষ থাকা প্রয়োজন। তবে রাজধানীর প্রায় ৯০ শতাংশ নিরাময় কেন্দ্রই এসব নিয়মের তোয়াক্কা করছে না বলেই অভিযোগ।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে আন্দোলনে যুক্ত ফজলে হোসেন বাদশা এমপি বলেন, এই অভিযোগগুলোর সত্যতা আছে কিন্তু এদের মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হওয়াটা জরুরী। আমরা সবাই যার যার মতো করে কথা বলব আর নিয়ন্ত্রণে কোন উদ্যোগ নেব না তাহলে আজ থেকে দশবছর পরও আমাকে এই একই বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। সেটা কোন আধুনিক সমাজের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া হতে পারে না। পুলিশী অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ ব্যবসা বন্ধ না করলে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

করোনার ৩ নতুন উপসর্গ হচ্ছে সর্দি, বমিভাব আর ডায়রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা (সিডিসি) করোনাভা্রাসের নতুন তিনটি উপসর্গ চিহিৃত করেছে। নতুন ৩ উপসর্গ হচ্ছে সর্দি, বমিভাব আর ...
Read More

করোনায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামানের মৃত্যু

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামান মারা গেছেন। ...
Read More

করোনা উপসর্গ নিয়ে যুবকের মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে ফিরোজ আল-মামুন (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ফিরোজ উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা গ্রামের মৃত ...
Read More

অতিরিক্ত অর্থে মিলছে অক্সিজেন

রাজশাহীতে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আর এর চাইতেও বেশি আছে করোনা উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগীর সংখ্যা। এ ধরনের ...
Read More

উপসর্গে ওসমানী মেডিকেলের অধ্যাপক ডা. গোপাল শংকরের মৃত্যু

সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. গোপাল শংকর দে করোনাভাইরাসের ...
Read More

চীনের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হতে পারে বাংলাদেশে

করোনাভাইরাস নির্মূলে চীন আবিষ্কৃত সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। ...
Read More

ক‌রোনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টার মৃত্যু

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী মারা গেছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে এভার কেয়ার ...
Read More

রাজশাহীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে দু’জনের মৃত্যু,

প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে মারা গেছেন একজন। আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে করোনার উপসর্গ নিয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল ...
Read More

করোনায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বেসরকারি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি ...
Read More
%d bloggers like this: