বিদায় মাহে রমজান

আজ ২১ রমজান। আজ থেকে মাহে রমজানের শেষ দশকে এসে পড়েছি। এই শেষ দশক সম্পর্কে প্রিয়নবি রসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’ বলেছেন : রমজানের শেষ ভাগ দোজখের আগুন থেমে মুক্তি বার।

আসলে মানবজীবনে চাওয়া-পাওয়ার অন্ত নেই। দুনিয়াটা হচ্ছে আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। এখানে যে যেমন কাজ করবে পরকালে সে তেমন ফল পাবে। আখিরাতে বিচারের পর যারা পৃথিবীতে সত্ কাজ করেছে তারা আখিরাতে পাবে জান্নাত আর যারা এখানে পাপকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম।

মাহে রমজানে আল্লাহর নেক বান্দাগণ সিয়াম পালনের মাধ্যমে গুনাহ খাতা থেকে মুক্ত হতে পারেন অনায়াসে। এর সেহরি ইফতার তারাবির মধ্যে সেই সওয়াব লুকিয়ে থাকে। শয়তান অবিরত মানুষকে পাপ করতে উদ্বুদ্ধ করে। সায়িমের নিকট শয়তান বন্দিদশা লাভ করে। অথচ কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাত্সর্য এই ষড়িরপুর ওপর শয়তানের প্ররোচনা স্তিমিত হলেও যারা লোক দেখানো ইবাদত করে তারা কিন্তু ঐ রিপুগুলোর অধীন হয়ে পড়ে। রিপু শব্দের অর্থ শত্রু।

হাদিস শরিফে আছে রমজান মাসে অধীনস্থ কাজের লোকদের কাজের ভার কমিয়ে দেবে। এটা কিন্তু খুব কম লোকেই পালন করে। প্রিয়নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’ বলেছেন ওরা তোমাদের ভাই, তোমরা যা খাবে যা পরবে তা-ই খেতে দেবে, পরতে দেবে। অধিক মুনাফা পাওয়ার আশায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি করে সাধারণ মানুষকে কষ্টে ফেলে দেয় তাদের সিয়াম কোনো ফল বয়ে আনবে না—এটাই সত্যি।

মাহে রমজান এক মহা প্রশিক্ষণের মাস। এ মাসে সিয়াম পালনের মাধ্যমে যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ হয় তা যেন রমজান শেষে হারিয়ে না যায় সে ব্যাপারে অবশ্যই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে।

ROOT

%d bloggers like this: