বেতন পাচ্ছেন না সরকারি হাসপাতালের এক হাজারের বেশি চিকিৎসক

করোনাভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা দিয়ে চললেও বেতন পাচ্ছেন না সরকারি হাসপাতালের এক হাজারের বেশি চিকিৎসক। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় উপজেলা পর্যায়ের এ চিকিৎসকদের এক থেকে তিন মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া পড়েছে। গত ডিসেম্বরে নিয়োগ পাওয়া ৩৯তম বিসিএসের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা বেশি। তবে এ চিকিৎসকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি এ চিকিৎসকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। দু-একদিনের মধ্যেই এ অর্থ ছাড় করা হবে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। আর অর্থ পেয়ে গেলেই চিকিৎসকদের বেতন স্বাভাবিকভাবে দেয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদী স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত জানুয়ারি থেকে দেশের সব সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের বেতন হচ্ছে আইবাস++ সফটওয়্যারের মাধ্যমে। আইবাস++ হচ্ছে একটি কেন্দ্রীভূত সমন্বিত বাজেট প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতির সফটওয়্যার। এ সফটওয়্যারে প্রত্যেক চিকিৎসকের নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থাকে। নিজস্ব অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতি মাসের বেতন বিল জমা দিতে হয়।

চিকিৎসকেরা বলেছেন, দেশের অনেক উপজেলা থেকে সফটওয়্যারে বেতন বিল জমা দেয়া যাচ্ছে না। বেতন বিল জমা দিতে গেলে ‘ইনসাফিশিয়েন্ট বাজেট বা অপর্যাপ্ত বরাদ্দ’ লেখা আসছে। উপজেলার হিসাব বিভাগ বলছে, চিকিৎসকদের বেতন বাবদ বরাদ্দ না আসায় এমন সমস্যা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মীর হোসেন জাগোনিউজকে বলেন, গত এপ্রিল পর্যন্ত আমার তিন মাসের বেতন বকেয়া ছিল। অনেক চেষ্টা করে গত মাসে (এপ্রিল) বেতনের টাকা পেয়েছি।

এ খাতে বরাদ্দ না থাকায় আগামী মাসের বেতনও বকেয়া হয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিশেষত ৩৯তম বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের এক থেকে তিন মাস বেতন বকেয়া পড়েছে। এ রকম ভুক্তভোগী চিকিৎসকের সংখ্যা এক হাজারের বেশি।

৩৯তম বিসিএসের মাধ্যমে চার হাজার ১৬১ জন চিকিৎসক গত ডিসেম্বরে নিয়োগ পান। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ ১৩৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সূত্র বলছে, এই চিকিৎসক এবং পরে নিয়োগ পাওয়া আরও চিকিৎসকদের বেতন-ভাতার জন্য ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

আর অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুকূলে এ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. হাবিবুর রহমান খান জাগোনিউজকে বলেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে ১৮০ কোটি টাকা টাকা চাওয়া হয়েছে। কারণ গত ডিসেম্বর মাসে চার হাজারেরও বেশি চিকিৎসক যোগ দিয়েছেন, কিন্তু তাদের বেতন-ভাতার বাজেট প্রোপারলি চাওয়া হয়নি।’

‘এদিকে সামনে ঈদ চলে আসছে। তাই ঈদ বোনাস দিতে গিয়ে অনেকের বেতনও দেয়া যাচ্ছে না। এ বরাদ্দটা পাওয়া গেলে সবার নিয়মিত বেতন-ভাতা দেয়া সম্ভব হবে’— বলেন হাবিবুর রহমান খান।

ROOT

%d bloggers like this: