রংপুর সদর হাসপাতালে বছরে ৬০ লাখ ব্যাগ স্যালাইন উৎপাদন

206
উত্তরাঞ্চলের একমাত্র সরকারি খাবার স্যালাইন উত্পাদন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রংপুর নগরীর সদর হাসপাতাল। এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শ্রমের ফলে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬টি জেলার সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর বিনা টাকায় চাহিদা অনুযায়ী স্যালাইন সরবরাহ ও উত্পাদন করছে।

এছাড়াও দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মানুষের ডায়রিয়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথ নিউট্রিশন (আইপিএইচএন) প্রকল্পের আওতায় রংপুর সদর হাসপাতালে প্রতিবছর ৬০ লাখের বেশি (ব্যাগ) স্যালাইন উত্পাদন হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় বছরের বিশেষ বিশেষ সময়ে চাহিদা অনুযায়ী স্যালাইন সরবরাহ সম্ভব হয় না।

 

আইপিএইচএনের সুপারভাইজার আব্দুল করিম বলেন, চাহিদার তুলনায় শ্রমিক কম রয়েছে। এরপরেও স্যালাইন উত্পাদনে কোনো ঘাটতি নেই। প্রতিবছর এখানে ৬০ লাখের বেশি স্যালাইন উত্পন্ন করা হয়। ওষুধ বাজারের কোম্পানিগুলোর উত্পাদিত খাবার স্যালাইনের চেয়েও এখানকার খাবার স্যালাইনের গুণগতমান অনেক ভালো। এখানে তৈরি স্যালাইনের কাঁচামাল চীন থেকে আমদানি করা হয়। তাই এখানে উত্পাদিত স্যালাইন ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কার্যকর। তবে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিলে সাধারণত গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, বগুড়া, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহীসহ নদী বেষ্টিত জেলাগুলোতে স্যালাইনের চাহিদা স্বাভাবিকের চেয়েও দ্বিগুণ হারে বাড়ে। সে সময় স্যালাইন সরবরাহে হিমশিম খেতে হয়। বাধ্য হয়ে মজুদের ওপর ভিত্তি করে এসব স্থানে স্যালাইন সরবরাহ করা হয়। প্রকল্পটি পরিচালনার জন্য সরকারি নিয়মে যে লোকবল থাকার কথা তা পূরণ হলে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলে সংকট মুহূর্তে খাবার স্যালাইনের যে চাহিদা তা মিটিয়ে আরো বাড়তি চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

ল্যাব সহকারী এনামুল হক জানান, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের তালিকার প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করা হচ্ছে খাবার এই স্যালাইন। তবে সংকট যাতে না হয় সেজন্য আগে থেকেই স্যালাইনের মজুদ বাড়ানো হয়।

 

এ প্রসঙ্গে রংপুর সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এ প্রকল্পটির উত্পাদিত স্যালাইন রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ সেলের মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে দেখাশোনা করার দায়িত্ব রয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের। লোকবলের অভাবে উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে না। তবে সরকারিভাবে যে লোকবল থাকার কথা, তা পূরণ হলে সংকট মোকাবিলা সময় মতো চাহিদা স্যালাইন সরবরাহ করা যাবে।

 

তিনি জানান, উত্পাদিত স্যালাইন রাখার জন্য আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জনবলের চাহিদার তালিকা পাঠানো হয়েছে।