রাসায়নিক দূষণে বিপদ ভয়ানক — ভালো থাকুন

রাসায়নিক দূষণে বিপদ ভয়ানক

ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার মতো জীবাণু ছাড়াও বিভিন্ন রাসায়নিক ও ধাতব দ্রব্যের মাধ্যমেও দূষিত হচ্ছে পানি। আর্সেনিক, নাইট্রেট, কার্বামেটসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান এবং সিসাসহ বিভিন্ন ধাতব পানির মাধ্যমে সরাসরি কিংবা বিভিন্ন দানাশস্য, শাকসবজি বা ফল হয়ে নানা প্রক্রিয়ায় ঢুকছে মানুষের শরীরে। এর ফলে ক্যান্সারসহ লিভার, কিডনি ও স্নায়ুর নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। পানিতে আর্সেনিকদূষণ প্রাকৃতিকভাবে হলেও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান যুক্ত হয় শিল্প ও পৌরবর্জ্য এবং জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের ফলে। অনেক ধাতু ও রাসায়নিক উপাদানই উচ্চ তাপেও নষ্ট হয় না।

সরকারি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, অনেক ভারী রাসায়নিক আছে যা

আগুনের তাপে নষ্ট হয় না। আর পানি ফুটিয়ে সাধারণ জীবাণুমুক্ত করা গেলেও রাসায়নিকের দূষণমুক্ত করা যায় না। ফলে রাসায়নিকের দূষণযুক্ত পানি বিপদ বয়ে আনবেই।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের আওতাধীন পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের একদল বিজ্ঞানী রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় পানিতে কার্বামেট ও অর্গানো ফসফেট জাতীয় বিষের অস্তিত্ব পান। কার্বামেট ও অর্গানো ফসফেট কীটনাশক উপাদানের। পীরগাছায় ভূউপরিস্থ পানির ২৪টি নমুনা এবং পাঁচটি গভীর নলকূপের পানি পরীক্ষা করে তাতে উচ্চ মাত্রার কার্বামেট ও অর্গানো ফসফেট জাতীয় রাসায়নিক উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর মধ্যে ধানক্ষেতের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত কার্বোফুরান ও কার্বোরিলের উপাদান মেলে। অন্যদিকে খাবার পানিতে মাত্রাতিরিক্ত নাইট্রেট পাওয়ার নজির আছে।

ঢাকার কাছে ধামরাইয়ে কৃষিনির্ভর গ্রাম মালঞ্চ (ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন) ও নওগাকায়েতে (কুল্লা ইউনিয়ন) শিশুদের মধ্যে ২০০৯ সালে এক অজানা রোগ দেখা দিয়েছিল। এতে তিনটি শিশুর মৃত্যু ঘটে। ১১টি শিশুর মধ্যে স্নায়ুতন্ত্রে গোলযোগের একই ধরনের উপসর্গ বিদ্যমান ছিল। আক্রান্ত বেশির ভাগ শিশুর মধ্যেই শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়া, হাত-পা দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং অচেতন হয়ে পড়ার উপসর্গ ছিল। ওই শিশুদের বয়স ছিল ১৬ মাস থেকে আট বছরের মধ্যে। বেশির ভাগ শিশুর রক্তে ও প্রস্রাবে কীটনাশকের বিষক্রিয়া পাওয়া যায়। কারো কারো মধ্যে বিষক্রিয়ার মাত্রা সহনীয় পর্যায়ের (ইউএস এনএইচএএনইএস ৯৫) চেয়ে ৬ থেকে ২৩ গুণ পর্যন্ত বেশি দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফসলের ক্ষেতে প্রয়োগ করা বিষাক্ত কীটনাশক পানিতে মিশে গিয়ে খাবার পানির মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এ ছাড়া বিভিন্ন খাবার তৈরিতেও ওই কীটনাশক মিশ্রিত পানি ব্যবহার করার মাধ্যমে খাদ্যের সঙ্গে ওই বিষাক্ত রাসায়নিক মানুষের শরীরে ঢোকে।

ড. মুশতাক হোসেন বলেন, কীটনাশকের বিষক্রিয়া শিশুদের জন্য খুবই বিপজ্জনক। শিশুদের শরীরে এই বিষক্রিয়া দেখা দিলে তাদের শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়, মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়, খিঁচুনি দেখা দেয় এবং তারা অচেতন হয়ে পড়ে। সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা না পেলে মারা যায়। তবে বড়দের শারীরিক সহনীয় ক্ষমতা বেশি থাকায় তাদের মধ্যে এই বিষক্রিয়া ধীরে ধীরে প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, কীটনাশকের বিষক্রিয়া থেকে খাবার পানির সুরক্ষা এখন খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যবহারে আরো বেশি সচেতনতার পাশাপাশি নিরাপদ খাবার পানির ক্ষেত্রে মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে। বাজারে এখন পানি নিরাপদ করার নানা উপকরণ বেরিয়েছে। এগুলোর মধ্য থেকে মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের উপকরণ ব্যবহারে পানি থেকে কীটনাশকের বিষক্রিয়া দূর করা সম্ভব। শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষদের মধ্যেও নিরাপদ পানির উপকরণ ব্যবহার করা গেলে পানিবাহিত ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থেকে মুক্ত থাকা যায়।

মনুষ্যসৃষ্ট রাসায়নিক দূষণ ছাড়া প্রাকৃতিক উপায়েও পানিতে ঘটছে রাসায়নিক দূষণ। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ইউনিসেফের কার্যক্রমভিত্তিক তথ্য-উপাত্তের হিসাবে দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট গভীর-অগভীর নলকূপের সংখ্যা ছিল ৮৬ লাখ। এর মধ্যে ৪৭ লাখ ৫০ হাজার নলকূপের পানি পরীক্ষা করে ১৪ লাখ নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ওই সব নলকূপে লাল চিহ্ন দিয়ে এর পানি পান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বাকি ৩৩ লাখ নলকূপের পানি নিরাপদ থাকায় সেগুলোতে সবুজ চিহ্ন দিয়ে সেগুলোর পানি পানোপযোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। ওই সময় দেশের ৮৭ হাজার ৩১৯টি গ্রামের মধ্যে ৫৪ হাজার ৪১টি গ্রামে ওই কার্যক্রম চলে। এর মধ্যে দুই হাজার ৩১৬টি গ্রামের শতভাগ নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ছয় হাজার ৬২টি গ্রামের ৮০-৯৯ শতাংশ নলকূপের পানিতে আর্সেনিকের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি পাওয়া যায়। বাকি গ্রামগুলোতে ৪০ শতাংশের কম নলকূপে ওই বিষ শনাক্ত করা হয়।

ROOT

করোনার ৩ নতুন উপসর্গ হচ্ছে সর্দি, বমিভাব আর ডায়রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা (সিডিসি) করোনাভা্রাসের নতুন তিনটি উপসর্গ চিহিৃত করেছে। নতুন ৩ উপসর্গ হচ্ছে সর্দি, বমিভাব আর ...
Read More

করোনায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামানের মৃত্যু

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামান মারা গেছেন। ...
Read More

করোনা উপসর্গ নিয়ে যুবকের মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে ফিরোজ আল-মামুন (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ফিরোজ উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা গ্রামের মৃত ...
Read More

অতিরিক্ত অর্থে মিলছে অক্সিজেন

রাজশাহীতে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আর এর চাইতেও বেশি আছে করোনা উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগীর সংখ্যা। এ ধরনের ...
Read More

উপসর্গে ওসমানী মেডিকেলের অধ্যাপক ডা. গোপাল শংকরের মৃত্যু

সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. গোপাল শংকর দে করোনাভাইরাসের ...
Read More

চীনের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হতে পারে বাংলাদেশে

করোনাভাইরাস নির্মূলে চীন আবিষ্কৃত সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। ...
Read More

ক‌রোনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টার মৃত্যু

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী মারা গেছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে এভার কেয়ার ...
Read More

রাজশাহীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে দু’জনের মৃত্যু,

প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে মারা গেছেন একজন। আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে করোনার উপসর্গ নিয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল ...
Read More

করোনায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বেসরকারি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি ...
Read More
%d bloggers like this: