লুপাস অথবা এসএলই রোগ কি — ভালো থাকুন

লুপাস অথবা এসএলই রোগ কি

অত্যন্ত জটিল এই রোগটি খুব সহজে নির্ণয় করা যায় না। একটি মানুষের শরীরে যেভাবে এর লক্ষণ প্রকাশিত হয়, অন্য মানুষের শরীরে এর লক্ষণ একই ভাবে প্রকাশ পাবে না। ভিন্ন ভিন্ন মানুষের শরীরে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে এর উপসর্গ ও লক্ষণ সমূহ প্রকাশ পেয়ে থাকে। ডাক্তারদের জন্য এই রোগটি সঠিক ভাবে ডায়াগনস্টিক করা এবং চিকিৎসা দেয়া অত্যন্ত দুরূহ কাজ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায় এই রোগটি নির্ণয় করতে।

লুপাস হলো বিশ্বের অন্যতম রহস্যময় ও বিনাসী এক রোগ, যা মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি সাধন করতে পারে। লুপাসের সাধারণ উপসর্গগুলো হলো- চুল পড়া, মাথা ব্যাথা, নাক ও গালের উপর প্রজাপতির পাখার মত লাল চাকা, চরম ক্লান্তি বা অবসাদ, জ্বর, মুখে বা নাকে ঘা, গিরায় ব্যাথা বা ফোলা, অস্বাভাবিক রক্ত জমাট, রক্তশূন্যতা, বুকের বা গভীর নিশ্বাসের সময় ব্যাথা, রোদ বা আলোয় শরীরের চামড়ায় প্রভাব বা জ্বালাপোড়া, ঠান্ডায় আঙুল সাদা বা নীলাভ হয়ে যাওয়া এবং হাত, পা ও চোখের চারপাশে ফোলা ইত্যাদি।

বিশ্বে ৫০ লাখ লুপাস রোগে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। এ রোগ প্রতি এক লক্ষে ২০ থেকে ১৫০ জনের হতে পারে। শতকরা ৯০ ভাগ লুপাস রোগী কমবয়সী মহিলা। শতকরা ৬৫ ভাগ রোগীর বয়স ১৬ থেকে ৫৫ এর মধ্যে, শতকরা ২০ ভাগ ১৬ বছরে নিচে এবং শতকরা ১৫ ভাগ ৫৫ বছরের বেশি। ছেলেদের এই রোগের প্রকোপ মেয়েদের চেয়ে অনেক কম।

লুপাস অথবা এসএলই  কি?

ল্যাটিন ও ইংরেজির সংমিশ্রণে তৈরি ‘সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথিমেটোসাস’ (Systemic Lupus Erythemetosus) শব্দগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ হচ্ছে এসএলই (SLE)। ‘সিস্টেমিক’ অর্থ শরীরের প্রায় সব তন্ত্র বা সিস্টেম আক্রান্ত হওয়া, ‘লুপাস’ দিয়ে বোঝানো হয় নেকড়ের আক্রমণে তৈরি ক্ষত(রূপক অর্থে) এবং ‘ইরাইথিমেটোসাস’ অর্থ চামড়া লাল হয়ে যাওয়া। এসএলই একটি অটোইমিউন ডিজিস। এই  রোগ কিভাবে হয় তা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। ধারণা করা হয় বিভিন্ন প্রভাবকের কারণে  আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শরীরেরই বিভিন্ন প্রোটিনকে বাইরের জীবাণু হিসেবে শনাক্ত করে এবং তাদের বিরুদ্ধে ভুলবশত ধ্বংসাত্মক বিভিন্ন এন্টিবডি(Antibody) তৈরি করে। এই এন্টিবডিগুলোই পর্যায়ক্রমে শরীরের বিভিন্ন তন্ত্রের সুস্থ কোষ-কলাকে (Cells and Tissues) আক্রমণ করে এসএলই রোগের লক্ষণ ও জটিলতাগুলোর জন্ম দেয়।

লুপাস অথবা এসএলই   কাদের হয়?

সাধারণত বিশ থেকে চল্লিশ বছরের নারীদের মধ্যেই এসএলইতে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তবে যেকোন বয়স ও বর্ণের (Race) মানুষই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। নারীরা পুরুষদের তুলনায় সাধারণত নয় গুণ বেশি এসএলইতে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। অনেক সময় এই রোগের পারিবারিক ইতিহাস থাকতে পারে অর্থাৎ রোগীর এক বা একাধিক নিকটাত্মীয়ও এই অসুখে ভুগে থাকতে পারেন।

লুপাস অথবা এসএলই  লক্ষণ

  • দীর্ঘদিনের হালকা জ্বর।
  • শারীরিক অবসাদ ও হাত-পা কামড়ানো।
  • ক্ষুধামন্দা ও ওজন কমে যাওয়া।
  • নাকের উপর ও গালের দু’পাশে প্রজাপতির পাখার মত বিন্যাসে লাল ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ হওয়া, যাকে ইংরেজিতে ‘বাটারফ্লাই র‍্যাশ’ (Butterfly Rash) বলা হয়।
  • শরীরের বিভিন্ন অস্থসন্ধিতে ব্যাথা হওয়া।
  • রোদে গেলে চামড়ায় অস্বস্তি হওয়া এবং লাল ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ (Rash) হওয়া।
  • মুখের ভিতরে, জিহ্বায়, মাড়িতে বা ঠোঁটে ঘা হওয়া।
  • চুল পড়ে যাওয়া।
  • শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চাকা অনুভব করা বা লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া।
  • কাশি হওয়া এবং জোরে শ্বাস নিতে গেলে বুকে ব্যাথা অনুভব করা।
  • প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া বা রক্তলাল প্রস্রাব হওয়া।
  • বিষন্নতা
  • খিঁচুনি হওয়া।
  • হাতের আঙ্গুল ঠান্ডায় গেলে ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।
  • পেটে পানি জমে পেট বড় হয়ে যাওয়া।

উপরের লক্ষণগুলোয় যদি কেউ দীর্ঘদিন ধরে ভুগে থাকেন এবং চিকিৎসা সত্ত্বেও যদি সুস্থ না হোন, তবে তাঁর উচিৎ একজন মেডিসিন বা রিউম্যাটোলজি রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। এক্ষেত্রে রোগীর অপচিকিৎসা বা ভুল চিকিৎসার শিকার হওয়া একেবারেই কাম্য নয়।

লুপাস অথবা এসএলই  জটিলতা

এসএলই একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ। অল্পকিছু দিনের চিকিৎসায় এই রোগ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। একজন রোগী যত বেশি দিন এই রোগে ভুগবেন, তার শরীরের এই রোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতাও তত বেশি হবে। ঘন ঘন বিভিন্ন রোগ-জীবাণুতে আক্রান্ত হওয়া, বুকে পানি জমা, কিডনি সংক্রান্ত জটিলতা, হার্টের অসুখ, হঠাৎ প্রচন্ড পেটে ব্যথা, মস্তিষ্ক সংক্রান্ত জটিলতায় রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী এসএলই থেকে অনেক সময় লিম্ফোমা(Lymphoma) জাতীয় ক্যান্সারও হতে পারে। এসএলই প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় কিন্তু এসএলইর কারণে যেসব জটিলতা হয় সেগুলো অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই রোগ নির্ণয়ে ও এর চিকিৎসা শুরু যত দ্রুত করা সম্ভব ততই তা রোগীর জন্য উপকারী হবে।

একজন লুপাস অথবা এসএলই  রোগী কি মা হতে পারবেন?

অবশ্যই পারবেন। তবে রোগীকে গর্ভধারণের আগে রোগের লক্ষণ ও জটিলতাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অনেক ওষূধ গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি করতে পারে। তাই এই ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকা প্রয়োজন। গর্ভকালীন এসএলই থেকে অনেকসময় গর্ভপাত (Abortion) ও গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। গর্ভবতী হওয়ার আগে এসএলই নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অনেকসময় গর্ভকালীন প্রথম তিন মাসে অথবা সন্তান জন্ম দেয়ার পরপর এলএলইর লক্ষণ বেড়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় মা যদি এসএলইতে ভুগে থাকেন তবে তাঁর সন্তানও এই অসুখ নিয়ে জন্মাতে পারে। প্রচন্ড মাত্রার এসএলই অনেকসময় স্থায়ী বন্ধ্যাত্তেরও কারণ হতে পারে।

রোগ নির্ণয়

মূলত রক্তে কিছু সুনির্দিষ্ট এন্টিবডির অস্তিত্ত পাওয়া এবং একই সাথে রোগের লক্ষণ মিলিয়ে এসএলই নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। প্রায় সময়ই এসএলইতে যে অঙ্গ (Organ) বা অন্ত্র (System) আক্রান্ত হয়ে থাকে সেই সংক্রান্ত বিভিন্ন ল্যাবরেটরি পরীক্ষাও করা হয়।

লুপাস অথবা এসএলই চিকিৎসা

এসএলইর চিকিৎসার শুরুতেই একজন চিকিৎসকের উচিৎ রোগীকে এই রোগের ধরণ সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেয়া। একই সাথে চিকিৎসকের অবশ্য কর্তব্য রোগীকে মানসিক শক্তি যোগানো। এসএলইর রোগীদের উচিৎ সূর্যের আলো যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা অথবা সান ব্লক ক্রিম ব্যবহার করে দিনের বেলায় বাইরে যাওয়া। রোগী যদি ধূমপায়ী হয়ে থাকেন তবে তাঁকে অবশ্যই ধূমপান ছাড়তে হবে। অল্প জ্বর, হাত-পায়ের গিঁটে ব্যাথা হলে এনএসএআইডি (NSAID) জাতীয় ঔষধ খাওয়া যেতে পারে। অনেকসময় ক্লোরোকুইন, সাইক্লোফসফেমাইড, এজাথিওপ্রিন জাতীয় ঔষধও দেয়া হয়ে থাকে। তবে এসএলইর মূল চিকিৎসা হলো দীর্ঘমেয়াদী স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ সেবন। স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ সেবনের মাত্রা ধাপে ধাপে কমাতে হবে। কখনোই স্টেরয়েড হঠাৎ করে বন্ধ করা যাবেনা। হঠাৎ করে বন্ধ করলে রোগীর শারীরিক জটিলতা বেড়ে গিয়ে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে! সঠিক চিকিৎসা হলে শতকরা ৯০ ভাগ এসএলই রোগী রোগ নির্ণয়ের সময় থেকে ১০ বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারেন। তবে হার্ট, কিডনি, ফুসফুস ও মস্তিষ্ক সংক্রান্ত জটিলতা এই সময়সীমা কমিয়ে আনতে পারে।

সঠিক চিকিৎসা, রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসক ও রোগীর আত্মীয়স্বজনের ভরসা পেলে একজন এসএলই রোগী প্রায় স্বাভাবিকভাবেই জীবনযাপন করতে পারেন।

ROOT

করোনার ৩ নতুন উপসর্গ হচ্ছে সর্দি, বমিভাব আর ডায়রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা (সিডিসি) করোনাভা্রাসের নতুন তিনটি উপসর্গ চিহিৃত করেছে। নতুন ৩ উপসর্গ হচ্ছে সর্দি, বমিভাব আর ...
Read More

করোনায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামানের মৃত্যু

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামান মারা গেছেন। ...
Read More

করোনা উপসর্গ নিয়ে যুবকের মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে ফিরোজ আল-মামুন (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ফিরোজ উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা গ্রামের মৃত ...
Read More

অতিরিক্ত অর্থে মিলছে অক্সিজেন

রাজশাহীতে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আর এর চাইতেও বেশি আছে করোনা উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগীর সংখ্যা। এ ধরনের ...
Read More

উপসর্গে ওসমানী মেডিকেলের অধ্যাপক ডা. গোপাল শংকরের মৃত্যু

সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. গোপাল শংকর দে করোনাভাইরাসের ...
Read More

চীনের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হতে পারে বাংলাদেশে

করোনাভাইরাস নির্মূলে চীন আবিষ্কৃত সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। ...
Read More

ক‌রোনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টার মৃত্যু

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী মারা গেছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে এভার কেয়ার ...
Read More

রাজশাহীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে দু’জনের মৃত্যু,

প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে মারা গেছেন একজন। আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে করোনার উপসর্গ নিয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল ...
Read More

করোনায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বেসরকারি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি ...
Read More
%d bloggers like this: