সরকার কিছু ওষুধ বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ

357

বাজার থেকে বেশ কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির ওষুধ আগামী সাতদিনের মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।  গত রোববার ঔষুধ প্রশাসনের পরিচালক মো. রুহুল আমিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে তারা ঔষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাকে আগামী সাতদিনের মধ্যে প্রত্যাহারকৃত ওষুধ যেসব ফার্মাসিতে পাওয়া যাবে সেসব ফার্মেসি থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে তা সিলগালার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রত্যাহারকৃত ওষুধগুলো চায়নার জুহাই রুনডো ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড, জেজিয়াং তিয়ানতি ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে আমদানি করা হয়েছে।  এসব ওষুধ ভালসারটান কাঁচামাল দ্বারা উৎপাদিত ও বাজারজাতকৃত।

এছাড়া চায়নার জেজিয়াং তিয়ানতি ফার্মাসিউটিক্যালসের আমদানিকৃত ভালসারটান উৎপাদিত ও বাজারজাতকৃত ওষুধগুলো দি একমি ল্যাবরেটরিজ, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

বাজার থেকে যেসব ওষুধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ভালসারটান জেনেরিকের ভালটিন ৮০ মি.গ্রা, ভালটিন ১৬০ মি.গ্রা, আর অ্যামলোডিপাইন + ভালসারটান জেনেরিকের কো-ভালটিন ৫/ ৮০ মি.গ্রা, কো-ভালটিন ৫/১৬০ মি.গ্রা,

জেনেরিক নাম ভালসারটান অ্যামলোসারটান ৫/৮০ মি. গ্রা,

ভালটিন ৮০ মি.গ্রা ও ১৬০ মি.গ্রা, কো ভালটিন ৫/৮০ ও ৫/ ১৬০ ট্যাবলেট।

অ্যামলোডিপাইন + ভালসারটান জেনেরিকের অ্যামলোভাস  ভিএস ৫/৮০ ট্যাবলেট, অ্যামলোভাস  ভিএস ও ৫/ ১৬০ ট্যাবলেট, অ্যামলোভাস  ভিএস ও ১০/ ১৬০ ট্যাবলেট,

ট্যাবলেট অ্যামলোডিপাইন + ভালসারটান জেনেরিকের AV-5, AV-10,AV-5/80, TAB CARDIVAL 80

অ্যামলোডিপাইন + ভালসারটান জেনেরিকের FC VALDIPINE 80 mg, Valzide FC 160 সহ বেশ কয়েকটি ট্যাবলেট।

ভালসারটান জেনেরিকের disys Tab fc 80 mg, disys Tab FC160 mg,বেশ কয়েকটি ট্যাবলেট।  মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আগামী সাতদিনের মধ্যে উক্ত ওষুধগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সারাবিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টিকারী উচ্চরক্তচাপ ও হূদরোগীদের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ভালসারটান নিয়ে আজ রবিবার জরুরি বৈঠকে বসছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুড অ্যান্ড ড্রাগস অ্যাডমিনিস্টেশন (এফডিএ) রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, ভালসারটান ওষুধ সেবনে লিভার, ফুসফুস ও স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা  বেশি। এটি নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শুক্রবার দৈনিক ইত্তেফাকে এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ওষুধটি উত্পাদনে কোন দেশের কাঁচামাল ব্যবহার করছে, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সেই বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানানো হয়েছে।

 

জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান প্রথমে সিএনএন’র একটি প্রতিবেদনে ভালসারটানের ক্ষতিকর প্রভাব জানতে পারেন। তখন থেকে ডা. আফজালুর রহমান এ ওষুধ তৈরির র-মেটারিয়ালস এর সোর্স সম্পর্কে ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছে জানতে চান। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোন ওষুধ কোম্পানি এটি সম্পর্কে তাকে কিছুই জানায়নি। ভালসারটান ওষুধটি বাংলাদেশের বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি বিভিন্ন নামে বাজারজাত করে থাকে। নোভারটিস কোম্পানি কারো কাছে এই ওষুধের কাঁচামাল (র-রেটারিয়ালস) বিক্রি করে না। সুইজারল্যান্ডের এই কোম্পানির বাইরে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অধিকাংশ নামিদামি কোম্পানি ভালসারটান ওষুধটি তৈরি করেছে। বাংলাদেশের অনেক নামিদামি কোম্পানি ভালসারটান ওষুধটি তৈরি করে বাজারজাত করেছে। নোভারটিসের এ ওষুধের নাম ডায়োভান, কো-ডায়োভান, এক্সফোর্জ, এনট্রেসটো। ইনসেপ্টার ভালসারটিল, ভালসারটিল প্লাস, এ্যামলোসারটান, হেলথ কেয়ারের ডায়োসিস, কো ডায়োসিস, ডায়োসিস প্লাস, এরিস্টোফার্মার এ্যারোভান, ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের কার্ডিভাল-এভি, পপুলারের এ্যামলোভান-ভিএস, স্কয়ারের ক্যামোভাল, রেনেটার ভালজাইড, ওরিয়নের ভালসেট এবং জেনারেল ফার্মার আরনিজেন।