সর্দি-কাশি হলেই উদ্বিগ্ন হবেন না

56

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্ক ভর করেছে সারাবিশ্বে। সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি হলেই বুক কেঁপে উঠছে ভয়ে, আমিও কি করোনায় আক্রান্ত হলাম? না! বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সর্দি-কাশি বা গায়ে জ্বর ওঠা মানেই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নয়।

ক্রনিক পেশেন্টদের নিয়মিতই এধরনের অসুখ হয়। আছে ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার সম্ভবনাও। সেক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দিলেই আতঙ্কিত হবেন না। ফার্মেসিতে গিয়ে নিজের পছন্দমতো ওষুধপাতিও কিনবেন না। বরং পর্যাপ্ত সতর্কতা মেনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

করোনার মৌসুমে চিকিৎসকের কাছে গেলে কী ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে তা জানিয়েছেন কলকাতার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরিন্দম বিশ্বাস। চলুন জেনে নেয়া যাক-

শরীরে জ্বর থাকলে জানতে চাওয়া হবে তা কতদিন হয়েছে?
দিনে কয়বার জ্বর আসছে?
সেটা কীভাবে ও কতটুকু ওঠানামা করছে?
জ্বর কাঁপুনি দিয়ে আসছে কি না?

চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাতের শুরুতেই আপনার কাছ থেকে এসব তথ্য জেনে নেয়া হবে। যদি দেখা যায়, কাঁপুনি জ্বর দিয়ে আসছে, তাহলে ম্যালেরিয়ার সম্ভাবনা খুঁজে দেখবেন চিকিৎসকরা। যদি জ্বর ছেড়ে বা কমে গিয়ে দিন দু’য়েক পর তা আবার প্রবলভাবে ফিরে আসে, তাহলে ডেঙ্গুর সম্ভাবনা দেখা হবে।

জ্বরের সঙ্গে কি কাশি হচ্ছে?
কাশি হলে সেটা কি শুকনো কাশি?
কাশির সঙ্গে কফ উঠছে কি না?

শুকনো কাশি হলে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনার কথা ভাববেন চিকিৎসকরা। তবে, সেটি নিশ্চিত হতে আরও কয়েকটি ধাপ পার হতে হবে।

আর যদি শুকনো কাশি না হয়, কাশির সঙ্গে ঘন কফ ওঠে, তাহলে চিকিৎসক জানতে চাইবেন-
কফের রঙ কী?
সাদা, হলুদ নাকি লাল?

কফ সাদা হলেই বোঝা যাবে, রোগী ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের শিকার। তখন তাকে সেই সংক্রমণমুক্ত করতে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হবে।

কফের রঙ হলুদ বা লাল হলে চিকিৎসকদের পরবর্তী ধাপের কথা ভাবতে হবে। কফ হলুদ হলেই সেটা যথেষ্ট চিন্তার কারণ। আর রঙ লাল হলে তা রীতিমতো আশঙ্কার বিষয়।

সেক্ষেত্রে চিকিৎসক জানতে চাইবেন-
বিদেশফেরত কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে কি না?
হলে কত দিন আগে হয়েছে?
গত দু’সপ্তাহের মধ্যে বিদেশফেরত কতজনের সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন?
তাদের কতটা কাছাকাছি গিয়েছেন?

এভাবে রোগীর কাছ থেকে তার গত কয়েকদিনের জীবনযাপনের বৃত্তান্ত জেনে নেবেন চিকিৎসকরা। এরপর তাকে বুকের এক্স-রে করাতে বলতে পারেন।

বিদেশিদের সঙ্গে দেখা হলে আর এক্স-রে রিপোর্টে সন্দেহজনক কিছু পেলেই চিকিৎসক আপনাকে করোনাভাইরাস টেস্ট করাবেন। সেক্ষেত্রে মুখের লালা বা রক্ত পরীক্ষা করাতে হতে পারে।

তাই অরিন্দম বিশ্বাসের পরামর্শ, জ্বর, সর্দি, কাশি হলেই অযথা আতঙ্কিত হয়ে করোনাভাইরাস টেস্টের জন্য ছুটবেন না। বরং সুরক্ষিত ব্যবস্থায় আগে চিকিৎসকের কাছে যান।