সাইকোসিস করোনার নতুন উপসর্গ

জ্বর থেকে শুরু করে শুষ্ক কাশি- করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে এ ধরনের একাধিক উপসর্গ দেখা দেয় বলে এতদিন জানা ছিল। এবার এর সঙ্গে আরো একটি লক্ষণ যোগ হয়েছে।

নতুন একটি গবেষণায় করোনাভাইরাসের কম পরিচিত একটি লক্ষণ হিসেবে রোগীদের মধ্যে সাইকোসিস দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের অরেগেন এবং লা ট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানিয়েছেন, করোনাভাইরাস কিছু রোগীর ক্ষেত্রে সাইকোসিস বা গুরুতর মানসিক অসুস্থতা সৃষ্টি করে।

গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক ডা. এলি ব্রাউন বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ সবার জন্য অত্যন্ত মানসিক চাপের একটি ঘটনা, বিশেষ করে যাদের মনোব্যাধি রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এটি আরো উদ্বিগ্নের। আমরা জানি যে সাইকোসিসের প্রথম ধাপগুলো সাধারণত যথেষ্ট মানসিক চাপ থেকে সৃষ্টি হয়। আইসোলেশনে থাকার চাপ এবং সম্ভাব্যভাবে চ্যালেঞ্জপূর্ণ পারিবারিক পরিস্থিতি এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।’

গবেষক দলটি সার্স এবং মার্স করোনাভাইরাস সম্পর্কিত গবেষণাগুলো মূল্যয়ন করেছিলেন- এই ভাইরাসগুলো সাইকোসিসে আক্রান্ত লোককে প্রভাবিত করতে পারে কিনা তা দেখার জন্য। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, কিছু করোনাভাইরাস রোগী গুরুতর মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে।

গবেষণা প্রকল্পটির অন্যতম গবেষক প্রফেসর রিচার্ড গ্রে বলেছেন, ‘লোকেরা যখন মানসিক রোগে আক্রান্ত হয় তখন সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি বজায় রাখা চ্যালেঞ্জ হয়।’

করোনা মহামারিতে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন হতাশা এবং উদ্বেগকে ইতিমধ্যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে গবেষকরা আশা করছেন, নতুন এই গবেষণার ফলাফল গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থার বিষয়ে আরো গবেষণার সূত্রপাত করবে।

সাইকোসিস বা গুরুতর মানসিক রোগীদের বিচারবোধ, ইচ্ছাশক্তি ও কর্মক্ষমতার ব্যাপক গোলযোগ ঘটে থাকে। সাইকোসিসের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- দৃষ্টিভ্রম, ভ্রম, ক্যাটাটোনিয়া, চিন্তার বিশৃঙ্খলা। এছাড়া সামাজিক পরিমিতি বোধ হ্রাস পায়।

প্রফেসর গ্রে’র মতে, ‘এ ধরনের লোকজনের আইসোলেশন, শারীরিক দূরত্ব, হাত ধোয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে আরো বেশি সহায়তার প্রয়োজন এবং এই গ্রুপের লোকদের সহায়তার জন্য চিকিত্সকদের এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা এবং কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে।’

ROOT

%d bloggers like this: