সিলেটে করোনায় মারা যাওয়া হাজতির লাশ দাফন করলো মহানগর শ্রমিকলীগের স্বেচ্ছাসেবকরা

সিলেটের সকাল রিপোর্ট : সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া হাজতি আহমদ হোসনের (৫৩) লাশ নগরীর হযরত মানিকপীর (র.) কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

বুধবার বাদ আছর মহানগর শ্রমিক লীগের স্বেচ্ছাসেবকদের তত্বাবধানে তার লাশ দাফন করা হয়।
সিলেট মহানগর শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম রুমেন জানান, ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্তশেষে বুধবার বাদ তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা কানাইঘাটের এ হাজতির দাফন সম্পন্ন করেন। এ সময় সরকারি কোন প্রতিনিধি দাফনে উপস্থিত ছিলেন না। তবে, নিহত হোসেন আহমদের চাচাতো ভাই জয়নুল ইসলামসহ শ্রমিকলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক জানাজায় অংশ নেন।
জানাজায় ইমামতি করেন মহানগর শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি মাওলানা সালাউদ্দিন একরাম। এ সময় সিলেট মহানগর শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম রুমেন ছাড়াও মহানগর শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহŸায়ক মাসুম আহমদ তারেক ও ধ্রæব জ্যোতি, যুবলীগ নেতা খালেদ আহমদ ওসমানী, ছাত্রলীগ নেতা সাব্বির আহমদ, জহুরুল ইসলাম ফাহাদ ও প্রীতিরাজ পুরকায়স্থ উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমিক নেতা রুমেন জানান, তারা নিজেরা ওই ব্যক্তির কবর খোঁড়ার অর্থ ও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পরিশোধ করেন। জেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মাত্র তারা তিনটি পিপিই(পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপম্যান্ট) পেয়েছিলেন। বাকি পিপিই তারা নিজের অর্থে ক্রয় করেন।
সূত্র জানায়, ওই কয়েদী গত রবিবার ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ অবস্থায় হত্যা মামলার আসামী ওই হাজতির লাশ রাখা হয় ওসমানী মেডিকেল কলেজের মরচুয়ারিতে। করোনার উপসর্গ দেখা দিলে শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার শরীরের স্যাম্পুল সংগ্রহ করে। সোমবার তার করোনার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

এর আগে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো: আব্দুল জলিল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘উনারা (নিহতের স্বজনরা) একবার বলছে লাশ নেবে না, আবার বলছে লাশ নেবে।’ লাশ গ্রহণ নিয়ে নিহতের স্বজনদের দোটানায় জেল কর্তৃপক্ষও কিছুটা অস্বস্তিতে ছিলেন বলে জানান তিনি।
সিনিয়র জেল সুপার জানান, বুধবার বিকালে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে ওসমানী হাসপাতালে নিহতের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করা হয়েছে। এরপর তার লাশের ময়না তদন্ত হয়। ময়নাতদন্তশেষে লাশ স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ROOT

%d bloggers like this: