সুপার গনোরিয়া — ভালো থাকুন

সুপার গনোরিয়া

যুক্তরাজ্যে এমন এক ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে যিনি সবচেয়ে খারাপ ধরণের সুপার গনোরিয়ায় আক্রান্ত। তিনিই প্রথম যুক্তরাজ্যের ‘সুপার গনোরিয়া’ রোগী।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে তার একজন নিয়মিত সঙ্গী আছে। কিন্তু তিনি রোগটিকে আক্রান্ত হয়েছেন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় এক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পর।

এখন দেশটির জনস্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এই প্রথম বারের মতো অ্যান্টিবায়োটিকে রোগটিকে সারানো যায়নি।

স্বাস্থ্য বিভাগ এখন লোকটির অন্য একজন যৌন সঙ্গীকে খুঁজছে যাতে করে সংক্রমণ আর ছড়াতে না পারে।

জানা গেছে চলতি বছরের শুরুতেই এই রোগে আক্রান্ত হন ওই ব্যক্তি। পরে নিয়মিত চিকিৎসা হিসেবে যে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয় এ ধরনের রোগীকে সেটি দিলেও তাতে সেরে উঠেননি তিনি।

ইংল্যান্ড জনস্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক গুয়েন্ডা হুগেজ বলেন, ‘এই প্রথম বারের মতো একটি ঘটনা পাওয়া গেল যা উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্য ঔষধের বিরুদ্ধে এতো শক্তিশালী প্রতিরোধ তৈরি করতে পারে।’

এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল একমত হয়েছে যে এটাই এ ধরনের প্রথম ঘটনা বিশ্বে।

গনোরিয়া কী?

এ রোগের মূল কারণ একটি ব্যাকটেরিয়া, যার নাম নেইসেরিয়া গনোরিয়া। মূলত অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের কারণে এ রোগটি ছড়িয়ে থাকে।

আক্রান্ত হওয়ার পর নারী ও পুরুষের মধ্যে নানা ধরণের লক্ষণ দেখা যায়। যথাযথ চিকিৎসা না নিলে এ থেকে আরও বন্ধ্যাত্বসহ নানা রোগ হতে পারে।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাধারণত একটি অ্যান্টিবায়োটিকে কাজ হয়। তবে এবারের এই ব্যক্তির ক্ষেত্রে সেটি হয়নি।

এখন তাকে সর্বশেষ আরেকটি অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হচ্ছে। এটি সফল হয় কি-না সেটি আগামী মাস নাগাদ নিশ্চিত হতে পারবেন চিকিৎসকরা।

তবে এ ধরনের সুপার গনোরিয়া ছড়িয়ে পড়ে কি-না তা নিয়ে এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে চিকিৎসকদের মধ্যে।

গনোরিয়া (Gonorrhea) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রামিত একটি যৌন রোগ। নিশেরিয়া গনোরি (Neisseria gonorrhoeae) নামক জীবাণু এই রোগের জন্য দায়ী। সুরক্ষা ছাড়া যৌন সম্পর্ক বা ওরাল ও অ্যানাল সেক্সের কারণে গনোরিয়া ছড়িয়ে যেতে পারে। সাধারণত মূত্রনালি, পায়ুপথ, মুখগহ্বর এবং চোখ গনোরিয়ার জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। এই রোগ সাধারণত যৌনমিলন থেকে ছড়ায় এবং পুরুষ ও মহিলা উভয়েই আক্রান্ত হতে পারে। সময়মত এই রোগের চিকিৎসা না করালে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রেই এই রোগ আশেপাশে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং পুরুষের এপিডিডাইমিস ও মহিলার তলপেটে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। গনোরিয়া সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি এটি শরীরের অস্থিসন্ধিসমূহ ও হার্টের ভালবকেও আক্রান্ত করতে পারে।
২৫ বছরের নিচে যৌনকার্যে সক্রিয় সকল নারীদের প্রতিবছর এই রোগের পরীক্ষা করানো উচিত। সমকামী পুরুষদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

লক্ষন এবং উপসর্গ
গনোরিয়ার স্বাভাবিক উপসর্গ হল যোনী অথবা লিঙ্গ থেকে মোটা সবুজ অথবা হলুদ তরল নিঃসরন হওয়া , মূত্রত্যাগের সময় ব্যাথা এবং মহিলাদের মাসিকের সময় রক্তপাত হওয়া। তবে, ১ থেকে ১০ জন আক্রান্ত মানুষ এবং প্রায় আক্রান্তদের অর্ধেক কোন উপসর্গের অভিজ্ঞতা পায়না।

পুরুষের ক্ষেত্রে
• মূত্রনালিতে সংক্রমণ।
• মূত্রনালি হতে পুঁজের মতো বের হয়।
• প্রস্রাব করতে কষ্ট হয়, জ্বালাপোড়া করে এবং প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে৷
• হাঁটু বা অন্যান্য গিঁটে ব্যথা করে, ফুলে ওঠে
• প্রস্রাব করতে কষ্ট হয় এবং এমনকি জটিল অবস্থায় প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে৷
• পুরুষত্বহীন হয়ে যেতে পারে৷

মহিলাদের ক্ষেত্রে
• অনেকসময় মহিলাদের কোনও লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে৷
• যোনিপথ আক্রান্ত হতে পারে৷
• যোনিপথে এবং মূত্রনালিতে জ্বালা-পোড়া করে৷
• পুঁজ সদৃশ হলুদ স্রাব বের হয়৷
• তলপেটে ব্যথা হতে পারে৷
• ঋতুস্রাব সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে৷
• বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে৷

কারা আক্রান্ত হতে পারেন?
যৌনক্রিয়ায় সক্রিয় যে কেউ গনোরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন, বিশেষ করে যারা নিয়মিত পার্টনার পরিবর্তন করে থাকেন অথবা জন্মনিয়ন্ত্রনের বাধা হিসেবে সেক্সের সময় কনডম ব্যবহার করেন না। গনোরিয়ার অতীত সফল চিকিৎসা পুনরায় সংক্রামিত হওয়া থেকে আপনাকে বিরত রাখবেনা।

পরীক্ষা বা রোগ নির্ণয়
গনোরিয়াকে নির্ণয় করার জন্য, শুধুমাত্র উপসর্গের উপস্থিতি যথেষ্ট নয়। ল্যাবরেটরি পদ্ধতি দ্বারা নির্ণয়ের নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয়। পুরুষদের মধ্যে তীব্র গনোরিয়া বিশ্লেষণ সাধারণত একটি সাধারণ ধূসর ফলাফল উপর ভিত্তি করে। পুরুষদের মধ্যে ক্রনিক গনোরিয়াতে, পাশাপাশি নারীর কোনও প্রকারের রোগের ক্ষেত্রে, গবেষণার আরও সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি – PCR বা বীজ – প্রয়োজন হয়।

যদি আপনার গনোরিয়ার কোন উপসর্গ থাকে অথবা আপনি যদি চিন্তিত থাকেন আপনি STI নিতে পারেন। একই সঙ্গে যতদ্রুত সম্ভবব চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিৎ। গনোরিয়া নিঃসরনের কিছু নমুনা হাতলের সাহায্যে নিয়ে সেটা পরীক্ষা করার মাধ্যমে খুব সহজেই নির্নয় করা যায়। মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করেও মানুষের মাঝে এটা নির্নয় করা যায়।এটা যত দ্রুত সম্ভব নির্নয় করা উচিৎ কারন গনোরিয়ার চিকিৎসা যদি না করা হয় তবে তা স্বাস্থ্যে আরো সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি মহিলাদের পেলভিক ইনফ্লামেটরী ডিজিজ (PID) বা বন্ধাত্বও সৃষ্টি করতে পারে।

গনোরিয়া রোগের পাদুর্ভাব
প্রতিবছর প্রায় ৪৪৮ মিলিওন লোক যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়, এর মধ্যে প্রায় ৭৮ থেকে ৮৮ মিলিওন গনোরিয়ার রোগী। যুক্তরাজ্যে ২০০৫ সালে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রতি এক লক্ষ পুরুষদের মধ্যে ১৯৬ জন এবং ১৬-১৯ বছর বয়সী প্রতি এক লক্ষ তরুণীর মধ্যে ১৩৩ জন গনোরিয়ায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়।

অল্পবয়স্কা তরুণীদের এই রোগে আক্রান্ত হবার হার সবচেয়ে বেশি। ২০১০ সালের হিসাব অনুযায়ী ৯০০ জন গনোরিয়ার রোগী মৃত্যু বরণ করে যেখানে ১৯৯০ সালে এই সংখ্যা ছিলো ১১০০ জন। এই রোগের সুপ্তিকাল হচ্ছে ২ -১৪ দিন তবে ৪ থেকে ৬ দিনের মধ্যেই লক্ষণসমূহ প্রকাশ পেতে শুরু করে। কোনো পুরুষ একবার গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে পরবর্তীতে তার প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়

চিকিৎসা
লক্ষণ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে৷ ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে৷ নাহলে পরবর্তী সময়ে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে৷

গনোরিয়া সাধারনত একটি এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন এবং একটি এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট দিয়ে ভাল করা যেতে পারে। কার্যকরী চিকিৎসার সাথে, আপনার বেশীরভাগ উপসর্গ কিছুদিনের মাঝে উন্নতি করা উচিৎ।

সাধারনত এক বা দু সপ্তাহের একটি তত্ত্বাবধানে থেকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, তাই আপনি যদি সংক্রামনের ব্যাপারে নিশ্চিত থেকে থাকেন তবে অন্য পরীক্ষাও করানো উচিৎ।

আপনার সেক্স উপেক্ষা করা উচিৎ যতক্ষন না পর্যন্ত আপনি সবকিছু সম্পর্কে নিশ্চিত হউন।

প্রতিরোধ ব্যবস্থা
• যৌনমিলনে কনডম ব্যবহার করতে হবে৷
• মহিলাদের মাসিকের সময় পরিষ্কার কাপড় এবং প্যাড ব্যবহার করতে হবে৷
• স্বামী বা স্ত্রী একজন অসুস্থ হলে দুজনেরই চিকিৎসা করাতে হবে৷
• স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনও নারী বা পুরুষের সঙ্গে দৈহিক মিলন অনুচিত৷
• যৌনমিলনে স্বামী-স্ত্রীর বিশ্বস্ততা জরুরি৷

বিশেষ পরামর্শ
গনোরিয়ায় সংক্রমণ হওয়ার পর কোনও পুরুষ যদি তার স্ত্রী সঙ্গে সহবাস করে তবে স্ত্রীকেও চিকিৎসা করাতে হবে৷ গর্ভবতী মহিলাদের গনোরিয়া থাকলে প্রসবের আগেই চিকিৎসা করাতে হবে৷ অন্যথায় শিশুর চোখে সংক্রমণ হতে পারে এবং শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ROOT

করোনার ৩ নতুন উপসর্গ হচ্ছে সর্দি, বমিভাব আর ডায়রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা (সিডিসি) করোনাভা্রাসের নতুন তিনটি উপসর্গ চিহিৃত করেছে। নতুন ৩ উপসর্গ হচ্ছে সর্দি, বমিভাব আর ...
Read More

করোনায় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামানের মৃত্যু

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আসাদুজ্জামান মারা গেছেন। ...
Read More

করোনা উপসর্গ নিয়ে যুবকের মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে ফিরোজ আল-মামুন (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ফিরোজ উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের মাওনা গ্রামের মৃত ...
Read More

অতিরিক্ত অর্থে মিলছে অক্সিজেন

রাজশাহীতে প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আর এর চাইতেও বেশি আছে করোনা উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগীর সংখ্যা। এ ধরনের ...
Read More

উপসর্গে ওসমানী মেডিকেলের অধ্যাপক ডা. গোপাল শংকরের মৃত্যু

সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মানসিক রোগ বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. গোপাল শংকর দে করোনাভাইরাসের ...
Read More

চীনের ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হতে পারে বাংলাদেশে

করোনাভাইরাস নির্মূলে চীন আবিষ্কৃত সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের ট্রায়াল বাংলাদেশে হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। ...
Read More

ক‌রোনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টার মৃত্যু

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট উপদেষ্টা আল্লাহ মালিক কাজেমী মারা গেছেন। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে এভার কেয়ার ...
Read More

রাজশাহীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে দু’জনের মৃত্যু,

প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে মারা গেছেন একজন। আরেকজনের মৃত্যু হয়েছে করোনার উপসর্গ নিয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল ...
Read More

করোনায় মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যানের মৃত্যু

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বেসরকারি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি ...
Read More
%d bloggers like this: