প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে ক্ষতবিক্ষত বিশ্ব। প্রতিনিয়ত আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ভাইরাসটিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইতালির পরই রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 

ট্রাম্পের দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রথমবারের মতো একদিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশটির ৫০টি রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩২ হাজার ৫০২ জনে দাঁড়িয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত নিউ ইয়র্কে। রাজ্যটিতে সোমবার সকাল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ হাজার  ৯শ পেরিয়েছে। এরপরই রয়েছে ওয়াশিংটন (১৯৯৬), নিউ জার্সি (১৯১৪), ক্যালিফোর্নিয়া (১৭৯৯), ইলিনয়স (১০৪৯), মিসিগান (১০৩৫) ও ফ্লোরিডা (১০০৭)।

অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে আক্রান্ত হাজারের নিচে। সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছে পশ্চিম ভার্জিনায়। রাজ্যটিতে এখন পর্যন্ত ১২ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণের দেখা মিলেছে।

করোনার ভয়াবহতায় আক্রান্তের সঙ্গে বেড়েই চলেছে প্রাণহানির ঘটনা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা নিয়ে আজ সকাল পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৪১৫ জন।

আক্রান্তের পাশাপাশি সর্বোচ্চ প্রাণহানি হয়েছে নিউ ইয়র্কে। নতুন করে ৩৬ জনসহ মোট ১৫০ মারা গেছেন। ওয়াশিংটনে দেহ ত্যাগ করেছেন ৯৫ জন।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা সিএনএন এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহামারি করোনাকে প্রতিরোধে ও প্রাণঘাতী ভাইরাসটির বিস্তার রোধে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয়ভাবে আরও বেশি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তারা জানিয়েছেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও বেশি মানুষ প্রাণ হারাবেন।’

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো এবং নিউইয়র্ক শহরের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও উভয়েই রোববার চিকিৎসা সামগ্রীসহ অন্যান্য সেবাসমাগ্রীর অত্যাবশ্যকীয় চাহিদা পূরণে হোয়াইট হাউসকে আরও বেশি জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

মেয়র ব্লাসিও এনবিসিকে বলেন, ‘যদি প্রেসিডেন্ট সক্রিয় ভূমিকা না নেন, তাহলে যারা বাঁচতে পারতেন তারাও হয়তো মারা যাবেন। আগামী ১০ দিনের মধ্যে আমরা যদি আরও ভেন্টিলেটর না পাই তাহলে অনেক মানুষ হয়তো মারা যাবেন, যাদের হয়তো মরতে হতো না।’